Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

ঊর্মিমুখর: ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

Oplus_16908288
Dr. Sukanya Bandopadhyay

Dr. Sukanya Bandopadhyay

Medical Officer, Immuno-Hematology and Blood Bank, MCH
My Other Posts
  • June 4, 2025
  • 8:15 am
  • No Comments

রাজা রাজ্যবর্ধনের সসৈন্য পঞ্চনদ প্রদেশে যুদ্ধযাত্রার কিছুকাল পরের কথা।

দীপান্বিতা একটি সদ্যপ্রসূতি প্রতিবেশিনীর পরিবারের আহ্বানে তাহাদের গৃহে গমন করিয়াছিল। নারী মাতৃদুগ্ধের স্বল্পতায় কাতর হইয়াছিল, সদ্যোজাতও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য না পাইয়া তীব্রকণ্ঠী রোদনে গৃহ ও পল্লী কম্পিত করিতেছিল।

দীপান্বিতা উপস্থিত শিশুকে জলমিশ্রিত গোদুগ্ধ পান করাইয়া শান্ত করিল।

নূতন প্রসূতি শতাবরী, মেথিকা, জীরক এবং মৌরিকা চূর্ণ গ্রহণ করিলে মাতৃদুগ্ধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। দীপান্বিতা খল-নুড়িতে উক্ত বস্তুগুলির চূর্ণ প্রস্তুত করিয়া যথাবিহিত অনুপান এবং উপদেশাদি সহযোগে তাহা গ্রহণ করিবার অনুরোধ জানাইয়া বিদায় লইবার উপক্রম করিল।

কৃতজ্ঞ বধূ তাহাকে কিছু গোধূম, বাটী সংলগ্ন ক্ষেত্রে উৎপন্ন শাকাদি এবং সুপক্ক কদলী উপহার দিল। শিশুটি অভিজ্ঞা ধাত্রী দীপান্বিতার তত্ত্বাবধানেই ভূমিষ্ঠ হইয়াছিল। তৎকালে এই সচ্ছল পরিবার হইতে তাহার পারিশ্রমিক হিসাবে উত্তম পট্টবস্ত্র ও রাজনামাঙ্কিত মুদ্রাপ্রাপ্তি ঘটিয়াছিল।

যাইতে যাইতে দীপান্বিতা শুনিল বধূ তাহাকে উদ্দেশ করিয়া বলিতেছে — “শ্রেষ্ঠীকন্যা শকুন্তলার সহিত আমাদিগের রাজার বিবাহ পণ্ড হইয়াছে, শুনিয়াছ কি?”

সে উত্তর করিল, “না, পণ্ড হইয়াছে বলিয়া তো শুনি নাই — রাজ্যরক্ষায় রাজার যুদ্ধযাত্রার কারণে সম্ভবত স্থগিত হইয়াছে। তা ছাড়া, আমরা সাধারণ গৃহস্থ, রাজারাজড়ার সংবাদে কাজ কি ভগিনী?”বলিয়া অল্প হাসিল।

বধূও হাসিয়া উত্তর দিল, “তা বটে। আমাদের সেসব সংবাদে কাজ নাই। তবে শ্রেষ্ঠীকন্যা শুনিতেছি এই অবসরে চন্দ্রবর্মার সহিত বিবাহ সারিয়া ফেলিবে পণ করিয়াছে — বণিক ক্ষেমদত্ত ক্রোধে অগ্নিশর্মা হইয়া কন্যাকে গৃহবন্দী করিয়াছেন — তা, রাজার বাগদত্তা যদি অন্যপুরুষে প্রলুব্ধা হইয়া অনাচার করিতে চায়, পিতা হিসাবে তাঁহার ক্রোধের উদ্রেক অযৌক্তিক নহে।”

দীপান্বিতা মৃদুকণ্ঠে কহিল, “হাঁ, ঠিকই বলিতেছ। কিন্তু আমি এ সকল কথা জানিয়া কি করিব?”

