এ পেশায় ইশারাই কাফি।
মুহূর্তে খুলে যাবে লক্ষ্মীর ঝাঁপি, দুয়ারে দাঁড়াবে এসে কমিশন হাতে করে ল্যাব-সেন্টার,
দুহাতে লুটতে পারো যাতে এন্তার, ব্যবস্থা পাকা করা সবই..
রক্ত পরীক্ষা থেকে এম আর আই ছবি,
সবেতেই ‘কাট-মানি’ , সেটাও আসবে জেনো সাদা ধবধবে খামে ব্যাংকের চেক-এ…
তৃতীয় রিপুকে দুই থাপ্পড় মেরে যে থামাতে পারে সেই চড়া হাঁক তার..
বাকিরা ডিগ্রিধারী, সে-ই ডাক্তার।
এ পেশায় টার্গেট দেবে কর্পোরেট।
‘দৈনিক দশখানা এম আর আই চাই, টেস্টে ওঠাতে হবে আধা লাখ মতো’
মালিকের খিদে ছটফট পেট , দৈনিক কিছু কোটি হলে সেটা মেটে অন্তত,
দেখবেন দরকার হোক বা না হোক,
সব টেস্ট করা চাই, ব্যাংক-কে নিংড়ে দিয়ে ফিরুক গ্রাহক।’
এরকম ভদ্র হুকুম আর আবছা হুমকিগুলো দিতে আসবেন ম্যানেজার,
ডাক্তার কেউ নয়, চাকার কেবল এক সাধারণ স্পোক ,
এই কথা বুঝবার বড় দরকার।’
এ সময়, চোয়াল শক্ত করে যে শুধরে দিয়ে বলে
‘গ্রাহক না, মানুষ, যে আপাতত রোগী’
সে-ই শুধু ডাক্তার, বাকিরা পোষ্য মোটা বেতনের ভোগী।
রাজনৈতিক নেতা তুলে ফোন, করবেন প্রায়ই জ্বালাতন।
মরে গেলে সাংবাদিক দিগবিদিক ভুলে লিখবেন ‘ ভুল চিকিৎসা’
তিনিও বেতনভোগী, কোন সংবাদে বেশি
টি আর পি -আশা,
খবরের পেট টিপে বুঝতে দেরি না, মৃত্যুকে গাফিলতি মানে জনগণ,
সুতরাং .. চলছে ও চলবে অ-তদন্ত কুৎসা ।
প্রতিটি ব্যর্থতা চাবুক চালাবে,
ফেল করা মাত্রই কিছু ফোনে নম্বর নির্বাসনে যাবে,
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা লহমায় বদলাবে খোলা বিদ্বেষে,
প্রিয়জন চলে গেলে সবার বিচার হয় ভারী একপেশে,
মনুষ্যচরিত সেটাই,
দোষ কারো ঘাড়ে দিয়ে কমবেশি সকলেই ঝালটা মেটাই।
এসবের চাপ সামলিয়ে,
মগজের ফাঁকা স্লেটে নতুন রোগীর
সিম্পটম যে লেখে,
সে-ই ডাক্তার।
নিত্য বিদ্ধ হয়ে ক্রুশের পেরেকে,
তবু সে রক্তধারা রুমালে লুকিয়ে ফেলে
মানুষের হয়ে ফের যে মানুষ লড়ে যেতে শেখে,
NEET এ ফল যাই হোক, ‘প্লেন’ এম বি বি এস হোক,
খুঁজে পেতে সেই লোক,
জ্ঞান আর মননের নিও ভাগ তাঁর।
কোটি ও কোটা’র যুগে ডিগ্রি আসতে পারে সহজে পকেটে।
রেটিং জেনো না কারো ইন্টারনেটে,
ছোঁয়া আর ব্যবহারে বুঝে যাবে নিশ্চিত,
সেই ভিড়ে রয়েছেন কে কে ডাক্তার।










