ইসলামিক অভ্যুত্থানের পরবর্তী ইরানে নারীরা অবদমিত, সেকথা অনস্বীকার্য। আপাতত ১০৮ জন স্কুল পড়ুয়া বালিকা আর ২২ জন ভলিবল খেলোয়াড় যুবতীকে একদিনে হত্যা করে ট্রাম্পবাবু ইরানে নারীমুক্তির সূচনা করলেন।
রইল বাকি পারমাণবিক বোমা। ১৯৯০-এর দশক থেকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলে চলেছেন, আর মাস ছয়েকের মধ্যেই ইরান পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলবে। ২০২৬-এও তাই বলছেন। সম্ভবত তিনি “ভদ্রলোকের এক কথা” নীতিতে বিশ্বাস করেন অথবা ইরানিদের বিজ্ঞানচর্চাকে অতিরিক্ত শ্রদ্ধা করেন। সে যাই হোক, এই ‘consistency’-র কথা মাথায় রেখে আন্দাজ করছি, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও খামেনেইকে মারার জন্য ইরানে আরও আক্রমণ চলবে। জুজুর মতো ভালো জন্তু আর নেই।
বস্তুত খামেনেইও জানতেন যে জীবিত অবস্থায় তিনি পসচারিং ছাড়া বিরাট কিছু করতে পারবেন না মার্কিন শক্তির বিরুদ্ধে, কিন্তু ‘শহীদ’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারলে তাঁর রাজনৈতিক ভূত অনেকের মাথাব্যথার কারণ হবে দীর্ঘদিনের জন্য। যে ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় কিছু সমঝোতা করলে বহু সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারত, তাঁকে দুম করে হত্যা করে কী লাভ হল, তা বোঝা আমাদের পক্ষে কঠিন।
এদিকে খামেনেই শিয়া ছিলেন বলে মধ্যপ্রাচ্যের বহু সুন্নি আমীর গোপনে তাথৈ নেচে নিয়েছেন পাঁচ মিনিট। এই কনফ্লিক্টও শেষ হবার নয়।
ওদিকে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে এন্তার মিসাইল দাগতে শুরু করেছে। অন্তত আবুধাবিতে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসবের ফলেও কী লাভ হচ্ছে, বোঝা সহজ নয়।
আদতে যুদ্ধের ফলে অস্ত্রব্যবসায়ী, ফিন্যান্স ক্যাপিটালিস্ট, কিছু কালোবাজারী আর বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের সময়ে সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত কিছু ব্যবসায়ী ছাড়া আর কারই বা লাভ হয়? এই লাভবান গোষ্ঠীরা বুদ্ধিমান এবং ক্ষমতাশালী বলে যুদ্ধ হতে থাকে এবং ডান-বাম বিভিন্ন শিবিরের কিছু বুদ্ধিজীবী যুযুৎসা চাগিয়ে তোলার ইন্টালেকচুয়াল কাজটি করে চলেন এঁদের হয়ে। এঁদের কাউকে কাউকে দূর থেকে দেখে বিরাট বিপ্লবীও মনে হয়। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগলে আর কেউ লাভের গুড় বাড়ি অব্দি নিয়ে যেতে পারবে না। এখনই ইরানকে কেন্দ্র করে হয়ত লাগবে না, কিন্তু বারুদের স্তুপের ওপর বসে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিরন্তর চালিয়ে যাওয়া কোনো কাজের কথা নয়।