গৃহস্থবধূ স্মিতমুখে কহিল, “শুনিয়াছি চন্দ্রবর্মা তোমার বাল্যসখা — উহাকে সাবধান করিয়া দেওয়া তোমার কর্তব্য। রাজরোষ অতি বিষম বস্তু।”

দীপান্বিতা নিরুত্তর রহিল। তাহার পরে একটি ক্ষুদ্র নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে প্রতিবেশী গৃহ হইতে বাহির হইয়া গেল।

বেলা পড়িয়া আসিতেছে। দীপান্বিতার আর রন্ধনে প্রবৃত্ত হইবার স্পৃহা ছিল না।

গত রাত্রে সে একটি পাত্রে কিছু চণক ভিজাইয়া রাখিয়াছিল। উপস্থিত পাকশালে প্রবেশপূর্বক মুষ্টিভর আর্দ্র চণক কয়েকখণ্ড শুষ্ক ইক্ষুরসের তক্তি সহযোগে কোনওমতে গলাধঃকরণ করিয়া দীপান্বিতা স্বীয় শয়নকক্ষে গিয়া ঢুকিল। অদ্য অকারণেই তাহার অত্যধিক ক্লান্তিবোধ হইতেছিল, কিঞ্চিৎ বিশ্রামগ্রহণ প্রয়োজন।

 

কিন্তু তাহার ভাগ্যে আজ বিশ্রাম ছিল না। অল্পকাল পরে প্রাঙ্গণান্তের মূল দ্বারে করাঘাতের শব্দ বাজিল। দীপান্বিতা অনিচ্ছায় গাত্রোত্থান করিল। তাহার পরে যথোচিত আবরণে ঊর্ধ্বাঙ্গ আবৃত করিয়া উঠান পার হইয়া দ্বারের অর্গল মোচন করিল।

দেখিল দ্বারপ্রান্তে চন্দ্রবর্মা হাস্যবিম্বিত মুখে দাঁড়াইয়া আছে।

দীপান্বিতা সরিয়া দাঁড়াইলে সে বিনা আহ্বানেই কুটিরমধ্যে প্রবেশ করিয়া দ্বিধাহীনভাবে শয্যাকক্ষ অভিমুখে চলিল।

“ওদিকে কোথায় যাইতেছ?”

সখীর কণ্ঠস্বরের কাঠিন্যে চন্দ্রবর্মা ঈষৎ বিস্মিত হইল, কিন্তু সহজভাবেই কহিল, “তোমার সহিত বহুদিন কাব্যালোচনা হয় নাই। নূতন কাব্য নিশ্চয় কিছু রচনা করিয়াছ — আমাকে শুনাইবে না?”

দীপান্বিতার এবার সত্য সত্যই ক্রোধের উদ্রেক হইল। কণ্ঠে বিপুল ভর্ৎসনা ঢালিয়া সে কহিল — “এই কি একজন সেনানীর কাব্যালোচনার কাল, চন্দ্র? রাজ্যের সীমান্ত বিপন্ন, রাজা সপার্ষদ যুদ্ধে গিয়াছেন, নগরের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উত্তেজনাময় — আর তুমি এখন কাব্যরসে সম্পৃক্ত হইবার বাসনা প্রকাশ করিতেছ?”

চন্দ্রবর্মা সখীর ঈদৃশ তিরস্কারে কিঞ্চিৎ হতবুদ্ধি হইয়া কহিবার চেষ্টা করিল, “কিন্তু সেনানায়ক তো আমাকে রণাঙ্গনে যাইবার আদেশ করেন নাই —”

দীপান্বিতা পূর্ববৎ তীক্ষ্ণস্বরে প্রশ্ন করিল, “ক্ষণিকের তরেও ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, কেন আদেশ করেন নাই? তাঁর দৃষ্টিতে কি তুমি অনুপযুক্ত প্রমাণিত হইয়াছিলে? নাকি রাজ্যের সুরক্ষার প্রশ্নে তিনি তোমার উপরে সম্যক বিশ্বাস রাখিতে অপারগ ছিলেন?”

এইবারে চন্দ্রবর্মার অপমানবোধ হইল। দীপান্বিতাকে সে ভালবাসে, কিন্তু এতবড় রূঢ় কথার পরে তাহার আত্মসম্মান আহত হইল — সে গম্ভীর ধীরস্বরে বলিল, “সকল সেনানী তো যুদ্ধে যায় না দীপান্বিতা, নগরীর শান্তিরক্ষার্থে বহু সৈন্য স্থানীশ্বরের বিভিন্ন স্থানে নিযুক্ত রহিয়াছে — আমি তাহাদের অন্যতম।”

“বেশ। তাহা হইলে কার্যব্যপদেশে আমার গৃহে আসিয়াছ কেন? কি উদ্দেশ্যে?”

