Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

হকার উচ্ছেদ: বদলে গেছে বাঙালি, বঙ্গ মিডিয়া বুলডোজার এখন এই রাজ্যে “নিউ নরমাল”

Oplus_131072
Parichay Gupta

Parichay Gupta

My Other Posts
  • June 6, 2026
  • 7:26 am
  • One Comment

হকার উচ্ছেদ বাঙালির সামনে বাঙালিকে দাঁড় করিয়ে দিল। সামনে এনে দিল একটা গভীর প্রশ্ন: বাঙালি কি বদলে গেছে? কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের অমানবিক মুখই শুধু নয়, হকার উচ্ছেদ ঘিরে স্পষ্ট হল বাংলার মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা, শিক্ষিত নব্য প্রজন্মের একাংশ ও বাংলা মিডিয়ার চরিত্র।

ক্ষমতায় এসেই গরীবের উপর এমন অমানবিক অত্যাচার কোনো সরকার করতে পারে, সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অথচ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিপুল জনাদেশ পাওয়া একটি সরকার বিজয় উল্লাসে সেটাই করে চলেছে। । ৪ ঠা মে বিজেপির ক্ষমতায় আসা স্পষ্ট হতে না হতেই রাজ্যজুড়ে হিন্দুত্বের তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। তারই সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল সেই রাত থেকেই রেলের উচ্ছেদ অভিযান। বুলডোজার চলল সেই রাতে বালি স্টেশনের রাস্তার দুপাশে। সমস্ত দোকান, ঝুপড়ি, সাইকেল গ্যারেজ থেকে যা কিছু ছিল সব মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হল। কাউকে আগাম জানানো হয়নি। আক্রান্ত হকার ও ছোটছোট দোকানদারের যত সামান্য সম্বল মাটিতেই মিশে গেল।

তারপর থেকেই বিভিন্ন রেল স্টেশনে মাঝরাত্রে অপারেশন চলছে।দোকান ও স্টেশন এলাকায় রেলের জমিতে গড়ে ওঠা দোকান বুলডোজার দিয়ে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাটিতে। হাওড়া শিয়ালদা স্টেশন থেকে শুরু। ওই দুই ডিভিশনের নানা লাইনের অসংখ্য স্টেশনে উচ্ছেদ নোটিস ধরানো হয়েছে। হাওড়া এবং কোথাও কোথাও আদালতের স্থগিতাদেশ মিলেছে। কিন্তু পুনর্বাসন বা অন্তত মাস খানেক সময় দিতে কর্ণপাত করছে না রেল। এই অবস্থায় হকারদের পাশে এসে দাঁড়ালো একমাত্র বাম দলগুলি। সিপিএম ও অন্য সব বাম দল আন্দোলনে নেমে পাল্টা প্রতিরোধের হুমকি দিল, মিছিল মিটিং, কোথাও কোথাও সিটুর নেতৃত্বে রাত জেগে পাহারা, কিন্তু হাজার হাজার হকার ও রেল জমিতে বসবাসকারী মানুষকে ছিন্নমূল হওয়া থেকে আটকানো গেল না। রেলের উচ্ছেদ চলছে।

এই সরকার মানুষের কথা শুনতে আসে নি। গরীবের মুখের ভাত কেড়ে নিতে দ্বিধা করে না। তাদের মতে, উন্নয়ন আর সৌন্দর্য আগে, গরিবের অন্ন, বেঁচে থাকার লড়াই বাদ দিয়েই হবে উন্নয়ন। তাই একটার পর একটা স্টেশনে উচ্ছেদ নোটিস ধরানো হয়ে গেছে। হাওড়া স্টেশনের চত্ত্বরে, যাদবপুর, বালিগঞ্জ, জয়নগর, কল্যাণী, এরকম কয়েকটা স্টেশনে হকারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আপাতত আটকেছে উচ্ছেদ অভিযান। কিন্তু তা কি স্থায়ী হবে? শেষ পর্যন্ত কী হবে? এই আশঙ্কা নিয়েই সেখানে হকাররা রয়েছে।

পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে রেলের জমিতে বসবাস। স্টেশনে দোকানদারি। এভাবে কয়েকদিনের নোটিশে উঠে যেতে বাধ্য হতে হবে, কেউ ভাবতেও পারেনি। যাঁরা আজ উচ্ছেদ হচ্ছে, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ হিন্দুদের সরকার হবে আর অন্নপূর্ণা ভান্ডারের দ্বিগুণ ভাতা পাওয়ার আশায় ভোট দিয়েছিল বিজেপিকে। আজ ভোট শেষে বিজেপি সরকারে আসতে না আসতেই তারাই চরম অনিশ্চয়তা, তীব্র উৎকণ্ঠা আর অসহায় বিপন্নতা নিয়ে রাত জাগছে। অনেকে আত্মহত্যাও করেছে।

উচ্ছেদ হওয়া বা নোটিস পাওয়া হাজার হাজার মানুষ কোথায় যাবে? এই প্রশ্নেও বাঙালি দ্বিধাবিভক্ত। অদ্ভুত নিস্পৃহতা দেখল বাংলা। প্রগতিশীল চেতনা, রবীন্দ্র সঙ্গীতে মুগ্ধ, চৈতন্য-রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ-বিদ্যাসাগরের মানবতায় বিশ্বাসী বাঙালি উচ্ছেদের প্রশ্নেই আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেল!!একদিন যে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে থেকে মুক্তির সন্ধানে বিপ্লবের ডাক উঠেছিল, আজ তাদেরই একাংশ এখন হকার উচ্ছেদের পক্ষে সমাজ মাধ্যমে গলা ফাটাচ্ছে! ভুলে গেছে মানবাধিকার, বিপন্ন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের দায়। সবেতেই মমতা, তৃণমূলের দুর্নীতির ইস্যু তুলে তারা বলতে থাকল: রেলের জমিতে এতদিন ওরা বসতে দিয়েছে। তোলাবাজি চলত। স্টেশনে হকার কেন থাকবে? এরা বুঝতেই চায় না: শিক্ষিত, অশিক্ষিত যাই হোক, রাষ্ট্র এদের চাকরি দিতে পারেনি বলেই এরা হকার। এরা তারাই যাদের নিজেদের জমি বা দোকান কেনার ক্ষমতা নেই। এরা গরিব। এরা পেটের দায়ে বাঁচার অন্য কোনো সদুপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই হকার হয়েছে। এটা তাদের বোঝায় কার সাধ্য?!
.

হকার উচ্ছেদের পক্ষে যারা তাঁদের আরও বক্তব্য তীক্ষ্ণ: তাঁদের বক্তব্য: রেলকে উন্নয়ন করতে হবে। তাই এদের তোলা দরকার। তাতে স্টেশনে যাতায়াতের জায়গা বাড়বে, স্টেশন সুন্দর পরিচ্ছন্ন থাকবে। কিন্তু এই হকার না থাকলে যে গভীর রাতে বা ভোরে নির্জন স্টেশনে নিরাপদ যাতায়াত করা যেত না, সস্তায় পেট ভরা খাবার পাওয়া যেত না, এসব কে শোনে? উল্টে হকার উচ্ছেদের পক্ষে সমাজ মাধ্যমে বিজেপি নেতারা বলা শুরু করলেন: হকাররা মোটেই গরীব নয়। তারা অনেকে আমাদের চাইতেও বেশি আয় করে, যথেষ্ট আয় করে। একেকজন দিনে হাজার হাজার টাকা আয় করে। নেতাদের এসব কথা শুনে অনেকেই সমাজ মাধ্যমে হিসেব করে দেখাতে শুরু করলেন, কচুরি বিক্রি করলে মাসে লাখ টাকার আয় হয়। হকার উচ্ছেদের নির্মমতার জন্য যাঁরা সমবেদনা জানাল, তাঁদের উপর শুরু হল প্রবল আক্রমণ। বলা হতে থাকল, এত যখন দরদ, তাহলে হকারদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। নিজের জমিতে থাকতে দিন। বাড়ির সামনে বসতে দিন। এমন মন্তব্যও প্রচুর লাইক পেল!

কান্নায় ভেঙে পড়া হকার ভাইদের ছবি তুলে যাঁরা সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করলেন, তার নিচে লেখা হতে থাকলো, পড়াশুনো শিখিসনি কেন? তাহলে তো চাকরি করতে পারতিস! আন্দোলনকারী সিপিএম নেতৃত্বের ছবির নিচে লেখা হল: এরা গরীবের পার্টি, তাই রাজ্যটাকে গরীব করেই রেখেছিল। হকারদের জন্য লড়াই করা ঐক্যবদ্ধ বামেদের আন্দোলনের নিচে শিক্ষিত বাঙালি যুব সমাজের একাংশ লিখে গেল: এই জন্যেই বামেরা শূন্য!!

