Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

বাঙ্গালির জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন, বিজ্ঞানের সাধনা এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসু

Bose Bohr
Dr. Jayanta Bhattacharya

Dr. Jayanta Bhattacharya

General physician
My Other Posts
  • December 15, 2024
  • 8:18 am
  • No Comments

আরজি কর নিয়ে আন্দোলনের এখনো অব্দি সুখকর পরিসমাপ্তি না হওয়া এবং, সর্বোপরি “অভয়া”র নৃশংসতম ধর্ষণ ও খুন, তথ্য লোপাট এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির মাথা আরজি কর-এর প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ ও সহযোগী টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের আজ (১৩.১০.২০২৪) জামিন পাবার পরে আমরা সবাই বিষণ্ণ, হতবাকও বটে। হয়তো বা সবার চোখের সামনে কেন্দ্র-রাজ্য-তদন্তকারী সংস্থা ইত্যাদির একটি সুবিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন “দুষ্টচক্র” মসৃণভাবে কাজ করে চলেছে। এ প্রেক্ষিতে এ লেখাটির আপাতত কোন গুরুত্ব নেই। তবুও দেওয়া থাকল। যদি কেউ কখনো পড়ে – আশাহত হবেনা। আর সত্যেন বোসকে জানাও আমাদের বৌদ্ধিক ক্রিয়ার একটি দিক হতে পারে।

তবে আমরা “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” থেকে এক কদমও সরে আসছিনা। আমরাও মানুষের শক্তিতে ভর করে এ অসম লড়াই চালিয়ে যাবো।)

শুরুর কথা

ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা বিশেষ অবস্থান গ্রহণ করে। আবার ব্যক্তির অবস্থানে একটি প্রাধান্যকারী প্রভাব থাকে সময়ের। এ শুধু ইতিহাস, দর্শন বা সমাজতত্ত্বের ক্ষেত্রে সত্যি এমন নয়, বিজ্ঞানের জগতে, আবিষ্কারের জগতেও একইভাবে সত্যি – চরিত্রে এবং মাত্রায় পৃথক হতে পারে। রাজনীতি-রাষ্ট্র এবং দর্শনের জগতে যেমন মার্ক্স, লেনিন, ভলতেয়ার, বিসমার্ক, হিটলার, রবীন্দ্রনাথ, গান্ধি, মাও প্রভৃতির, তেমনি বিজ্ঞানের জগতে ডারউইন, ফ্রয়েড, পাস্তুর বা খোদ আইনস্টাইনের কথাও আসবে। এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য অন্তত দু’জন গবেষকের কথা উল্লেখ করতে হয় – ব্রুনো লাতুর এবং টমাস কুন।

কিন্তু স্পষ্টতই এ কথা মনে রাখতে হবে, সময়ের নিগড়ে এরা বাঁধা থাকেন নি। বৌদ্ধিক ক্রিয়াশীলতায় এবং নতুন আবিষ্কার ও সৃষ্টির পথে এঁরা সময়কে অতিক্রম করে গেছেন। এভাবেই পৃথিবী এগোয়, এগোয় বিজ্ঞান। সত্যেন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও এ কথা বিশেষ করে সত্যি। তাঁর বেড়ে ওঠা ও মননের একটি দিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের অভিঘাতে নির্মিত হয়েছে, আবার অন্যদিকে তাঁর বিজ্ঞানচর্চা একটি উপনিবেশিক পরাধীন দেশের গণ্ডী বহু বহুদূর অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের চিরকালীন সম্পদ হয়েছে। ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকাও এভাবে চেনা যায়।

জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন

আজ থেকে প্রায় ১৮০ বছর আগে মেডিক্যাল কলেজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান যিনি একাধারে ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডনের এমডি, বহু ভাষাবিদ, গবেষক এবং ভারতের IMS (Indian Medical Service)-এ স্থান পাওয়া প্রথম ভারতীয় সূর্যকুমার গুডিভ চক্রবর্তী ১৮৬৪ সালে ব্রিটিশ তথা ইউরোপীয় চিকিৎসকদের ভারতে বসবাস ও চিকিৎসা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন – “granting all the praise and honour due to hard-working and intelligent professors, the European medical officers were at best birds of passage, and could not, therefore, permanently improve the position and prospects of the profession out of the service.” (“Address in Medicine: The Present State of the Medical Profession in Bengal (delivered on February 3rd, 1864),” British Medical Journal 2 (July-December, 1864: 88) ফলে এসমস্ত “পরিযায়ী পাখিদের” বিকল্প হচ্ছে ইউরোপীয় জ্ঞানকে নিজেদের মতো করে আত্মীকরণ করে নেওয়া। একে আমরা যদি জাতীয়তাবাদী চিন্তার ভ্রূণরূপ ধরি তাহলে মনে হয় গুরুতর কোন প্রমাদ হবেনা।

পরাধীন ভারতে স্বাধীনভাবে গবেষণার চিন্তায় উজ্জীবিত বিজ্ঞানী উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী আবিষ্কার করেছিলেন সেসময়ের লক্ষ লক্ষ লোকের প্রাণ-নেওয়া মারণান্তক অসুখ কালাজ্বরের সবচেয়ে ফলদায়ী চিকিৎসা – ইউরিয়া স্টিবামিন ওষুধ।

ব্রহ্মচারী ১৯৩৬ সালে ভারতের বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন – “As a matter of the most vital concern in nation-building, the problem of nutrition demands very careful consideration by statesmen and scientists alike, more so due to the fact, as has been recently observed, that a great part of the world’s population is not consuming the necessary food stuff.”

আমরা “নেশন-বিল্ডিং” শব্দটিকে খেয়াল করব। দেশ এবং জাতির গঠনে, ব্রহ্মচারীর ধারণানুযায়ী, রাষ্ট্রনেতা, বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের জনকল্যাণী শক্তিকে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা – এসবের একটি যোগসূত্রে বিশ্বাস করেছিলেন ব্রহ্মচারী।

১৯৩৬ সালে যখন এ কথা ব্রহ্মচারী বলছেন সেসময় জাতীয়তাবাদী ভাবনার জোয়ারের কাল। এসময়ে, খুব অল্পকথায় বললে, ভারত স্বাধীনতা আসবে কোন পথে এনিয়ে যেমন বিতর্ক চলছে, তেমনি চলছে স্বাধীন বা প্রাক-স্বাধীন ভারতে শিক্ষা এবং বিজ্ঞানচর্চার ধরন কেমন হবে এ নিয়েও বিভিন্ন মত ও পথের দ্বন্দ্ব। বিজ্ঞানচর্চার সাথে ভারতীয় উদ্যোগে স্বাধীন প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবসায়িক উদ্যোগ কোন পথে বিকশিত হবে – বিবিধমুখী এরকম বিভিন্ন দ্বন্দ্বের প্রত্যক্ষ চেহারা দেখার আগে আমরা একবার দেখে নেব ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই “জাতীয় শিক্ষা” নিয়ে কত পরীক্ষানিরীক্ষা চলেছে। এবং তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব কিভাবে পড়েছে পরবর্তী সময়ের চিন্তাজগতের ওপরে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করব, যে বছর আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রেলাটিভিটি প্রকাশিত হয় সেবছরটি (১৯০৫) ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসেও সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব আনলেন। শুরু হল বঙ্গভঙ্গ রদ করার জন্য তুমুল আন্দোলন। একথা আমাদের সবার জানা। এসময়ে আরেক যুগন্ধর বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোসের বয়স ১১। পরবর্তীকালে তাঁর কৈশোর বয়সের বন্ধু নীরেন্দ্রনাথ রায় জানাচ্ছেন – “তরুণ সত্যেনের জীবন যখন গঠিত হচ্ছে সেই সময় তাঁর উপরে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল স্বদেশী আন্দোলন।” (শান্তিময় চ্যাটার্জি, এণাক্ষী চ্যাটার্জি – সত্যেন্দ্রনাথ বোস, ১৯৫৮, পৃঃ ২২)

জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের পূর্ণ বিকাশের আগে এক সলতে পাকানোর বেশ লম্বা ইতিহাস আছে। স্মরণ করুন, ১৮৫৭-র সিপাহীদের মহাবিদ্রোহের স্মৃতি তখনো শিক্ষিত সমাজের একাংশের মাঝে ফিকে হয়ে যায়নি। সিপাহী বিদ্রোহ নিয়ে যদিও এভাবে বলা সঠিক নয়। এই বিদ্রোহকালে বাঙালি সমাজের নিরন্ন, খেটে খাওয়া বেশিরভাগ মানুষই ছিলেন বিষয়টি সম্পর্কে উদাসীন। “কিন্তু ইংরেজের অনুগ্রহপুষ্ট বাংলার জমিদার, ধনী ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী এবং শিক্ষিত সমাজের একটা অংশ ব্যস্ত হয়ে উঠলেন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে। এইকালের বাঙালি পত্রিকা-সম্পাদকরা হয় ছিলেন ধনী জমিদার অথবা কোনও-না-কোনভাবে ইংরেজের ওপর নির্ভরশীল।” সংবাদ প্রভাকর-এর সম্পাদক ইংরেজরা দিল্লি পুনরুদ্ধার করলে সহর্ষে তিনি লেখেন –

“ভারতের প্রিয় পুত্র হিন্দু সমুদয়

মুক্ত মুখে বল সবে ব্রিটিশের জয়।” (স্বপন বসু, ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী – ১৮৫৭-র বিদ্রোহঃ সমকালীন বাংলা ও বাঙালি, ২০০৭, পৃঃ ৫১)

জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এবং অর্থদাতা উত্তরপাড়ার বিখ্যাত বিদ্যোৎসাহী বিজয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় উত্তরপাড়া পাক্ষিক পত্রিকা-য় লিখলেন – “আমাদিগের বঙ্গদেশস্থ সমস্ত বাঙ্গালিগণ নিতান্ত প্রভুভক্ত, ইহারা সর্বদা কেবল পরমেশ্বরের নিকট প্রার্থনা করিতেছে, যে, শ্রীশ্রীমতী রাজ্যেশ্বরীর মঙ্গল হউক।” তিনি একটি কবিতাও লিখেছিলেন –

“গোঁয়ার শূয়ার সব নাহি কিছু দয়া।

বিনা দোষে প্রাণ নাশে নাহি হয় মায়া।।

বিনা দোষে নারী বধে বড়ই অজ্ঞান।

রোষ বশে মেরে ফেলে দুধের সন্তান।।

ধর্ম্ম ধর্ম্ম কর‍্যে মিছে ধর্ম্ম করে নাশ।

ধর্ম্ম মর্ম না বুঝিতে হল সর্বনাশ।…

‘যথাধর্ম্মস্তথা জয়’ সর্ব্বলোকে কয়।

ব্রিটিশের জয় বল ব্রিটিশের জয়।” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ৫২)

কিন্তু এর বিপরীত চিত্র এবং ব্যাখ্যাও শিক্ষিত সমাজের মধ্য থেকে তৈরি হচ্ছিল। বিদ্রোহ শুরু হবার অল্পদিনের মধ্যে হরিশচন্দ্র মুখার্জির হিন্দু পেট্রিয়ট ‘দি কান্ট্রি অ্যান্ড দ্য গবর্ণমেন্ট’ নামে একটি লেখায় বলা হয় – “এটি আর সৈন্যবাহিনীর বিদ্রোহমাত্র নয়, পরিণত হয়েছে এক গণ অভ্যুত্থানে। বাংলার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এই অভ্যুত্থানের একটি বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো। শুরু থেকেই বিদ্রোহীরা দেশবাসীর সহানুভূতিপুষ্ট। দেশবাসী তাঁদের একটি মহৎ জাতীয় উদ্দ্যেশ্যে নিবেদিতপ্রাণ শহিদ বলে মনে করেন।” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ৫৬)

যাহোক, এরকম ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, মোটের ওপরে আলোচনা সহজ করার জন্য বলা যায় যে তখন সামাজিক স্মৃতিতে রয়েছে ১৮৬০-এর নীল বিদ্রোহের রেশ, রয়েছে হিন্দুমেলার (১৮৬৭-১৮৮৮০) কাজকর্মের খতিয়ান। পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান লীগ (১৮৭৫) এবং ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের (১৮৭৬) কর্মধারা এবং ১৮৮৩ সালে ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্সের কর্মকাণ্ড (১৮৮৩), এবং, সর্বোপরি, ১৮৮৫ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম নেওয়া ১৯০৫-এর সর্বব্যাপী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তথা আত্মসচেতন জাতীয় চৈতন্যের জন্ম দিয়েছে।

১৯০৫-এর আগে রঙ্গলাল, মধুসূদন, দীনবন্ধু, বঙ্কিম, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র এবং সমসাময়িক কালে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, কবিতা, নাটক সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী নাটক লিখছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, উপেন্দ্রনাথ দাস, এবং গিরীশচন্দ্রের মতো মানুষেরা।

জাতীয়তাবাদ ঘেঁষা গান লিখছেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মনমোহন বসু, গোবিন্দচন্দ্র রায় এবং, সর্বোপরি, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। অবশ্য এখানে উল্লেখ করা দরকার যে যিনি সঙ্গীত লিখেছেন তিনি নাটকও লিখেছেন, আবার বিপরীত প্রক্রিয়াও চলেছে।

এসময়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা জাতীয়তাবাদী চেতনাপুষ্ট সংবাদপত্রের উন্মেষ। ১৮৫৩ সাল থেকে হরিশচন্দ্র মুখার্জির হিন্দু পেট্রিয়ট এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছিল, ১৮৬৮ সাল থেকে মতিলাল ঘোষের সম্পাদিত অমৃতবাজার পত্রিকা এই ধারায় যুক্ত হয়। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি সম্পাদিত বেঙ্গলি সংবাদপত্র ১৮৭৯ সাল থেকে এই ধারাকে পুষ্ট করছিল। এরসাথে আরও অন্তত দুটি বিশেষ পত্রিকার কথা এখানে উল্লেখ করতে হবে যেগুলো জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের স্বপক্ষে শিক্ষিত সমাজের মাঝে জোরদার জনমত তৈরির কাজ চালিয়ে গেছে। প্রথমটি হল সতীশচন্দ্র মুখার্জির ডন (১৮৯৭) পত্রিকা এবং দ্বিতীয়টি রামানন্দ চ্যাটার্জির প্রবাসী (১৯০১) পত্রিকা।

এ সময়কালের সামাজিক ঘটনাগুলো স্মরণ করি। বাংলার “আত্মিক” শক্তির উদ্বোধন হল – কেশবচন্দ্র, রামকৃষ্ণ, বিজয়কৃষ্ণ। ১৮৯৩ সালে বিবেকানন্দের শিকাগো সম্মেলনের বক্তৃতা এক ভিন্নধর্মী আকাঙ্খার জন্ম দিল। এনিয়ে অনেক বিতর্কের অবকাশ থাকলেও এটা একটি ঐতিহাসিক সত্য। এ প্রসঙ্গে সুমিত সরকারের রামকৃষ্ণ নিয়ে পর্যবেক্ষণ আমাদের ভাবতে সাহায্য করবে – “bhakti to him, as in much Kaliyuga literature, was the counterpoint to the new nineteenth-century world of chakri (job) which reduced the quantum of free time and left little room for contemplation or ritual.” (Writing Social History, 1997, পৃঃ ৩১৫-৩১৬)

