আজকের মিটিং থেকে যেটা খুবই স্পষ্ট, তা হলো, মাননীয়া অভিযুক্তদের পাশে আছেন (মুখে যা-ই বলুন না কেন)। থ্রেট সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটা উনি যথাসম্ভব জটিল করবেন, এবং মুখে না বললেও, থ্রেট সিন্ডিকেটের পাণ্ডাদের উনি যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবেন (কে জানে! এছাড়া হয়ত ওঁর উপায়ও নেই)।
সুতরাং, এই ‘আলোচনা’ থেকেও এ-ও স্পষ্ট, যে, ভয় দেখানোয় বিশ্বাসী যারা, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা মাঠে নেমে সরাসরি লড়ার লড়াই। সরকার বা প্রশাসনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বা আদালতে সরকারের অঢেল বাজেটের সাহায্যে দাঁড় করানো ওজনদার উকিলের বিরুদ্ধে লড়াই করে শাসকের মদতপুষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিততে পারা – শাসকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয়ে চলা থ্রেট সিন্ডিকেটকে হারাতে পারা – মুশকিল। না, মুশকিল নয়, অসম্ভব। অপশাসনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইটা – দলীয় রাজনীতির পতাকা নিয়েই হোক বা পতাকা ছাড়া – দিনের শেষে রাজনৈতিক লড়াই।
আরও একটা কথা।
ডাক্তারবাবুরা একটু নিজেদের দিকেও তাকান, প্লিজ। ওই যে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন না,
“বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।”
তো দিকে দিকে শিরদাঁড়া বিতরণ করে কী হবে?! নিজেদের স্যার/ম্যাডামদের দিকে, নিজের নিজের কলেজের প্রশাসকদের দিকে একটু তাকান। আজ মিটিংয়ে উপস্থিত অধ্যক্ষদের দিকে একটু দেখুন! বাকি মিটিংয়ের কথা তো ছেড়েই দিন, প্রিন্সিপালের ক্ষমতার পরিসর কী বা কলেজ কাউন্সিল বলতে কী বোঝায় ও তার দায়দায়িত্ব কতখানি, এমনকি এসব প্রশ্নের সময়ও অধ্যক্ষদের নীরবতা তো বটেই, মুখের চেহারা তথা শরীরী ভাষা দেখেও স্তম্ভিত হতে হয়। এককথায়, their silence was deafening.
সত্যি বলছি, দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপালরা যেখানে বসেছিলেন, ওদিকটায় রুম ফ্রেশনারের মতো করে যদি জাপানি তেল স্প্রে করে দেওয়া যেত, তাহলে হয়ত… নাহ্, থাকগে! মাথা গরম করে মুখ খারাপ করাটা কাজের কথা নয়।