অর্থাৎ এক নতুন অসংবেদনশীল বাঙালির আত্মপ্রকাশ ঘটল হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে। স্পষ্টতই এই উচ্ছেদ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বাঙালি।
গুড়িয়ে দেওয়া স্টলের দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ বলল: এরপর রেলের অনেক ডেভেলপমেন্ট হবে, এসি ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে! হকার উচ্ছেদ নিয়ে সমাজ মাধ্যমে প্রতিবাদ দেখলেই এরা লিখছে, বাংলাদেশে যখন হিন্দুরা মার খায়, তখন কোথায় থাকে মানবতা? ।বিজেপি বুঝে গেল, নৈতিক দিক থেকে তারাও সমর্থন পেয়ে গেছে মধ্যবিত্ত বাঙালির একাংশের।। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেই দিলেন: হকার কেউ গরিব না। ওরা আপনাদের থেকে বেশি রোজগার করে!.

দমদমে উচ্ছেদ শেষ। এখন মেট্রোর টিকিট কাউন্টারের সামনে কোলে বাচ্চা নিয়ে যুবতী হকার ভিক্ষে করছে। এতদিন যাঁরা ওখানে দোকান করতেন, অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধা যাঁদের চা ঘুগনি রুটি বিক্রি করে চলত, তারা এখন ভেঙে দেওয়া দোকানের সামনে রাস্তায় বাটি নিয়ে বসে ভিক্ষে চাইছে। এম এ পাশ এক উচ্ছেদ হওয়া দমদমের হকার যুবক হাউ হাউ করে কাঁদছে। বলছে: আমি অনেক চেষ্টা করে কোথাও চাকরি না পেয়ে স্টেশনে দোকান দিয়েছিলাম। আমার দুটো বাচ্চা, বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, মা, এখন কী করব? তাদের ওষুধ কিনব কি করে! খাওয়াই তো জুটছে না! গোবরডাঙ্গায় স্টেশনের হকার,  সংলগ্ন বাজারের দোকানি সহ মোট বারোশ মানুষ রুটি রুজি হারাবে। তারা প্রতিবাদে রেলের উপর শুয়ে ধরনা দিচ্ছেন! বলছেন, রেলেই গলা দেবেন!

মর্মন্তুদ বুক ফাটা এমন কান্নার ছবির নিচেও বহু বাঙালির নব্য প্রজন্মের কমেন্ট: যা মর , মর। রেলের জমি দখল করেছিলি কেন? এতদিন নিজের ব্যবস্থা করে নিসনি কেন! চিরকাল এভাবেই চলবে? কেউ কেউ বলছে, স্টেশনে দোকান যাঁদের, সেটা তারা ভাড়া খাটায়! হকার কেউ গরীব লোক নয়।

না এরা কেউ বিজে mপি কর্মী নয়। বিজেপি আই টি সেলের প্রোপাগান্ডা নয়। হকার উচ্ছেদ না হলে সত্যিই বোঝা যেত না বাঙালির নতুন প্রজন্ম কত অমানবিক হয়ে গেছে, সামাজিক মাধ্যমে এখনকার যুব সমাজের এমন শতশত কমেন্টস না দেখলে বিশ্বাস হতো না যে বাঙালি দেশের কল্যাণে প্রাণ দিত, সেই বাঙালি আজ এতটাই সংবেদনহীন, সহমর্মিতাহীন ।

ভোটে বাঙালির দুহাত তুলে রাজনৈতিক সমর্থন বিজেপি এমনি এমনি পায়নি। বোঝা যাচ্ছে, তীব্র শ্রেণীবিভাজন ঘটে গেছে বাঙালির মধ্যে। যাঁরা প্রবল হিন্দুত্ব, আগ্রাসী দেশপ্রেম, সরকারের অত্যাচারের সমর্থনে উগ্রতা প্রদর্শন করছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ধর্মীয় হিংসাকে নিন্দে করতে গিয়েই এই রাজ্যে এরকম কিছু হলে ঠিক হতো বলে বলছেন, তারা বুঝে বা না বুঝে একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় হিংসার অনুমোদন ও খুল্লামখুল্লা মৌলবাদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। ফলে দ্রুত বাংলার সামাজিক পরিবেশ সাম্প্রদায়িক দূষণে দূষিত হয়ে যাচ্ছে। হকার উচ্ছেদ নিয়ে বাঙালির স্বতস্ফূর্ত সমর্থন দেখলে বিশ্বাস হবে না এই বাংলার মাটিতে সর্বহারা মানুষের সমর্থনে একসময় মিছিল হয়েছে, গণ আন্দোলন গণ সংগ্রাম হয়েছে।