আরেকটি পুস্তকের প্রকাশ এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল – দীনেশচন্দ্র সেনের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (ইংরেজপ্রভাবের পূর্ব্ব পর্যন্ত) (১৮৯৬ সালে প্রথম সংস্করণ) প্রকাশিত হওয়া। তিনি বাঙ্গালির নিজস্ব ভাষার অন্দরমহলের রত্নরাজির সম্ভার বাংলাভাষী পাঠকের সামনে খুলে দিলেন। ভাষাগতভাবে বাংলা যে এত সমৃদ্ধ এই বোধ হয়তো কিছু পরিমাণে নতুন আত্মপরিচিতির জন্ম দিতে সাহায্য করে থাকবে। এই পুস্তকের একটি নজর দেবার মতো বিষয় হল সাম্প্রদায়িকতা বোধহীন বক্তব্যের স্পষ্ট প্রকাশ। দীনেশচন্দ্র লিখছেন – “হিন্দুগণ যেরূপ পীরের সিন্নি দিতেন, মুসলমানগণও সেইরূপ দেবমন্দিরে ভোগ দিতেন উত্তর পশ্চিমে হিন্দুগণ এখনও মহরম উৎসব করিয়া থাকেন। অর্দ্ধ শতাব্দী হইল, ত্রিপুরার মৃজাহুসেনআলি নামক জনৈক মুসলমান জমিদার নিজ বাড়ীতে কালীপুজা করিতেন এবং ঢাকার গরিব হুসেন চৌধুরী সাহেব বিস্তর টাকা ব্যয় করিয়া শীতলা দেবীর অনুষ্ঠান করিতেন, আমরা এরূপ শুনিয়াছি।” (দ্বিতীয় সংস্করণ, “কাব্যশাখা”, পৃঃ ৫৪০)

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিলনা। এর অভিঘাত ছিল অনেক সুদূরপ্রসারী – “It marked the beginning of open and organized revolt of a self-conscious subject nation against an alien ruling power.” (Haridas Mukherjee and Uma Mukherjee, The Origins of National Education Movement (1905-1910), 1957, পৃঃ ৩) আরও বলছেন – “The movement for National Education as manifest in 1905 was essentially an expression of Bengal’s militant nationalism which had been slowly but surely growing in our land since the middle of the nineteenth century.” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ৩)

শুধু এটুকুই নয়। যারা সেসময় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরচ্ছে তাদের ব্যবহারিক জীবনে অর্থ ও অন্ন সংস্থান করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে এসেছিল – “The fundamental weakness of our Indian educational system is that the average Indian student cannot bring his education into any direct relation with the world in which, outside the class or lecture room, he continues to live … it is as far removed as the poles asunder from the Western world which claims his education.” (Valentine Chirol, Indian Unrest, 1910, পৃঃ ২১৬)

পরে বিশদে ব্যাখ্যা করে বললেন – “Whilst the skilled artisan, and even the unskilled labourer, can often command from 12 annas to 1 rupee (Is. to Is. 4d.) a day, the youth who has sweated himself and his family through the whole course of higher education frequently looks in vain for employment at Rs.30 (£2) and even at Rs.20 a month. In Calcutta not a few have been taken on by philanthropic Hindus to do mechanical labour in jute mills at Rs.15 a month simply to keep them from starvation.” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২২৪-২২৫)

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ সিলেবাসে ১৯০৬ সালের আগে বাংলার কোন “compulsory paper” ছিলনা। (সুমিত সরকার, The Swadeshi Movement in Bengal 1903-1908, পৃঃ ১৫১)

ইংরেজ দার্শনিক স্পেন্সার পর্যন্ত ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা নিয়ে মতামত দিয়েছিলেন – “the amazing folly of an Examiner who proposes to test the fitness of youths for commencing their higher education, by seeing how much they know of the technical terms, cant phrases, slang, and even extinct slang, talked by the people of another nation. Instead of unfitness of the boys, which is pointed to us, we may see rather the unfitness of those concerned in educating them.” (Origins of the National Education Movement, পৃঃ ৮)

১৯০২ সালে ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিজ কমিশন তৈরি হল। এই কমিশনের একমাত্র হিন্দু সদস্য ছিলেন ডঃ গুরুদাস ব্যানার্জি। কমিশনের মিটিংয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে (বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে) অতিরিক্ত রাষ্ট্রিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে তাঁর “Note of Dissent” জানান। তিনি আপত্তি তোলেন যে সরকারি হস্তক্ষেপ এত অতিরিক্ত হচ্ছে যে সমাজের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মতামতকে আদৌ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেনা। মজার কথা, বর্তমানে প্রায় সমধর্মী ছবি (হয়তো বা বিপরীতও) দেখছি আমরা ভারতবর্ষে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের জগত থেকে রাষ্ট্র ক্রমাগত হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্র বেশি বেশি করে বেসরকারিকরণের দিকে ঝুঁকছে। বিপরীতে সামাজিক দাবী হচ্ছে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। এবং গণতান্ত্রিক চেতনার উন্মুক্ত পরিসর করে তুলতে হবে।

যাহোক, ১৯০৪ সালে “ইউনিভার্সিটিজ অ্যাক্ট” চালু হল “which tightened official control over senate and transferred to the government the power of granting affiliations, was considered by all sections of nationalist opinion to be a major threat to the ‘independence of universities’ and ultimately to the whole future of higher education.” (The Swadeshi Movement in Bengal, পৃঃ ১৫৮)

অবশ্য এর আগে ১৯০১ সালে স্বাধীনভাবে শিক্ষার চেতনা প্রবাহিত করার লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু তাই নয়, অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও, স্বাধীনভাবে জাতীয় শিক্ষার আদর্শে স্কুল তৈরি হচ্ছে। একটা সময়ে ফরিদপুর জেলার মাদারিপুর মহকুমায় যতসংখ্যক হাই স্কুল ছিল তার সংখ্যা সমগ্র যুক্ত প্রদেশের (পরবর্তীতে উত্তরপ্রদেশ) গ্রামাঞ্চলের স্কুলের চেয়ে বেশি। (পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৪৯) মনে রাখা দরকার, সুমিত সরকারের গবেষণা দেখিয়েছে যে এসমস্ত স্কুলগুলোতে ‘Aryan knowledge’-কে প্রাধান্য দিতে হবে এরকম একটি বোধ অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করেছে।

এরপরে, ১৯০৬ সালের ১৪ আগস্ট, টাউন হলের ঐতিহাসিক মিটিংয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ “জাতীয় শিক্ষানীতি” নিয়ে সুদীর্ঘ প্রবন্ধ পাঠ করলেন। সবার মাঝে রোমাঞ্চের সৃষ্টি হয়েছিল। এই মিটিংয়ের সভাপতি ডঃ রাসবিহারী ঘোষ ঘোষণা করলেন – ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ৫ লক্ষ টাকা, সুবোধচন্দ্র মল্লিক ১ লক্ষ টাকা এবং ময়মেনসিংয়ের মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য বাহাদুর ন্যাশনাল কাউন্সিলের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা মূল্যের জমি দান করছেন। (Origins of the National Education Movement, পৃঃ ৮২)

রবীন্দ্রনাথের সুদীর্ঘ প্রবন্ধটির অংশবিশেষ উদ্ধৃত করছি –

“জাতীয়বিদ্যালয় তো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হইয়া গেল, এখন এই বিদ্যালয়ের উপযোগিতা যে কী সে কি যুক্তি দিয়া বুঝাইবার আর কোনো প্রয়োজন আছে। … আমরা জানি, দেশের সমস্ত মঙ্গলসাধনের দায়িত্ব গবর্মেণ্টের; অতএব আমাদের অভাব কী আছে না আছে তাহা বোঝার দরুন কোনো কাজ অগ্রসর হইবার কোনো সম্ভাবনা নাই। এমনতরো দায়িত্ববিহীন আলোচনায় পৌরুষের ক্ষতি করে। ইহাতে পরের উপর নির্ভর আরো বাড়াইয়া তোলে।