দীপান্বিতার উপর্যুপরি বাক্যবাণ চন্দ্র আর সহিতে পারিল না। বিশেষত তাহার অন্তিম বাক্যটির শ্লেষ সেনানীর মর্মে গিয়া বিঁধিল। সে অধিক আত্মসংবরণ করিতে না পারিয়া স্খলিত স্বরে বলিয়া উঠিল — “তুমি জানো না কেন? আমি তোমাকে সমস্ত অন্তর দিয়া ভালবাসি, তোমাকে না দেখিয়া থাকিতে পারি না, তাই আসিয়াছি। নূতন কথা নহে, সেই বাল্যকাল হইতে আমি তোমাকেই ভালবাসিয়াছি, তোমা ভিন্ন আর কোনও রমণীর প্রতি আমার কোনওরূপ আগ্রহ বা আকর্ষণ কোনওকালেই ছিল না — ইহা কি তোমার অজ্ঞাত?”

“না, অজ্ঞাত নহে, কিন্তু এই কথাটি আমার পক্ষে নিতান্ত পীড়াদায়ক। কারণ চন্দ্রবর্মা, আমি তোমাকে ভালবাসি না, কস্মিনকালেও বাসি নাই”।

যে কথাটি বিগত কয়েক বৎসর ধরিয়া দীপান্বিতার জিহ্বাগ্রে আসিয়াও উচ্চারিত হয় নাই, অদ্য সেই বাক্য অক্লেশে বলিয়া ফেলিবার পরে তাহার হৃদয়ভার কিঞ্চিৎ লাঘব হইল।

প্রায় দুই দণ্ড অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে, চন্দ্রবর্মা দীপান্বিতার কুটিরপ্রাঙ্গণে স্থাণুবৎ উপবিষ্ট হইয়া শূন্যদৃষ্টিতে দূর দিগন্তের পানে চাহিয়া আছে, বাক্যস্ফূর্তি করে নাই।

দীপান্বিতা অদূরে পাকশালের দ্বারের সম্মুখে দাঁড়াইয়া অপেক্ষাকৃত কোমল স্বরে তাহাকে বুঝাইতেছিল, “হাঁ, আমরা আবাল্য সহচর বটে। একত্রে শৈশব, কৈশোর পার করিয়া যৌবনে আসিয়া উপনীত হইয়াছি, সত্য। মাতা ও পিতার দেহান্তের পরে তুমি আমার যথোচিত তত্ত্বাবধান করিয়াছ, সে কথাও মিথ্যা নহে। কিন্তু তোমাকে আমি কখনও ভর্তারূপে কল্পনা করি নাই। তোমার প্রতি আমার স্নেহ, ভালবাসা দুই-ই রহিয়াছে, কিন্তু তুমি আমার ভ্রাতৃপ্রতিম — তোমার উপর আমি প্রকৃতই অনেকাংশে নির্ভর করিয়া থাকি, কিন্তু তোমাকে প্রণয়িনীর দৃষ্টিতে কখনও চাক্ষুষ করি নাই, মহাদেব তাহার সাক্ষী আছেন।”

অনেকক্ষণ পরে চন্দ্রবর্মা তাহার শ্রান্ত চক্ষু দীপান্বিতার উপর ন্যস্ত করিয়া দীনভাবে জিজ্ঞাসা করিল, “ইহাই তোমার অন্তিম সিদ্ধান্ত? কোনও নড়চড় নাই?”

তাহার করুণ, পিপাসিত দৃষ্টির সম্মুখে দীপান্বিতা সংকুচিত এবং যৎপরোনাস্তি লজ্জিত বোধ করিতেছিল — চন্দ্রবর্মা তো কদাপি তাহার মনোভাব গোপন করে নাই, তবে সে কেন উত্তর করিতে বিলম্ব করিল? এযাবৎ সে কি চন্দ্রবর্মার প্রেম ও হৃদয় লইয়া নিষ্ঠুর ক্রীড়া করিতেছিল না? নিজের প্রতি দীপান্বিতার তীব্র ধিক্কার জন্মিল, চন্দ্রের ক্লিষ্ট মুখচ্ছবি তাহাকেও পীড়িত করিতেছিল, তথাপি আপন আবেগ সংযত করিয়া দীপান্বিতা উত্তর করিল — “না, আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সম্ভব নহে সখা। আমার অনুরোধ, তুমি ভবিষ্যতে আমার কুটিরে আর কখনও আসিও না। আমি শপথ করিতেছি, অসীম বিপদগ্রস্ত হইলেও কখনও তোমাকে স্মরণ করিয়া বিব্রত করিব না। আর তুমি নিশ্চিত আমার স্বভাবের সহিত পরিচিত” — দীপান্বিতার কণ্ঠস্বর কঠিন হইল — “তোমার বাল্যসখী কদাপি, কোনও প্রলোভনেই আপন প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করিবে না!”