এখন সেইখানেই সহমর্মিতাহীন, মৌলবাদী এবং কর্পোরেট উন্নয়নমুখী উন্নয়নের প্রবল সমর্থক হয়ে উঠেছে বাঙালির নতুন প্রজন্ম। এ এক বড় আশঙ্কার কাল।

তাই বোধহয় বদলে গেল এক মাস যেতে না যেতেই বাংলার মিডিয়া। তারা হাওয়া মোরগ এবং ক্ষমতার মুখপত্র! তাই কাগজে খবর নেই হকার আন্দোলনের। হকার উচ্ছেদ রুখে দিল বামেরা কল্যানিতে, সোদপুরে, যাদবপুরে, তাই নিয়ে খবর নেই। কলকাতায় হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সব বাম দলের ঐক্যবদ্ধ দীর্ঘ মিছিল বের হল। কলকাতার রাজপথে কাতারে কাতারে বিপন্ন মানুষ, লাল পতাকা হাতে তাঁদের দৃপ্ত কণ্ঠে উচ্ছেদের প্রতিরোধে এগিয়ে চলা কিন্তু খবর হল না। প্রতিবাদী মিছিল স্তব্ধ করে দিল যানবাহন। তবুও এক লাইনেরও সংবাদ হল না আনন্দবাজার, এই সময় পত্রিকায়। বাঙালির মধ্যবিত্ত মনন ও চেতনার কারিগরদের কাছে, গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী রক্ষাকর্তা বাংলার মিডিয়ার কাছে হকাররাও ঘুষ্পেটিয়াদের মতোই উইপোকা!

বিজেপি নিশ্চয়ই বদলে যাওয়া বাঙালির এই পালস বুঝতে পেরেছিল। তাই ভোটে জেতার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এতে মধ্যবিত্ত বাঙালির একাংশ সত্যিই তৃপ্ত। তারা এর মধ্যেই উন্নয়নের ঝিলিক দেখতে পারছে। জনমানসে এমন অনুকূল প্রতিক্রিয়া দেখেই রাজ্য সরকারও শুরু করেছে বুলডোজার – উন্নয়ন। তিলজলার পর বর্ধমান, বহরমপুর সহ বিভিন্ন শহরে রাস্তার দুপাশে বুলডোজার অভিযান চলছে। ভাঙ্গা শুরু হয়েছে।

রাজ্য সরকার বলা শুরু করেছে, রাজ্যের সব রাস্তায় ,ফুটপাথে, পি ডাবলু ডি জমিতে কোনো দোকান বাড়ি নির্মাণ থাকলে ভেঙে সাফ করে দেওয়া হবে। সাফ করে দেবে নাকি কলেজ স্ট্রিটের বাঙালির প্রাণ পুরোনো বইয়ের প্রেসিডেন্সি গ্যালারি থেকে রাস্তার পাশে থাকা সব গুমটি, বই হকার।

রাজ্য জুড়েই এখন তাই উচ্ছেদ আর ভাঙনের উৎসব।
.নতুন বাংলা গড়ার যজ্ঞে প্রথম আহুতি হকার। হাজার হাজার হকারকে বানানো হল বেকার। রেল জমিতে থাকা মানুষদের বানানো হল উদ্বাস্তু।
অথচ শুধু মানসিকতাটা বদলে ফেললে: সব বেআইনি দখলদার হকারকেই উন্নয়নের বন্ধু করে ফেলা যেত। তাতে তারাই অগ্রগতির গতি বাড়িয়ে এই সরকারের উন্নয়নে পরম বন্ধু হয়ে দুহাত তুলে সমর্থন করত।। উচ্ছেদ করার আগে দরকার ছিল পুনর্বাসন। সকলকে একটা করে দোকান বা ঘর তৈরি করে দেওয়া। বিনিময়ে সেলামি বা লিজ দিয়ে রেল নিজেও আয় করতে পারত। রেল বানাতে পারত তার জমিতেই ঘর হারাদের জন্য পি এম আবাস যোজনায় সস্তায় ফ্ল্যাট, হকারদের মুদ্রা লোন দিয়ে চালু হতো অনেক উৎপাদনমুখী কেন্দ্র, তৈরি হতে পারে হকার্স মার্কেট,উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য।। তাতে রাজ্য জুড়েই এরকম হকারদের নিয়ে প্রকল্পে আরও বেশি উৎপাদন, বেচাকেনা চলত, আরও বেশি কর্মসংস্থান হত। এভাবে বিকল্প পথেই হকার তুলে তাদের পূর্ণ সমর্থন নিয়েই নতুন বাংলা গড়ার বার্তা দেওয়া যেতে পারত। তাতে উন্নয়ন হতো সকল মানুষকে নিয়ে।

