ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন সাউথ কলকাতা ল’ কলেজে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনার কথা—একটি ঘটনা, যার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। কিন্তু এই ঘটনা প্রথম নয়, যেকোন প্রতিষ্ঠানে একচ্ছত্র ক্ষমতার দম্ভ কিরকম কদর্য আকার ধারণ করতে পারে আর জি কর কলেজের নারকীয় ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল।
চলমান ‘অভয়া আন্দোলনে’ আমরা সকলে এক কণ্ঠে বলেছিলাম: “প্রীতিলতার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নেই।”
সেই সুরেই WBJDF স্পষ্ট করে বলেছিল—এই বাংলা ধর্ষকদের বাংলা হতে পারে না। এটা আমাদের আন্দোলনের অন্যতম দাবী ছিল, কলেজ-ক্যাম্পাস সহ সমাজের সর্বস্তরে মহিলাদের সম্পূর্ণ সম্মান ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার। ঠিক এই কারণেই আমরা বলেছিলাম আমরা দ্বিতীয় অভয়া হতে দিতে পারি না।
আজ WBJDF এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং নির্যাতিতার পাশে সর্বতোভাবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—আইনি সহায়তা থেকে মানসিক সহমর্মিতা, সব জায়গায় আমরা নির্যাতিতার পাশে আছি।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে—গ্রেপ্তার মানেই ন্যায়বিচার নয়, গ্রেপ্তার মানেই শাস্তি নয়। বিশেষ করে যখন শাসকদলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতে অপরাধ সংগঠিত হয়, তখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।
সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ওই কলেজের প্রাক্তনী এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি। যেভাবে আর জি কর-এ তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতাদের ও ছাত্র-ছাত্রীদের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ঘটনার পরবর্তীতে নানারকম ভাবে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে যার ফলে অভয়ার বাবা মা ও আমরা, নাগরিক সমাজ প্রায় একবছর পর আজও ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছি, ঠিক একই ঘটনাপ্রবাহ এই জঘন্য গণধর্ষণের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।
এক সপ্তাহও হয়নি কালিগঞ্জে শাসকদলের বোমাবাজিতে একরত্তি তামান্না প্রাণ হারিয়েছে।
তার মধ্যেই আবার খোদ কলকাতার বুকে এই ধর্ষণের ঘটনা! এই শাসকের লজ্জা রাখার জায়গা আছে কি?
এটা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারাদেশ জুড়ে ক্যাম্পাসগুলিতে ছাত্রীদের প্রতি যে হুমকি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে—কখনো দুর্নীতির নামে, কখনো থ্রেট কালচারের নামে—তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। এই ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও সামাজিক কাঠামোগত অসাম্যগুলো আমাদের সামনে আসাও জরুরি।
এই ঘটনার ভয়াবহতা শুধু অপরাধের নিষ্ঠুরতায় নয়, এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও নিহিত। যখন কোনো ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের মতপ্রকাশের অধিকার দমন করা হয়, যখন সাংগঠনিক দাদাগিরি এবং শাসকদলের ছত্রছায়ায় ধর্ষণের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়, তখন তা শুধুই একটি আইনি লড়াই থাকে না—তা হয়ে ওঠে সমাজের বিবেকের প্রশ্ন। এই ঘটনার বিচার মানে শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, মানে একটি ভঙ্গুর ব্যবস্থার মুখোশ উন্মোচন।
আমরা জোরালোভাবে দাবি করছি—এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। কোনো রাজনৈতিক চাপে তা প্রভাবিত হতে দেওয়া চলবে না।
আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি—তীব্র গণআন্দোলনই একমাত্র পথ, যা ন্যায়বিচার আদায় করতে পারে।
আর জি কর আন্দোলন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—প্রশাসন, কলকাতা পুলিশ, সিবিআই, এমনকি বিচারব্যবস্থাও কতটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, যখন মানুষের চাপ না থাকে।
WBJDF দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
আসুন, আমরা সকলে একজোট হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের পথে এগিয়ে চলি।