স্বদেশ যে আমাদেরই কর্মক্ষেত্র এবং আমরাই যে তাহার সর্বপ্রধান কর্মী, এমনকি, অন্যে অনুগ্রহপূর্বক যতই আমাদের কর্মভার লাঘব করিবে, আমাদের স্বচেষ্টার কঠোরতাকে যতই খর্ব করিবে, ততই আমাদিগকে বঞ্চিত করিয়া কাপুরুষ রিয়া তুলিবে—এ কথা যখন নিঃসংশয়ে বুঝিব তখনই আর-আর কথা বুঝিবার সময় হইবে। …

অনেকদিন পরে আজ বাঙালি যথার্থভাবে একটা-কিছু পাইল। এই পাওয়ার মধ্যে কেবল যে একটা উপস্থিত লাভ আছে, তাহা নহে, ইহা আমাদের একটা শক্তি। আমাদের যে পাইবার ক্ষমতা আছে, সে ক্ষমতাটা যে কী এবং কোথায়, আমরা তাহাই বুঝিলাম। এই পাওয়ার আরম্ভ হইতে আমাদের পাইবার পথ প্রশস্ত হইল। আমরা বিদ্যালয়কে পাইলাম যে তাহা নহে, আমরা নিজের সত্যকে পাইলাম, নিজের শক্তিকে পাইলাম …

তাই আজ আমি ছাত্রদিগকে অনুরোধ করিতেছি, এই বিদ্যালয়ের প্রাণকে অনুভব করো—সমস্ত বাঙালিজাতির প্রাণের সঙ্গে এই বিদ্যালয়ের যে প্রাণের যোগ হইয়াছে তাহা নিজের অন্তঃকরণের মধ্যে উপলব্ধি করো—ইহাকে কোনোদিন একটা ইস্কুলমাত্র বলিয়া ভ্রম করিয়ো না। তোমাদের উপরে এই একটি মহৎ দায়িত্ব রহিল। স্বদেশের একটি পরমধনের রক্ষণভার আজ তোমাদের উপরে যতটা পরিমাণে ন্যস্ত হইল, তোমাদিগকে একান্ত ভক্তির সহিত, নম্রতার সহিত তাহা বুঝিয়া লইতে হইবে। ইহাতে তপস্যার প্রয়োজন হইবে। ইতিপূর্বে অন্য কোনো বিদ্যালয় তোমাদের কাছে এত কঠোরতা দাবি করিতে পারে নাই। এই বিদ্যালয় হইতে কোনো সহজ সুবিধা আশা করিয়া ইহাকে ছোটো হইতে দিয়ো না। বিপুল চেষ্টার দ্বারা ইহাকে তোমাদের মস্তকের ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরো; ইহার ক্লেশসাধ্য আদর্শকে মহত্তম করিয়া রাখো; ইহাকে কেহ যেন লজ্জা না দেয়, উপহাস করিতে না পারে, সকলেই যেন স্বীকার করে যে, আমরা শৈথিল্যকে প্রশ্রয় দিবার জন্য, জড়ত্বকে সম্মানিত করিবার জন্য বড়ো নাম দিয়া একটা কৌশল অবলম্বন করি নাই। তোমাদিগকে পূর্বাপেক্ষা যে দুরূহতর প্রয়াস, যে কঠিনতর সংযম আশ্রয় করিতে হইবে, তাহা ব্রতস্বরূপ ধর্মস্বরূপ গ্রহণ করিয়ো। কারণ, এ বিদ্যালয় তোমাদিগকে বাহিরের কোনো শাসনের দ্বারা,কোনো প্রলোভনের দ্বারা আবদ্ধ করিতে পারিবে না — ইহার বিধানকে অগ্রাহ্য করিলে তোমরা কোনো পদ বা পদবীর ভরসা হইতে ভ্রষ্ট হইবে না —বল তোমাদের স্বদেশকে তোমাদের ধর্মকে শিরোধার্য করিয়া, স্বজাতির গৌরব এবং নিজের চরিত্রের সম্মানকে নিয়ত স্মরণ রাখিয়া, তোমাদিগকে এই বিদ্যালয়ের সমস্ত কঠিন ব্যবস্থা স্বেচ্ছাপূর্বক অনুদ্ধত আত্মোৎসর্গের সহিত নতশিরে বহন করিতে হইবে।”

জাতীয় শিক্ষার জন্য এই আন্দোলনের সাথে বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছেন সিস্টার নিবেদিতা, অরবিন্দ ঘোষ, নীলরতন সরকার, তারকনাথ পালিতের মতো মানুষেরা। এমনকি আশুতোষ মুখার্জিও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। যদিও “Asutosh Mukherjee had no sympathy at all with the National Council as a potential rival to his university – he even privately urged Minto to take action against the politically-unreliable national schools – but in his own way he was realising a part of the constructive programme of the national education movement.” (The Swadeshi Movement in Bengal, পৃঃ ১৭০)

বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে অরবিন্দ ১৯০৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এবং ইতিহাস ও পলিটিক্যাল সায়ান্সের শিক্ষক হিসেবে ডিসেম্বর, ১৯০৭ থেকে মে, ১৯০৮ পর্যন্ত শিক্ষাদান করেছেন। কিন্তু এরপরে ধীরে ধীরে নামী ব্যক্তিরা সরে যেতে শুরু করেন। ডিসেম্বর ১৯০৮-এ সতীশচন্দ্র মুখার্জির মতো অত্যুৎসাহী সংগঠকেরা সরে যান। ১৯০৭-এর আগস্ট মাসেই সন্ধ্যা পত্রিকা তিক্তস্বরে লেখে – “The truth is that Satish Babu and secretly many others of the National College as well are quite stiff with fear.” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৭১) এরকম লেখার পেছনের ঘটনাটি হচ্ছে, ন্যাশনাল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সুশীলকুমার সেনকে যখন কিংসফোর্ডের আদেশে চরম বেত্রাঘাত করা হয় তারপরে সুশীলকুমারকে কলেজের তরফ থেকে সম্মান জানানোর কোন সাহস দেখানো হয়নি।

সম্পাদক হিসেবে আশুতোষ চৌধুরী এবং হীরেন্দ্রনাথ মুখার্জি ১৭ ডিসেম্বর, ১৯০৮-এ সার্কুলার জারি করে জানান যে মফস্সলের স্কুল সহ কোন স্কুলের ছাত্ররাই আর ইংরেজ বিরোধী পিকেটিং বা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা। ১৯০৯-এর আগস্ট নাগাদ ন্যাশনাল কাউন্সিলের ক্রিয়াকলাপে মিন্টো নিতান্ত সন্তুষ্ট হয়েছিলেন – “It is very satisfactory that the National Council of Education has been doing much to keep the students of national schools under control…” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৭২)

১ জুন, ১৯০৬-এ যেদিন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশন-কে সরকারিভাবে রেজিস্টার করা হয় সেদিনই আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন তৈরি হয় তারকনাথ পালিত এবং অন্যান্যদের নেতৃত্বে – সোসাইটি ফর দ্য প্রোমোশন অফ টেকনিক্যাল এডুকেশন (S.P.T.E)। S.P.T.E-র তত্ত্বাবধানে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট ২৫ জুলাই, ১৯০৬ থেকে কাজকর্ম শুরু করে – ৯২, আপার সার্কুলার রোডে মাসিক ৩০০ টাকায় ভাড়া করা একটি ঘরে। এটিই এখন ইউনিভার্সিটি সায়ান্স কলেজ (চালু কথায় রাজাবাজার সায়ান্স কলেজ)।

বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট-এর প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রথমে প্রমথনাথ বোস (১৯০৬-১৯০৮) এবং পরে শরৎকুমার দত্ত (১৯০৯-১৯১০)। প্রমথনাথ বোস (পি এন বোস) ভারতের একজন অগ্রগণ্য ভূতাত্ত্বিক এবং জীবাশ্মবিদ ছিলেন। শরৎকুমার দত্ত হলেন প্রথম ভারতীয় যিনি বার্লিনের Technological University of Charlottenburg থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় সর্বোচ্চ অনার্স নিয়ে পাস করেছিলেন। ১৯০৯ সালে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট-এর ছাত্রসংখ্যা ছিল ১২৪। (Origins of the National Education Movement, পৃঃ ৪৯-৫০)

এদিকে বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ এবং স্কুল বৌবাজার স্ট্রিটে ১৫ আগস্ট, ১৯০৬ থেকে এর যাত্রা শুরু করেছিল। প্রথম প্রিন্সিপাল ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ, সতীশচন্দ্র মুখার্জি প্রথম সুপারিন্টেনডেন্ট। ভারতীয় ইতিহাস এবং সংস্কৃতির নামী গবেষক হিসেবে যারা সেসময়েই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তাঁর মধ্যে কয়েকজন (যেমন রবীন্দ্রনারায়ণ ঘোষ, বিনয়কুমার সরকার, রাধাকুমুদ মুখার্জি) এখানে শিক্ষকতা করেছিলেন। অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন মোক্ষদাচরণ সমাধ্যায়, সখারাম গণেশ দেউস্কর এবং পালি ভাষার শিক্ষক ধর্মানন্দ কোশাম্বি (প্রখ্যাত অঙ্কবিদ, ঐতিহাসিক এবং মার্ক্সবাদী পণ্ডিত ডি ডি কোশাম্বির পিতা)। সুমিত সরকার মন্তব্য করছেন – “The all-India outlook of the leaders of national education is noteworthy; the study of Hindi and Marathi was encouraged (as well as of Pali, Persian and Sanskrit and also French and German)…” (The Swadeshi Movement in Bengal, পৃঃ ১৬৮)

এরপরে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনে ভাঁটা পড়ে। সংগঠকদের মতদ্বৈধ, বিভিন্ন বিরোধী মতকে সমাধান করার অজানা রাস্তা এবং, সর্বোপরি, ছাত্রসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পেতে শুরু করে। এর প্রধান কারণ ছিল এই প্রচেষ্টা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে পাস করে বেরনোর পরে কর্মসংস্থানের কি হবে এ উত্তর অজানা ছিল।

কিন্তু “all that survived of the wreck of national education movement in Calcutta was the College of Engineering and Technology, the real institutional nucleus perhaps of the modern Jadavpur University.” (The Swadeshi Movement in Bengal, পৃঃ ১৬৭)

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। সায়েন্টিফিক এবং টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের প্রসঙ্গ খুব জোরদারভাবে এলেও মেডিক্যাল শিক্ষার অঞ্চলটি, কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছাড়া, প্রধানত ইংরেজ সরকার তথা রাষ্ট্রের হাতেই তোলা থাকল। যদিও সেসময়ে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন জায়গায় প্রাইভেট মেডিক্যাল স্কুলের আদলে কিছুকিছু ক্ষেত্রে ডিসেকশন এবং রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রয়োগের শিক্ষা দেওয়া হত। তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস “আরোগ্য-নিকেতন”-এ এ চিত্র খানিকটা ধরা আছে।

তাহলে কি জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন বা সামগ্রিকভাবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ঢেউ মেডিক্যাল কলেজগুলোর ছাত্রদের স্পর্শ করেনি। প্রসঙ্গত বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ৩টি মেডিক্যাল কলেজ কলকাতা শহরে ছিল – (১) মেডিক্যাল কলেজ, ক্যালকাটা বা শুধুই মেডিক্যাল কলেজ, (৩) ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুল (বর্তমান নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ), এবং (৩) কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজ (বর্তমানে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ)। ঢাকাতে সেসময়ে তৈরি হয়েছিল মিটফোর্ড হাসপাতাল, যেখানে মেডিক্যাল ক্লাস নেওয়া হত।

শ্রীলতা চ্যাটার্জির গবেষণা জানাচ্ছে ১৯২১ সাল নাগাদ – “Gandhi himself, at a meeting at Mirzapore Park, appealed to the students to leave their studies. The Calcutta Medical College students who had been immune to propaganda by the leaders were overwhelmed by his appeal.” (Congress Politics in Bengal (1919-1939), 2002, পৃঃ ৭১-৭২)

এর আগে ঘটে যাওয়া জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন এবং, বিশেষ করে, গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাব পড়েছিল মেডিক্যাল শিক্ষার ওপরেও। ১৯০৭ সালে (জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের কাল) ডঃ শরৎকুমার মল্লিক ১৯১, বৌবাজার স্ট্রিটে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর কাজকর্ম শুরু হয়। ১৯১০ সালে এর সাথে একটি “ফ্রি হাসপাতাল” যুক্ত হয়। মহারাজা মণীন্দ্র নন্দীর দান করা একখণ্ড জমিতে (৩০১/৩, আপার সার্কুলার রোড) এই হাসপাতাল সরে যায়। ১৯১৯ সালে ডঃ শরৎকুমার মল্লিকের উদ্যোগে নতুন করে আবার এ কলেজ ও হাসপাতাল চালু হয়। এসময়ে এর দায়িত্বভার গ্রহণ করে “ক্যালকাটা মেডিক্যাল ইন্সটিটিউশন” নামে এক ট্রাস্টি বোর্ড। নতুন ইন্সটিটিউশন State Medical Faculty of Bengal for LMF Course-এর সাথে “affiliated” ছিল। ১৯২৪-২৫ সালে ছাত্রদের প্রথম ব্যাচ Licentiate Examination of the Faculty-র জন্য পরীক্ষায় বসে।

শ্রীলতা জানাচ্ছেন – “Someswar Prasad Chaudhuri recalled how as a young medical student he was greatly moved by Deshabandhu’s speech in a meeting at Hedua and, disregarding all the attractions of further studies in Europe, responded to his call. He joined the newly opened National Medical College.” (পৃঃ ৭২)

সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১ জানুয়ারি, ১৮৯৪ – ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪)

সত্যেন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হল কি লেখা যায় এবং কতটুকু লেখা যায়। একদিকে, সত্যেন্দ্রনাথের নামে পদার্থবিদ্যার জগতে “বোসন” পার্টিকল-এর নাম চিরকালীন হয়ে যাওয়া; আরেকদিকে মাত্র ৩০ বছর বয়সে স্বয়ং আইনস্টাইনের সাথে পত্রালাপের মধ্য দিয়ে বোস-আইন্সটাইন সমীকরণ বা স্ট্যাটিস্টিক্স তথা ডিস্ট্রিবিউশন সমগ্র পৃথিবীর শিক্ষিত মানুষের কমবেশি চেনা শব্দ হয়ে ওঠা – এসব মিলে এমন একটি জ্যোতির্বলয় (halo) তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে যে আসল মানুষটিকে চেনা মুশকিল হয়ে পড়ে।

এরসঙ্গে যুক্ত করুন CERN-এর গবেষণাগারে হিগস-বোসন পার্টিকল নিয়ে অনুধ্যায়ী গবেষণা। ৪ জুলাই, ২০১২-তে CERN-এর ডিরেক্টর জেনারেল Rolf Heuer-এর বিখ্যাত উক্তি – “It” was the Higgs Boson, the almost-mythical entity that had put particle physics in the global spotlight”। এর ফলে জ্যোতির্বলয়টি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

আরেকটি তথ্যও এখানে ঊল্লেখ করে নেওয়া ভালো। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সুবিখ্যাত বিশ্ব-পরিচয় গ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন সত্যেন্দ্রনাথকে। সে উৎসর্গপত্রের প্রয়োজনীয় অংশ উদ্ধৃত করছি।