চন্দ্রবর্মা অতি ধীরপদে উঠিয়া দাঁড়াইল। মস্তক হইতে উষ্ণীষ উন্মোচন করিয়া বিস্রস্ত দীর্ঘ কেশের ভিতর হতাশ অঙ্গুলি চালনা করিল, তাহার পর গভীর বেদনার্ত কণ্ঠে কহিল, “তোমার প্রতিজ্ঞা অচঞ্চল, তাহা অবগত আছি দীপান্বিতা। অদ্য আমিও স্থির করিলাম — গার্হস্থ্য ও ক্ষত্রিয়জীবন হইতে আশু অবসর গ্রহণ করিব। আমি প্রব্রজ্যা লইব। আমার অবশিষ্ট প্রাণশক্তি আমি যুদ্ধ করিয়া ক্ষয় করিতে চাহি না। শত শত বৎসর পূর্বে মহানির্বাণের পথে বিলীন সেই শাক্যশ্রেষ্ঠ গোতম ভগবানের উপদিষ্ট মার্গের অনুশীলনেই আমি কাল কাটাইয়া দিব, সংসারে আর আমার স্পৃহা নাই।”

তাহার শিশুসুলভ অভিমান ও ততোধিক বালকোচিত সিদ্ধান্ত শ্রবণ করিয়া দীপান্বিতার কৌতুকবোধ হইল। সে বৌদ্ধ ধর্মোপাসনার বিষয়ে কিছুই অবগত নহে, তথাপি চন্দ্রবর্মার অকস্মাৎ ধর্মপরিবর্তন এবং সন্ন্যাসগ্রহণের ইচ্ছা এবং তাহার হেতু চিন্তা করিয়া দীপান্বিতার মনে বাল্যসখার জন্য একযোগে করুণা এবং কৌতুক জন্মিল। এত ভঙ্গুর সংযম, অগভীর ধর্মবোধ লইয়া চন্দ্রবর্মা এতকাল জীবনযাপন করিতেছিল, ভাবিয়া দীপান্বিতা আশ্চর্য হইল।

তবে এই তরল পরিহাসের চিন্তা তাহার মনে অধিক কাল স্থায়ী হইতে পাইল না।

অপর এক নারীকণ্ঠের অনুচ্চ চিৎকারে উভয়ের দৃষ্টিই উন্মুক্ত দ্বারের দিকে ফিরিল। কজ্জললিপ্ত মুখমণ্ডলে অসহায় ক্রন্দনের চিহ্ন চন্দনের ন্যায় লেপিয়া রহিয়াছে, চক্ষু রক্তাভ, ধূলালাঞ্ছিত কেশরাজি উন্মুক্ত, অঙ্গের বহুমূল্য চীনাংশুক স্থানে স্থানে ছিন্ন হইয়াছে, অঞ্চল স্খলিত, পদযুগলে নূপুর নাই — ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ তরঙ্গের তুল্য পাগলিনীপ্রায় শকুন্তলা দীপান্বিতার ক্ষুদ্র কুটিরের দ্বারপ্রান্তে আসিয়া আছড়াইয়া পড়িল। শকুন্তলার অবস্থা দেখিয়া দীপান্বিতার অন্তর হইতে পূর্বেকার কৌতুকভাব সম্পূর্ণ অন্তর্হিত হইয়াছিল।

সে দ্রুত অগ্রসর হইয়া হস্তধারণপূর্বক শকুন্তলাকে তুলিতে প্রবৃত্ত হইলে সে অবজ্ঞাভরে তাহার হস্ত সরাইয়া দিল। দর্পিতা ফণিনীর ন্যায় মস্তক তুলিয়া চন্দ্রবর্মার মুখোপরি প্রণয়ব্যাকুল দৃষ্টি স্থাপন করিয়া শকুন্তলা প্রশ্ন করিল, “প্রব্রজ্যা লইবে? তুমি? কোন কারণে?”

