বেশি শীত পড়লেই অনেকে রাত্রের বেলা মদ্যপান করেন। মদ্যপান করলে শীতবোধ অনেক কমে যায়। ইংরেজি সিনেমায় আমরা হামেশাই দেখি বরফের মধ্যে হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য তাকে মদ বা ব্রাণ্ডি খাওয়ানো হচ্ছে।
আদৌ কী মদ্যপান করে হাইপোথার্মিয়া আটকানো যায়?
উত্তরঃ আটকানো যায় না। বরঞ্চ হাইপোথার্মিয়ার সময়ে মদ্যপান করলে লাভের বদলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
মদ্যপানের ফলে ত্বকের নিচের রক্তবাহী নালীগুলি প্রসারিত হয়। ফলে ত্বকের নিচের রক্তচলাচল বাড়ে।
রক্ত চলাচল বাড়ার ফলে সাময়িকভাবে একটা গরমের অনুভূতি হয়। এবং অত্যধিক ঠান্ডায় আরাম বোধ হয়। কিন্তু এতে লাভের থেকে ক্ষতি বেশি হয়।
এর কারণগুলি হলো
১) মিথ্যে গরমের অনুভূতি:
আগেই বলেছি ত্বকের নিচের রক্ত নালীগুলি প্রসারিত হওয়ার ফলে ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে গরমের অনুভূতি হয়। কিন্তু দেহের অভ্যন্তর থেকে ত্বকের নিচে বেশি রক্ত চলে আসায় দেহের ভেতরের তাপমাত্রা কমে যায়। ফলে হাইপোথারমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
২) অতিরিক্ত তাপ নিঃসরণ:
ত্বকের নিচে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীর থেকে অনেক বেশি তাপ প্রকৃতিতে বেরিয়ে যায়। ফলে দেহ আরো ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
৩) মনের বিচারহীনতা এবং ঝুঁকি গ্রহণঃ
মদ্যপ ব্যক্তি অনেক সময়ই শীতের অনুভূতি হারিয়ে ফেলে। বরং জামা কাপড় ছাড়াই অত্যধিক ঠাণ্ডার মধ্যে বাইরে থাকে। যার ফলে হাইপোথারমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়।
৪) ডিহাইড্রেশনঃ
মদ ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ মদ্যপান করলে প্রস্রাব বেশি হয়। ফলে দেহ থেকে জল বেরিয়ে যায়। দেহে জলশূন্যতা তৈরি হয়। যার ফলে হাইপোথারমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
মোদ্দা কথা হল, মদ্যপান করলে সাময়িকভাবে অত্যধিক ঠাণ্ডাতেও গরমের অনুভূতি হয়। কিন্তু এটি কোনভাবেই হাইপোথারমিয়াকে আটকাতে পারে না। বরঞ্চ অতিরিক্ত শীতে মদ্যপান করলে হাইপোথারমিয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।