“শ্রীযুক্ত সত্যেন্দ্রনাথ বসু

প্রীতিভাজনেষু

এই বইখানি তোমার নামের সঙ্গে যুক্ত করছি। বলা বাহুল্য, এর মধ্যে এমন বিজ্ঞানসম্পদ নেই যা বিনা সংকোচে তোমার হাতে দেবার যোগ্য। তা ছাড়া, অনধিকারপ্রবেশে ভুলের আশঙ্কা করে লজ্জা বোধ করছি, হয়তো তোমার সম্মান রক্ষা করাই হল না। কয়েকটি প্রামাণ্য গ্রন্থ সামনে রেখে সাধ্যমতো নিড়ানি চালিয়েছি। কিছু ওপড়ানো হল। যাই হোক আমার দুঃসাহসের দৃষ্টান্তে যদি কোনো মনীষী, যিনি একাধারে সাহিত্যরসিক ও বিজ্ঞানী, এই অত্যাবশ্যক কর্তব্যকর্মে নামেন তা হলে আমার এই চেষ্টা চরিতার্থ হবে।

শিক্ষা যারা আরম্ভ করেছে, গোড়া থেকেই বিজ্ঞানের ভাণ্ডারে না হোক, বিজ্ঞানের আঙিনায় তাদের প্রবেশ করা অত্যাবশ্যক। এই জায়গায় বিজ্ঞানের সেই প্রথমপরিচয় ঘটিয়ে দেবার কাজে সাহিত্যের সহায়তা স্বীকার করলে তাতে অগৌরব নেই। সেই দায়িত্ব নিয়েই আমি এ কাজ শুরু করেছি। কিন্তু এর জবাবদিহি একা কেবল সাহিত্যের কাছেই নয়, বিজ্ঞানের কাছেও বটে। তথ্যের যাথার্থ্যে এবং সেটাকে প্রকাশ করবার যাথাযথ্যে বিজ্ঞান অল্পমাত্রও স্খলন ক্ষমা করে না। অল্প সাধ্যসত্ত্বেও যথাসম্ভব সতর্ক হয়েছি। বস্তুত আমি কর্তব্যবোধে লিখেছি কিন্তু কর্তব্য কেবল ছাত্রের প্রতি নয় আমার নিজের প্রতিও। এই লেখার ভিতর দিয়ে আমার নিজেকেও শিক্ষা দিয়ে চলতে হয়েছে। এই ছাত্রমনোভাবের সাধনা হয়তো ছাত্রদের শিক্ষাসাধনার পক্ষে উপযোগী হতেও পারে।

আমার কৈফিয়তটা তোমার কাছে একটু বড়ো করেই বলতে হচ্ছে, তা হলেই এই লেখাটি সম্বন্ধে আমার মনস্তত্ত্ব তোমার কাছে স্পষ্ট হতে পারবে …

আমি বিজ্ঞানের সাধক নই সে কথা বলা বাহুল্য। কিন্তু বালককাল থেকে বিজ্ঞানের রস আস্বাদনে আমার লোভের অন্ত ছিল না। … আজ বয়সের শেষপর্বে মন অভিভূত নব্যপ্রাকৃততত্ত্বে – বৈজ্ঞানিক মায়াবাদে। তখন যা পড়েছিলুম তার সব বুঝি নি। কিন্তু পড়ে চলেছিলুম। আজও যা পড়ি তার সবটা বোঝা আমার পক্ষে অসম্ভব, অনেক বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতের পক্ষেও তাই। …

পাণ্ডিত্য বেশি নেই সুতরাং সেটাকে বেমালুম করে রাখতে বেশি চেষ্টা পেতে হয় নি। চেষ্টা করেছি ভাষার দিকে। বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ শিক্ষার জন্যে পারিভাষিকের প্রয়োজন আছে। কিন্তু পারিভাষিক চর্ব্যজাতের জিনিস। দাঁত-ওঠার পরে সেটা পথ্য। সেই কথা মনে করে যতদূর পারি পরিভাষা এড়িয়ে সহজ ভাষার দিকে মন দিয়েছি।

এই বইখানিতে একটি কথা লক্ষ্য করবে – এর নৌকোটা অর্থাৎ এর ভাষাটা যাতে সহজে চলে সে চেষ্টা এতে আছে কিন্তু মাল খুব বেশি কমিয়ে দিয়ে একে হালকা করা কর্তব্য বোধ করি নি …

শান্তিনিকেতন

২রা আশ্বিন ১৩৪৪

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর”

এই উৎসর্গপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদটি লক্ষ্যণীয়। হয়তো রবীন্দ্রনাথের এ কথাগুলো সত্যেন্দ্রনাথের অভ্যন্তরে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার আলাদা তাগিদের জন্ম দিয়ে থাকবে।

জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের অভিঘাতে প্রধানত দুটি বিষয় শিক্ষার অঙ্গনে এলো – (১) বাংলা ভাষাকে বহুক্ষেত্রে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ, এবং (২) উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণামুখী দৃষ্টিভঙ্গীকে উৎসাহ দেওয়া। একসময়ে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের সাথে স্বল্পসময়ের জন্য যুক্ত স্যার আশুতোষ মুখার্জি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি টার্মে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯১৩ সালে তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্নাতকোত্তর পাঠক্রম চালু হল। জমি তৈরি হয়েই ছিল। ফসল ফলতে দেরী হলনা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ২৫-৩০ বছরের মধ্যে বোস পরিসংখ্যান, মেঘনাদ সাহার তাপ আয়নন তত্ত্ব এবং সি ভি রমনের রামন-এফেক্ট আবিষ্কৃত হল।

শান্তিময় চট্টোপাধ্যায় ও এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সত্যেন্দ্রনাথ বোস (১৯৭৮) গ্রন্থে তাঁরা একটি নজর করার মতো পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমার উল্লিখিত তিন বিজ্ঞানী – বসু, সাহা এবং রামন – যখন তাঁদের গবেষণাকর্ম করছেন সেসময়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বযুদ্ধ বিজ্ঞানচর্চাকে প্রভাবিত করল, বিজ্ঞানচর্চার অভিমুখের পরিবর্তন ঘটালো। লেখকেরা বলছেন – “প্রতিরক্ষার কাজে বিজ্ঞানকে প্রয়োগের বিপুল সম্ভাবনার কথা যুদ্ধরত দেশগুলির সরকার বুঝতে পারলেন ফলে সাধারণভাবে বিজ্ঞান গবেষণার উপর এর গভীর প্রভাব দেখা গেল। সরকারি ও আনুকূল্যে বিজ্ঞানের দিক পরিবর্তিত হল।

ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ছেড়ে সহস আরম্ভ হল বিশাল বিশাল সরকারী অর্থপুষ্ট উদ্যোগ। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গবেষণা ছাড়াও বিজ্ঞানের অন্যান্য বিভাগে বর্ষিত হতে লাগল সরকারী ও দাক্ষিণ্য, কারণ তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের বুনিয়াদ পাকা না হলে ফলিত বিজ্ঞান অথবা প্রয়োগধর্মী গবেষণা বেশি এগোতে পারেনা।” (পৃঃ ১০) আজকের ভারতবর্ষে তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রেই গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

সত্যেন্দ্রনাথ যখন যুবক ও পরিণত হচ্ছেন তখন তাঁর বৈশিষ্ট্য বোঝাতে বলা যায় – “The family background explains much in S N Bose’s character – his urbanity and innate sophistication, his love of art and literature, his love for perfection, his liberal and open mind, his originality, a sense of family loyalty and national pride. Unlike many of his eminent predecessors and contemporaries, Satyendranath was city bred.” (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, ১৯৯৪, পৃঃ ৯)

