“……যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই,প্রীতি নেই,
করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।……..”
কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে ‘সাতটি তারার তিমির’ কাব্যগ্রন্থে।
গত ৭৭ বছরে, পৃথিবী এইটুকুই এগিয়েছে যে এখন আর সুপরামর্শ নয়, পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে কতিপয় অতি ক্ষমতাবান আত্মভরী ব্যক্তি ও কয়েকটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী মাত্র। তাদের ক্ষমতা, স্বার্থ ও অহংকার, সেটাই সবকিছু আর দুনিয়ার বাকি মানুষের পরিচয় তাদের আশ্রিত, অনুগ্রহ প্রাপ্ত, কিছু ক্ষেত্রে হয়তোবা cheerleader এর ভূমিকায়..
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্যায়ে তাও তো দুটো ক্ষমতাবান শিবির ছিল, একটা বড় শক্তি কোনো দেশের মানুষের বিরুদ্ধাচরণ করলে অপর শক্তি অন্ততঃ কিছু না হলেও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারতো। সোভিয়েত ব্লকের পতনের পর সেটুকুও অনুপস্থিত, এখন শুধুমাত্র একচেটিয়া ক্ষমতা জাহির!! ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজস্ব নিরাপত্তা পেরিয়ে কিছু ভাবতে বা করতে একান্তই অপারগ। বর্তমান রাশিয়া তো প্রাক্তন সোভিয়েত রাশিয়ার ছায়ামাত্র, চীনের দিক থেকে কড়া বিবৃতি ছাড়া আর বিশেষ কিছু আশা করা সম্ভব নয় কারণ নিজের পরিষ্কার স্বার্থ ছাড়া চীন অন্ততঃ বিগত কয়েক দশকে অন্য কিছু করেছে বলে মনে হয় না, এমনকি ‘বিপ্লব রপ্তানি’ও বন্ধ করে দিয়েছে অনেক দিন আগে। তাছাড়া, চীন ভাবতেই পারে যে যুদ্ধ করে আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হোক, সেটা তো বাণিজ্যিক কারণে চীনেরই লাভ বৈকি! লজিস্টিক সাপোর্ট ছাড়া এখানে চীনের অন্য কোনো ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা বেশ কম।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মধ্য প্রাচ্যের। ধর্ম নিয়ে যারা সবসময় অতি চিন্তিত, তারাও এখন কি যেন বলে turn a blind eye, না, turn a deaf ear, কিংবা একসাথে দুটোই ‘দেখছেও না, শুনছেও না’ !! ঠিকই তো, কথায় বলে না ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’, আগে তো সেখানকার শাসকদের মাথা/গদি অক্ষত থাকুক তারপর তো ধর্ম!! আর একটা জিনিস অবশ্য আছে, রাষ্ট্রপুঞ্জ ; জানি না কেন এখনো আছে!?
না, এখানে কোনো বিশ্বযুদ্ধের প্রশ্নই আসে না। যা হচ্ছে, যা হবে তাও প্রায় সবই এক তরফা, আর এটাই নাকি শান্তি স্থাপনের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি!! তাহলে, তো আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার’ পেতে বিশেষ বাধা আছে বলে মনে হয় না। আর, পৃথিবীর ‘অভিভাবক’কে বাধা দেবেই বা কে?! যাক, পাকিস্তান একধাপ এগিয়ে গেছে নাম প্রস্তাবের ক্ষেত্রে, দেখা যাক ভারত কি করে? প্রেসিডেন্টের কে কত কাছের সে নিয়ে তো কড়া প্রতিযোগিতা চলছে!!
আসলে, এসব কিছুতেই আমাদের কোনো ভূমিকাই নেই। আমরা কী ভাবলাম, কতটা আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায় থাকছি, তাতে কার কি আসে যায়!! হয়তো এইটুকুই আমাদের সৌভাগ্য আমাদের জন্ম হয়নি গাজা, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইউক্রেন বা ইরানের মতো দেশে !! সৌভাগ্য বলছি এই কারণে যে কোনো কিছুই আর আমাদের হাতে নেই, সমস্তটাই নির্ভর করছে কয়েক জন ‘মাসলম্যান’দের হাতে। আজ না হলেও আগামী দিনে যে আমাদের দেশেও ঐ দেশগুলির মতো, অন্ততঃ কাছের মায়ানমার বা বাঙলাদেশের অবস্থা তৈরি হবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়?!
জানিনা, পৃথিবীর সমগ্র ইতিহাসে পুরো মানবসমাজ বা mankind এতটা অসহায় অবস্থায় আগে কখনো পড়েছে কিনা, মনে হয় না! তো কি করা যাবে, কীই বা করতে পারি আমরা…..
মনে হচ্ছে,
“আলো-অন্ধকারে যাই–মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে ;
স্বপ্ন নয়–শান্তি নয়–ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয় ; …………”
আর সেই বোধটাই হলো চূড়ান্ত অসহায় বিপন্নতা…….










