নেহাতই ছোট্ট ব্যাপার। নারীদিবসের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে লেখা হয়েছিল – International Working Women’s Day. অমনি সেই লেবু আবার বেরিয়ে এলো কচলানোর জন্য – আহা, ওয়ার্কিং কেন, এতে তো অর্থটা সীমিত হয়ে যাচ্ছে, ইত্যাদি প্রভৃতি।
বুঝলাম, ‘ওয়ার্কিং’ শব্দটা প্রিভিলেজপ্রাপ্তদের চোখে আঁশটে লাগে। চিরকালই। এখনও। অথচ নারীদিবসের ইতিহাসের খোঁজখবর রাখলে শব্দটা যে জরুরি, তা জানা কঠিন নয় – অবশ্য নামের সঙ্গে দু-চারটে ডিগ্রি থাকলেই খোঁজখবর নিয়ে কথা বলতে হবে, এমন মাথার দিব্যি আজকালকার বাজারে কে-ই বা দিচ্ছে!
এবং এ-ও বোঝা গেল, এঁরা ‘ওয়ার্কিং’ বলতে সকাল থেকে রাত্তির অব্দি বাড়িতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেন যে নারীরা, তাঁদের শ্রম-কে বোঝেন না। অথচ, নীতাভাবী-র মতো বিরল ব্যতিক্রমী কয়েকজন বাদে (যদিও আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে তিনিও ‘ওয়ার্কিং’) নারী মাত্রেই ‘ওয়ার্কিং’ – চোখকান এবং মন খোলা রাখলেই সেটুকু বোঝা কঠিন কিছু নয়। কিন্তু… যাক গে!
লেবু আরও খানিক কচলানোর পর বেরিয়ে এলো প্রত্যাশিত সেই বাণী – পুরুষদের দ্বারা নারীরা শোষিত হচ্ছে যেমন, ঠিক তেমনই নারীদের দ্বারা পুরুষও অত্যাচারিত হচ্ছে, সুতরাং আলাদা করে নারীদিবসের কথা না বলে একটা ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান ডে’-র কথা ভাবা হোক!
কী আর বলি! এঁদের কী করে বোঝাই, নারীদিবস বলতে আলাদা করে নারীদের বিশেষ প্রিভিলেজ দেওয়ার কথা ভাবা নয় – নারীদের যাতে আলাদাভাবে নারী হিসেবে না দেখে পুরুষদের সমান হিসেবে দেখা হয়, অর্থাৎ লিঙ্গনির্বিশেষে মানুষ হিসেবে যাতে তাঁদের দেখা হয় এবং সেইরকম লিঙ্গনির্বিশেষ সুযোগসুবিধা যাতে তাঁরা পেতে পারেন (যেটা পুরুষ হয়ে জন্মানোর কারণে আমরা জন্মাবধি পেতে পেতে অভ্যস্ত হয়ে যাই) – আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারীদিবসের মূল স্পিরিট বলতে এটাই।
অর্থাৎ, নারী হোক বা পুরুষ (অথবা তৃতীয় লিঙ্গের কেউ), মানুষ মানুষই। সম্মানে, অধিকারে, নিরাপত্তায় – সকলেই সমান। দাবিই বলুন বা লক্ষ্য – এটুকুই। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যাঁরা অনেকখানি পিছিয়ে আছেন, তাঁদের কথা একটু হলেও বিশেষভাবে ভাবা জরুরি। অর্থাৎ এক আকাশের নিচে জন্ম নেওয়া সব মানুষ সমান – এই সত্যকে বাস্তবতায় পরিণত করার জন্যই আজকের দিনটা আলাদা করে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি।
হ্যাঁ, আজ আট-ই মার্চ। সবাইকে আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবসের শুভেচ্ছা।
৮ মার্চ ২০২৫












🙏🙏🙏 বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।