চিরকালের অত্যন্ত কৃতবিদ্য ছাত্র, যাঁর চোখের পাওয়ার মাইনাস ১৪, সত্যেন্দ্রনাথ ১৯০৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পঞ্চম হয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হলেন। প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর আত্মজীবনী-তে লিখছেন – “সেই স্মরণীয় বছরে এমন একদল মেধাবী ছাত্র প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হয় যারা ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল।” এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, সত্যেন্দরনাথের পিতৃদেবের পড়ার বিস্তৃত পরিধির মধ্যে মার্ক্সবাদের পুস্তকও ছিল। (চট্টোপাধ্যায় ও চট্টোপাধায়, সত্যেন্দ্রনাথ বোস)

আমরা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব কিরকম গভীরভাবেভাবে বাংলার মানসিক, বৌদ্ধিক, রাজনৈতিক এবং বোধের জগতকে প্রভাবিত করেছিল। উল্লেখ করেছি যে এর প্রভাব তখন কিশোর সত্যেন্দ্রর মনে কি গভীর ছাপ ফেলেছিল। বাংলায় এসময় তরুণদের মধ্যে স্বাধীনতার আগুন আগুন জ্বলে ওঠে। বহুসংখ্যক সশত্র গুপ্ত সমিতি তৈরি হয়। এরকম একটি সমিতি হল অনুশীলন সমিতি।

“সত্যেন্দ্রনাথ ও তাঁর বন্ধু জীবনতারা হালদার এইসব গুপ্ত সমিতির ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ এইরকম একটি সমিতি পরিচালিত নৈশ স্কুলে পড়াতেন। স্কুলটির নাম ছিল ওয়ার্কিং মেনস ইন্সটিটিউট – এখানে শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাদান করা হত।” (সত্যেন্দ্রনাথ, পৃঃ ২৩) “Some of the others to join Presidency College in 1909 were Maniklal De, Jnanchandra Ghosh (who came from Giridih), Jnanendranath Mukherjee (who came from Bardhaman), Nikhilranjan Sen, Pulinbehari Sarkar and Amaresh Chakrabarty. 1909 was a remarkable year – it was the year ofthe Alipore Bomb Case. The political atmospbexe was highly charged. A year ago the first bomb had been thrown at Muzaffarpur at a British official. Khudiram was caught and hanged. Overnight he became a martyr and a darling of the people.”

প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেকর্ড মার্কস পেয়ে পাস করা যুবক ১৯১৬ সালে সেসময় সদ্যগঠিত বিজ্ঞান কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সঙ্গী অধ্যাপক ছিলেন সারাজীবনের বন্ধু দ্বিতীয় স্থানাধিকারী মেঘনাদ সাহা। (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৩)।

(এমএসসি পরীক্ষায় সত্যেন্দ্রনাথের রেকর্ড নম্বর পাওয়া মার্কশিটের প্রতিলিপি)

প্রসঙ্গত বলা ভালো, সত্যেন্দ্রনাথ একাধারে ফিজিক্স, অংক, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, দর্শন, খনিবিদ্যা, সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পকলায় আগ্রহী ও ব্যুপত্তিসম্পন্ন মানুষ। আবার নিজে ভালো বেহালাবাদক ছিলেন। সেসময় কলকাতায় যেসব সাহিত্য আড্ডা বসতো তার অনেকগুলোরই তিনি নিয়মিত সদস্য ছিলেন। নিজের চেষ্টায় সহজাত দক্ষতায় ফরাসী এবং জার্মান ভাষা শিখেছিলেন।

শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এসময়ে (১৯১০-এর দশকে) এক জার্মান অধ্যাপক ছিলেন – পি জে ব্রুল। তিনি সত্যেন্দ্রনাথ ও মেঘনাদকে জার্মান ভাষায় লেখা ফিজিক্সের অনেকগুলো বই দেন। এর মধ্যে কয়েকটি স্বয়ং ম্যাক্স প্ল্যাংকের (পদার্থবিদ্যায় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের স্রষ্টা) লেখা বই ছিল। দুজনেই জার্মান ভাষা ভালভাবে জানতেন বলে সাবজেক্ট অনুযায়ী বইগুলো ভাগ করে নিলেন। মেঘনাদের ভাগে পড়লো থার্মোডায়ানামিক্স এবং স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেকানিক্স। আর সত্যেনের ভাগে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম এবং থিওরি অফ রেলাটিভিটি। (সত্যেন্দ্রনাথ, পৃঃ ৩২)

১৯১৮ সালে সত্যেন্দ্রনাথের প্রথম গবেষণাপত্র (মেঘনাদ সাহার সাথে যৌথভাবে লেখা) “’On the Influence of the Finite Volume of Molecules on the Equation of State”, প্রকাশিত হয়েছিল Phil. Mag. (Ser. 6, 36, 199-203)-এ. “The equation of state proposed in the paper is generally known as the ‘Saha-Bose equation of state’. (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩১১)।

সত্যেনের নিজস্ব ৩য় আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র – “On the Deduction of Rydberg’s Law from the Quantum Theory of Spectral Emission’” – আবার প্রকাশিত হল Philosophical Magazine-এ (40, 619-27)। ১৯২১-এ জাপান যাবার পথে আইন্সটাইন খব পান তিনি সেবছরের নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন। ১৯২৪ সালে Pauli দেখিয়েছিলেন যে মুক্ত ইলেক্ট্রন এবং বিকীরণ (রেডিয়েশন) উভয়য়েই থার্মাল ইক্যুইলিব্রিয়ামে থাকতে পারে (প্ল্যাঙ্কের ল অনুযায়ী)। Zeitschrift fur Physik-এ (সেসময়ের তাত্ত্বিক ফিজিক্সের সবচেয়ে বিখ্যাত জার্নাল) প্রকাশিত হল (১৯২৩-এ) পলি, আইনস্টাইন এবং Ehrenfest-এর পেপার। ১৯২৩-এই মেঘনাদ সাহা ঢাকায় আসেন। সত্যেন্দ্র সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। সাহা এই পেপারগুলো প্রতি সত্যেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সালটি ১৯২৪।

এই পেপারগুলোর নতুনতর গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লিখলেন যুগান্তকারী সেই পেপার “Planck’s Law and the Light-Quantum Hypothesis” এবং Philosophical Magazine-এ প্রকাশের জন্য। প্রকাশিত হলনা। ১৯২৪-এর ৪ জুন একটি চিঠি সহ এই পেপারটি পাঠালেন স্বয়ং আইনস্টাইনের কাছে, যাতে পেপারটি Zeitschrift fur Physik-এ প্রকাশিত হয়। ১৫ জুন, ১৯২৪-এ আরেকটি পেপার “Thermal Equilibrium in the Radiation Field in the Presence of Matter” পাঠালেন আইন্সটাইনকে। প্রথম পেপারটি নিজে জার্মানে অনুবাদ করে আইনস্টাইন পূর্বোক্ত জার্নালে পাঠালেন প্রকাশের জন্য। এবং সত্যেন্দ্রকে আইনস্টাইন ব্যক্তিগত চিঠিতে লিখলেন – “signifies an important step forward and I liked it very much . . . You are the first to derive the factor quantum theoretically, even though because of the polarization factor 2 not wholly rigorously. It is a beautiful step forward.”

(জার্মানে সত্যেন্দ্রকে লেখা আইনস্টাইনের চিঠি)

Zeitschrift fur Physik-এ “Plancks Gestez und Lichtquantenhypothese” শিরোনামে পেপারটি প্রকাশিত হল আগস্ট, ১৯২৪-এ। সাথে আইন্সটাইনের নোটও প্রকাশ করে জার্নাল – “Bose’s derivation of Planck’s law signifies, in my opinion, an important step forward. The method used here gives also the quantum theory of an ideal gas, as I shall show elsewhere.”