কিন্তু এই সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় গরীব হটাও, সেটা কেবল কিছু মানুষের জন্য। নিজের পছন্দের শ্রেণী, উচ্চবিত্ত, কর্পোরেট নিয়ে হবে উন্নয়ন। স্টেশনে স্টেশনে হবে ঝাঁ চকচকে বার্গার, পিজা, ওয়াও মোমো, নেসক্যাফে স্টল। হতে পারে মহেন্দ্র দত্ত, খাদিম, কিংবা লেন্স কার্ট, ডাকব্যাগ, ভি আই পি, টাইটান, পি সি চন্দ্র, অঞ্জলি জুয়েলার্স এরকম শতেক ব্র্যান্ড। আসলে চাই স্টেশনে – বাজারে ব্র্যান্ডেড উন্নয়ন। অনিবার্য তাই হকার উচ্ছেদ। গরিবের ঝুপড়ি, অস্থায়ী স্থায়ী ঘর যা কিছু সরকারের জমিতে সব ভেঙে ফেল। বড্ড নোংরা লাগবে নয়ত!

বুলডোজার তাই চলছে। চলবে। বাংলার উন্নয়নে এটাই নিউ নরমাল।

PrevPreviousOCD কী?
Nextহক আর কানুনNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Dr. Jayanta Bhattacharya
Dr. Jayanta Bhattacharya
1 month ago

ভালো লেখা।

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে নিজেদের এজেন্ডা পূরণ করবেন না।

July 16, 2026 No Comments

একদিন সকালে ক্যাথল্যাব শুরু হবে, খবর আসে একজন প্রথম বর্ষের ছাত্র পরীক্ষা দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে, তাকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হচ্ছে। এটা কিন্তু কোনো

ভালবাসি জীবনকে আর মৃত্যুকে।

July 16, 2026 No Comments

ভালবাসি জীবনকে আর মৃত্যুকে। ভালবাসি শান্তিকে আর অবিশ্রান্ত সংগ্রামকে। যে ভালবাসতে জানে, সে সবকিছুই ভালোবাসে। মায়ের কোলের স্মৃতি থেকে আগুনে পুড়তে পুড়তে তার লেলিহান শিখা-

সংগ্রামী গণ মঞ্চের আহ্বান

July 16, 2026 No Comments

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, এনটিএ (NTA) বাতিল এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে লাগাতার বিক্ষোভ ও অনশন

কলকাতা হত্যাকাণ্ড, যুক্তবঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ একটি হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনার ইতিহাস (২)

July 15, 2026 No Comments

৪৬-এর দাঙ্গা, দেশভাগ, এবং বাংলাভাগ নিয়ে সম্প্রতি হঠাৎ করেই প্রবল আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতিহাস নিয়ে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হলে তা অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই

Tales of Hope

July 15, 2026 1 Comment

Dastaan-e-Ummeed Struggles for Resilience, Hope and Justice Vikas Bajpai AfterNote Press Price: Rs. 1600.00 Presenting a book authored by one of my junior comrade–Dr. Vikas

সাম্প্রতিক পোস্ট

একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে নিজেদের এজেন্ডা পূরণ করবেন না।

Dr. Subhanshu Pal July 16, 2026

ভালবাসি জীবনকে আর মৃত্যুকে।

Dr. Aindril Bhowmik July 16, 2026

সংগ্রামী গণ মঞ্চের আহ্বান

Sangrami Gana Mancha July 16, 2026

কলকাতা হত্যাকাণ্ড, যুক্তবঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ একটি হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনার ইতিহাস (২)

Kanchan Sarker July 15, 2026

Tales of Hope

Dr. Punyabrata Gun July 15, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

650785
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]