২৯ শে মে, ২০২৬
আমার এক অনুজ চিকিৎসক বন্ধু প্রায়ই পরিহাস ছলে বলে ‘শুনে চোখে জল চলে এলো’। পরিহাস করছি না, সত্যি সত্যিই আমার চোখে শুধু জল নয়, অশ্রুবন্যার উপক্রম একের পর এক ঘ্যামা ঘ্যামা তৃণমূল নেতৃত্বের আবেগঘন ‘মন কি বাত’এ। কি innocent গোপাল গোপাল (গোপালের স্ত্রী লিঙ্গ কী হবে জানা নেই) মুখ করে একেক জন যেভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রায় মরণপণ সংগ্রামের উপাখ্যান বলে যাচ্ছিলেন তাতে হাসবো না কাঁদবো ভেবে না পেয়েও রীতিমতো নাকের জলে চোখের জলে অবস্থা। কেউ কিচ্ছুটি জানতো না, এতো চুরি হয়েছে! সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কোনো একটা গল্পে (নাম ভুলে গেছি) ছিল, এক বালকের হাতে টাকা দিয়ে বলছে, ‘গোপাল, মিষ্টি কিনে খেও’। সত্যিই এদের বেচারি মুখ দেখে মনে হয় অনলাইনে মিষ্টি কিনে পাঠাই!!
কী অভিনয়, মুখের কী অভিব্যক্তি, স্রেফ ভাবা যায় না, almost mindblowing..!!
এদের বাদ দিয়ে চলছিল বলেই বোধহয় আজ টলিউডের এই অবস্থা!!
আমাদের এক চিকিৎসক নেতা যিনি আবার চিকিৎসা ছেড়ে অঙ্কশাস্ত্রতে অনেক বেশি মনেযোগী হয়েছিলেন, দু দুটো ওয়ার্ডের সমস্ত স্কোয়ার হিসাবের পুঙ্খানুপুঙ্খ সঠিক মান নির্ণয়ে। না না, এসব a+b+…… whole square নয়, এ একেবারে স্কোয়ার ফুট নাকি স্কোয়ার ইঞ্চ্ দিয়ে acturial scieceএর analysis, বাজারদর, সেনসেক্স ওঠানামা ও রাজ্যনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে যা ওতপ্রত বা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। অবশ্য প্রতিবাদী ভূমিকায় থাকাকালীন সেই accountancy কতটা মার খেয়েছে সেটা সঠিকভাবে জানা নেই।
ক্ষমতায় থাকাকালীন যে কতটা রূঢ় হওয়া সম্ভব, তার বেশ কয়েকটা ঘটনার প্রত্যক্ষ/সরাসরি অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। যাক, এখন আর সেসব বলে লাভ কী, whistleblower-এর প্রাপ্য immuni-y তো দিতেই হবে। ঠিক কিনা?!
এদিকে খুব শোরগোল চলছে কোমরে দড়ি বেঁধে কতিপয় তোলাবাজ/মাস্তানকে ঘোরানো নিয়ে। এদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা কিংবা পুলিশই এদের সম্ভাব্য জনরোষ থেকে বাঁচাচ্ছে কিনা, এই নিয়ে আমার কোনো মাখাব্যাথা নেই। এর জন্য বিভিন্ন সংগঠন আছে, তারা সুচিন্তিত মতামত দিক। আমার প্রশ্নটা অন্যত্র।
আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই জানিয়েছিলেন, ‘এরপর থেকে শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন চলবে’। পুলিশকেও তিনি বলেছেন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা(BNS)’ অনুযায়ী চলতে, অর্থাৎ দেশের আইন অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে। অত্যন্ত ভালো কথা নিঃসন্দেহে।
নতুন সরকার এসেছে তিন সপ্তাহ হয়ে গেল’, মাথা ন্যাড়া করে বা না করে আন্ডারওয়্যার পরিয়ে দুর্বৃত্তদের পাড়া ঘোরানো শুরু হয়েছে, বিতর্কও হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বীরভূমের সেই মহাবীর যিনি মধ্যরাত্রে পুলিশ আধিকারিকের মা (সম্ভবত প্রয়াত) ও স্ত্রীকে নিয়ে কুৎসিততম হাসিঠাট্টা নির্বিবাদে নিরুপদ্রবে করে গেলেন এবং সম্ভবতঃ রাজ্যের DG-কেও সংযুক্ত করে গেলেন (মানবাধিকার রক্ষার খাতিরেই আপনি বলতে হচ্ছে!), তার কী হলো? আগের জমানায় কি সেই case closed হয়ে গেছে? যদি হয়েও থাকে, তাহলে তা আবার খোলা হবে কি হবে না? কোনো রোড-শো এর প্রয়োজন নেই, অন্ততঃ থানায় তো তুলে আনুক। আর সেটাও যদি পুলিশ না পারে, তাহলে ছেড়ে দিন। নিজেদের ও পরিবারের ন্যূনতম সম্মান রক্ষা কী করে করতে হয় সেটাও কি ন্যায় সংহিতায় খুঁজে দেখতে হবে?? জানি না……
তবে, বাজারে গুজব বিগত নির্বাচনে মগজে অক্সিজেন কমওয়ালার ভূমিকা ছিল বেশ ‘সাসপিশিয়াস’! কে জানে সে হয়তো অনেক আগেই whistle বাজানো শুরু করে দিয়েছে। তাহলে তো আবার তাকে protection দিতেই হবে !!!!!
দেখা যাক, শেষমেশ হয়তো একটা whistleblower army ই তৈরি হয়ে যাবে। চেন্নাই সুপার কিংস এর Whistle Podu Army, প্লীজ আগেভাগে জানিয়ে দিন এই নিকৃষ্টতম লোকগুলোর সঙ্গে আপনাদের কোনোরকম দূরতম সম্পর্কও নেই………










