দেখুন, আন্দোলন ফান্দোলন যাই করুন না কেন, অথবা… দু-দশটাকে ফাটকে ঢুকিয়ে দিয়ে তৃপ্ত আর মারাত্মক গর্বিত অনুভব করতে শুরু করুন না কেন, যা সর্বনাশ হওয়ার তা হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই। অলরেডি।
যারা পাশ করেছে ডাক্তারিতে এই বিগত কয়েক বছরে দুর্নীতি করে, তারাই আজ থেকে দশ বছর পরে সম্মুখ সারিতে থাকবে। থাকবেই। হাসপাতালে। প্রাইভেট নার্সিংহোমে। সুপার স্পেশালিটিতে। সর্বত্র।
আর আপনি/আমি ঐ তাদের কাছেই নিজেকে সঁপে দিতে বাধ্য হবো।
‘ওঁরা’ হবেন না যদিও। ওঁরা অর্থাৎ মাননীয়া/মাননীয়রা। যাঁরা এই দলদাসদের ‘ডাক্তার’ করেছেন। করে তুলেছেন। স্রেফ গদি আঁকড়ে থাকবেন বলে।
অর্থাৎ, কতকটা যেন –রামদেব বাবা। করোনিল, করোনা সরিয়ে দেয় যার কোম্পানির ওষুধ। যে ভণ্ড, প্রতি মুহূর্তে জনগণেশকে বক্কা মারে, মেরেই চলে– এলোপ্যাথি খুব খারাপ। আয়ুর্বেদ করুন। আর জনগান্ডু সকাল বিকেল বিচিত্র ভঙ্গিতে আসন, আচরণ, সেবন করে যায় –সাইড ইফেক্ট বিহীন প্রতিকারের।
অথচ, কী বিচিত্র, সেই বাবাজি ব্যাটাই কোভিডে আক্রান্ত হয় যখন তখন সপাট সমর্পণ করে, এলোপ্যাথিতেই।
আর সেই একই নিয়ম মেনে বাবাজিদের বাড়বাড়ন্ত করে ভোট কুড়ানো মাননীয়া/ মাননীয় যাঁরা, সেই তাঁরাই যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন কখনো, সমর্পণ করেন চোখ কান বুজে স্রেফ– বদলি হয়ে যাওয়া , থ্রেট খাওয়া ডাক্তারদের সম্মুখেই।
কারণ, ‘ওঁরা’ বিলক্ষণ জানেন, যাঁদের বদলি করেছিলাম আমি ক্ষমতার দম্ভে, আজ আমার সঠিক রোগ সেই তাঁরাই ধরতে পারবে।
জনগণ, মরুক নাহয়। নৈরাজ্যে।
********
আর যদি ভেবে থাকেন এ দুর্নীতি স্রেফ ডাক্তারিতেই সীমাবদ্ধ, তাহলে ভুল করছেন। বিস্তর।
এটা আলাদা বিষয় যে অভয়ার মৃত্যু একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাওয়াতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এ যাত্রায় প্রশ্নের মুখে।
কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত? শিক্ষা, আইন, ইঞ্জিনিয়ারিং বা টোটো-ওয়ালাদের ক্ষেত্রেও এই একই ঘটনা ঘটেনি?
বিগত দশকে?
******
মাননীয় আদালত যেসব নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো, এই রাজ্যে এত বেশি ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ’ কেন? প্রতিটি স্তরে?
******
যাদবপুরে আজ রাত জাগা আন্দোলন শুরু হয়েছিল যখন, তখন সেখানে একজন মদ্যপ সেই শান্তিপূর্ণ জমায়েতে ঢুকে পড়ে। শ্লীলতাহানি করে ফেলে এক মহিলার। পু/লিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা নাকি সেই “দোষী” ব্যক্তিকে নিয়ে তড়িঘড়ি থানায় চলে যায়। অতি দ্রুত। ফটাক সে।
এ নিয়ে আমার অন্তত কোনো অভিযোগ নেই ব্যক্তিগত ভাবে। পু/লিস সঠিক কাজ করেছে। মব লিঞ্জিঙ থেকে, গণপিটুনির হাত থেকে অভিযুক্তকে আইনি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া, এইটা এক্কেবারে সঠিক পুলিশি পদক্ষেপ।
পড়লেন এতটুকু? বেশ। এবার আরেকটা বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করা যাক। আপনাদের।
এবিপি আনন্দ নামক একটি নিউজ চ্যানেল যা দেখিয়েছে, এবং… অন্য অন্য সংবাদ মাধ্যমও… তার মোটামুটি নির্যাস হলো এই যে,
অভয়ার পিতা মাতা অভিযোগ করেছেন যে, পু/লিশ তাঁদের টাকা ‘অফার’ করেছে।
যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়ে থাকে তাহলে মারাত্মক কিছু বিষয় থেকে যায়। উজিয়ে। প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে।
টাকা, নিশ্চয়ই পু/লিশ নিজের পকেট থেকে দিত না। দিতো আলবাত অন্য কেউ বা কারা।
আর এটাই আমার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আজকে। টাকা দিত, কে? কারা?
আর তার চাইতেও বড় প্রশ্ন অন্য একটা। ধরা যাক একজন মা/ফিয়া ডন কোনো একটা ক্রাইম করে বেমক্কা ফেঁসে গেছে। অতএব সে এখন চাইছে – টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে।
স্বাভাবিক। মা/ফিয়ার কাজ মা/ফিয়া করেছে এক্কেবারে যথার্থ। কিনে নিতে চাইছে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। করা বেশক উচিতও। আলবাত। কারণ সে ম/ফিয়া। সে দুষ্কৃতী। সে তো দোষ করবেই।
কিন্তু তাই বলে তার সেই টাকা… ‘মুখ বন্ধ করার’ সেই অর্থমূল্য, দিতে আসবে খোদ উর্দিধারী পু/লিস?
সুতরাং সমীকরণটা এ যাত্রায় বিস্তর জটিল।
কে টাকা দিতে চাইলো মুখ বন্ধ করতে?
এবং সেই টাকা পু/লিশ-এর মাধ্যমে কেন অফার করা হলো?
যোগসূত্রটা ঠিক কী?
ভাবুন।
এবং তারপর ফেটে পড়ুন প্রশ্ন তুলে।
অভয়া, এই ব্যবস্থার একটি ল্যুপহোল মাত্র। যেখানে সবকিছু গুছিয়ে ফেলা যায়নি।
*******
( কিছু বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ–
এই সিনেমায় হিরো যদিও ফুঁকে ফাটিয়ে দিচ্ছে কেতায়, তবুও সিগারেট খুব ক্ষতিকর।
অর্থাৎ/মতলব/ ইয়ানে কি…
এই ভিডিও…মানে, অভয়ার পিতামাতার এই যে ভিডিও, যদিও দেখাচ্ছে এ বি পি আনন্দ, তবুও সেই এবিপি সংবাদমাধ্যম এবং আমি, কেউই এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখিনি)