দীপান্বিতার প্রতি চম্পকাঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া সে বলিল, “এই সামান্যা নারী তোমার প্রেম প্রত্যাখ্যান করিয়াছে বলিয়া তুমি সন্ন্যাস গ্রহণ করিবে? আর আমি? আমার হৃদয় কি এতই হেলার বস্তু? তোমার জন্য আমি রাজাকে অগ্রাহ্য করিয়াছি, পিতাকে ত্যাগ করিয়া আসিয়াছি, সমাজে আমার চরম অবমাননা হইবে জানিয়াও একবস্ত্রে শুধুমাত্র তোমার প্রেম যাচনা করিবার দুরাশায় পিতৃগৃহ হইতে পলায়ন করিয়া পদব্রজে সমগ্র নগরী তোমার সন্ধান করিয়া ফিরিতেছি — তোমার নিকট তাহার কি কোনও মূল্য নাই?”

প্রবল রোদনোচ্ছ্বাসে তাহার ব্যথিত কণ্ঠস্বর ডুবিয়া গেল।

তাহার দলিত মথিত অপরূপ মূর্তি দেখিতে দেখিতে চন্দ্রবর্মার অন্তর যেন এক নূতন আলোকে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল।

প্রেমময়ী নারী এত সুন্দর, এত অনুপম হইতে পারে, তাহার ধারণা ছিল না। তাহার চক্ষে শকুন্তলার বিস্রস্ত বসন, আলুলায়িত কুন্তল, ধূলিধূসরিত, আভরণহীন অপ্সরানিন্দিত পদযুগল এক অনন্য সৌন্দর্য লইয়া প্রতিভাত হইল। সে বিহ্বল, নির্নিমেষ নয়নে বিলাপকারিণী শকুন্তলাকে দেখিতে লাগিল — দেখিয়া দেখিয়া তাহার যেন তৃষ্ণা মিটিল না।

দীপান্বিতা কিয়দ্দূরে দাঁড়াইয়া সমগ্র ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ্য করিতেছিল। চন্দ্রবর্মার মুগ্ধ মুখচ্ছবি দেখিয়া তাহার ওষ্ঠাগ্রে তির্যক হাস্যের সঞ্চার হইল।

অলক্ষ্যে একটি স্বস্তির নিশ্বাসও পড়িল — সে মিথ্যাই দুশ্চিন্তা করিতেছিল, সুরসুন্দরী শকুন্তলার উদ্যত যুদ্ধাস্ত্র ব্যর্থ হয় নাই, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করিয়াছে।

(ক্রমশ)

PrevPreviousব্লাতেনের শিক্ষা ও হিমবাহের সংকট
Nextথ্রেট কালচার নিপাত যাক/ অভয়া বিচার পাক।Next
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

রুচিহীন, কুৎসিত, ব্যক্তি আক্রমণ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত

April 30, 2026 No Comments

না! আমি কাউকে বেইমান বলাটা সমর্থন করি না। সন্তানহারা মাকে বলাটা তো নয়ই! এটা অপ্রার্থিত, এবং আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়! তবে, রাজনীতির আখড়ায় প্রাচীনযুগ থেকেই এসব

অশ্লীল মিম নয় মৃত্যুহীনতা এই নির্বাচনের থিম

April 30, 2026 No Comments

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে বিশেষ করে ২০১১ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চায়েত – পুরসভা থেকে বিধানসভা – লোকসভা প্রতিটি নির্বাচন ঘিরে শাসক দলের প্রশ্রয়ে

ভারতে হাম: একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবু এত ঝুঁকি কেন?

April 30, 2026 No Comments

২৭ এপ্রিল ২০২৬ ফেসবুক লাইভে আলোচিত।

বিচারের আশায় সাধারণ আমি থেকে আমরা

April 29, 2026 No Comments

।।বহু ক্ষোভ বুকে জমা।।

April 29, 2026 No Comments

আমি তো চাইছি কালো মেঘে যাক দূর দিগন্ত ছেয়ে তপ্ত পৃথিবী নব রূপ পাক বর্ষায় ভিজে নেয়ে !! পথ শিশুরাও রাজপথে নেমে নিক অধিকার চেয়ে

সাম্প্রতিক পোস্ট

রুচিহীন, কুৎসিত, ব্যক্তি আক্রমণ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত

Dr. Koushik Lahiri April 30, 2026

অশ্লীল মিম নয় মৃত্যুহীনতা এই নির্বাচনের থিম

Bappaditya Roy April 30, 2026

ভারতে হাম: একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবু এত ঝুঁকি কেন?

Doctors' Dialogue April 30, 2026

বিচারের আশায় সাধারণ আমি থেকে আমরা

Abhaya Mancha April 29, 2026

।।বহু ক্ষোভ বুকে জমা।।

Shila Chakraborty April 29, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

620046
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]