বোসের ২য় পেপারও আইনস্টাইনের জার্মান অনুবাদে Zeitschrift fur Physik-এর সেপ্টেম্বর, ১৯২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। আইনস্টাইন ভিয়েনায় প্রুশিয়ান অ্যাকাডেমির কনফারেন্সে প্রথম “Bose’s counting method” নিয়ে নিজের পেপার পাঠ করেন। (আমি এসমস্ত তথ্যের জন্য ঋণী (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, গ্রন্থের কাছে)

এরপরে অক্টোবর, ১৯২৪-এ বোসের বিদেশ তথা প্যারিস যাত্রা। সিলভাঁ লেভির সূত্রে পরিচয় হল বিশ্বখ্যাত ফরাসী পদার্থবিদ পল ল্যাঞ্জেভিনের সাথে। ল্যাঞ্জেভিন প্যারিসের বিখ্যাত ল্যাবরেটরি Maurice de Broglie-তে এক্স-রে স্পেক্ট্রোস্কোপি শেখার সুযোগ করে দেন।

এরপরে বোসের আইনস্টাইন সহ অন্য বিজ্ঞানীদের সাথে পরিচয় এবং আলাপচারিতা হয়। পরবর্তীতে তিনি লিখছেন _ “was very friendly with Franck, Einstein, Born, Ewald, Szilard and Mark”। এখানে উল্লেখিত বিজ্ঞানীদের নামগুলো শুধু খেয়াল করুন – সেসময় পদার্থবিদ্যার দুনিয়া যাঁরা তাত্ত্বিকভাবে ওলটপালট করে দিচ্ছিলেন সেসব বিজ্ঞানীরা। বার্লিনের ল্যাবরেটরিতে এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির পাঠ নিলেন। ১৯২৬-এ পল ডিরাকের মতো বিজ্ঞানী সংযুক্ত করলেন “Bose and Fermi statistics of particles to the symmetry properties of their wave functions and names them ‘bosons’ and ‘fermions’.” (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩১৩)

(নীলস বোরের সাথে সত্যেন্দ্রনাথ)

“Bose applies for a Professor’s post at Dhaka University, with recommendations from Einstein, Langevin, and Mark. Later in the year, he returns to Dhaka, and is appointed Professor and Head of the Department of Physics, when D M Bose, the original appointee, declines the offer. In his Dhaka years, he reorganizes the Physics Department, developing special facilities for research work in X-ray spectroscopy, X-ray diffraction, magnetic properties of matter, optical spectroscopy including Raman spectra, wireless etc.” (পূর্বোক্ত)

১৯৩১ সালে পরিচয় পত্রিকায় প্রকাশিত হল তাঁর বাংলায় লেখা প্রবন্ধ “বিজ্ঞানের সংকট”। ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিজ্ঞানের ওপরে প্রথম পুস্তক বিশ্ব পরিচয় উৎসর্গ করলেন বোসকে। কি বিচিত্র এবং দুর্ভাগ্যজনক গতিতে জীবন এগোয়। বোসের সংখ্যায়ন এবং আরও অন্যান্য বিষয়ে নতুন পথে গবেষণা করে যখন ডিরাক, পাউলি সহ একের পর এক বিজ্ঞানী যখন নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন সেসময়ে বোস ভারতে Agricultural Research Sub-committee of the Indian Central Jute Committee-র মনোনীত সদস্য হচ্ছেন কিংবা Weights and Measures Committee, Government of Bengal-এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন।

১৯৪৮ সালে, হয়তো বা হত-মনোরথ, সত্যেন্দ্রনাথ বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ-এর জন্ম দিলেন। ১৯৫১ সালে “As a Special Representative from India, Bose attends a meeting, sponsored by the UNESCO, at Paris, to consider the establishment of an international statistical centre. He visits Germany and meets Walther Bothe, Otto Haxel, J H D Jenson and H Meier Leibnitz in Heidelberg, and Otto Hahn, Werner Heisenberg and Houtermans in Gottingen.” (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩১৭)

রাশিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেলেও তাঁর কখনো আমেরিকা যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এই নিয়ে এক মার্কিন লেখক তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি পরিহাসছলে বলেন – “আপনাদের সেনেটর ম্যাকার্থি হয়ত আপত্তি করতেন। আমি আগেই সোভিয়েত রাশিয়া ঘুরে এসেছি যে।” (চট্টোপাধ্যায় ও চট্টোপাধায়, সত্যেন্দ্রনাথ বোস, ১৯৫৮, পৃঃ ৭৪-৭৫) রসিকতার ছলে বললেও বোসের মানসিকতা এই উক্তিতে ধরা পড়ে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার যে অপচয় ঘটছে সত্যেন্দ্রনাথ এ সম্পর্কে বিলক্ষণ অবহিত ছিলেন। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ধারাকে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর শেষ জীবনের আরব্ধ কর্মের একটি ছিল – “শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে সরাসরি ভাবের আদান-প্রদান দরকার। এই আদান-প্রদানের পথে ভাষার অন্তরায় না থাকাই বাঞ্ছনীয় … স্নাতকোত্তর পর্যায়েও শিক্ষার মাধ্যম মাতৃভাষা করে দেওয়া উচিত।” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ৯৪)

(সত্যেন্দ্রনাথ বেহালা বাজাচ্ছেন)

PrevPreviousওঁরা ও আমরা
Nextএলাটিং বেলাটিং সই লোNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

স্বাস্থ্যভবন থেকে সরাসরি আমাদের বক্তব্য

June 13, 2026 No Comments

অভয়া আন্দোলনে আমাদের দিক থেকে যে দশদফা দাবিকে সূচিমুখ করে আমরা লড়াই চালিয়েছিলাম এবং যে দাবিগুলির সাথে আপামর বাংলার জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছিলেন, এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

ক্ষমতার অসীম বিশ্বে ফুটবল এবং ব্যাডমিন্টন

June 13, 2026 No Comments

২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। একে একে সমস্ত দেশের খেলোয়ারেরা এবং তাদের কর্মকর্তারা হাজির হচ্ছেন প্রধানত আমেরিকায় কিংবা মেক্সিকো বা কানাডায় – যে দেশে

বিচারহীনতার বিরুদ্ধে অভয়া মঞ্চের আপসহীন লড়াই

June 12, 2026 No Comments

৯ জুন ২০২৬ রাণুছায়া মঞ্চে অভয়া মঞ্চের আহ্বায়জ তমোনাশ চৌধুরীর বক্তব্য।

২২ মাস হয়ে গেল, বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি আমরা

June 12, 2026 No Comments

৯/৬/২০২৬ আমরা সবাই জানি অভয়ার খুন-ধর্ষনের মামলায় নতুন SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। অভয়া মামলা আবার এসেছে সংবাদ পত্রের হেডলাইনে, ন্যায়বিচারের আশা আবার

নিট কেলেঙ্কারি : রি-নিটের প্রশ্নও বিক্রির জন্য অফার! প্রশ্ন ফাঁসের চক্র রুখবে কে?

June 12, 2026 No Comments

ফের এ বছরেও চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটল। এই বছরে নিয়ে গত পাঁচ বছরে চতুর্থবার। এর জন্য প্রশ্ন তৈরি করে

সাম্প্রতিক পোস্ট

স্বাস্থ্যভবন থেকে সরাসরি আমাদের বক্তব্য

West Bengal Junior Doctors Front June 13, 2026

ক্ষমতার অসীম বিশ্বে ফুটবল এবং ব্যাডমিন্টন

Dr. Jayanta Bhattacharya June 13, 2026

বিচারহীনতার বিরুদ্ধে অভয়া মঞ্চের আপসহীন লড়াই

Abhaya Mancha June 12, 2026

২২ মাস হয়ে গেল, বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি আমরা

West Bengal Junior Doctors Front June 12, 2026

নিট কেলেঙ্কারি : রি-নিটের প্রশ্নও বিক্রির জন্য অফার! প্রশ্ন ফাঁসের চক্র রুখবে কে?

Parichay Gupta June 12, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

630606
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]