মেয়েটা খুন হয়ে গেছে প্রায় সাত মাস হলো। অপরাধী হিসেবে একা সঞ্জয় রাই এখনো সামনে। তিনহাত গামছা দিয়ে আব্রু ঢাকতে গেলে যা হয়, ঊর্ধ্বাঙ্গ ঢাকতে গিয়ে সবার নিম্নাঙ্গ দিনের আলোয় চলে এসেছে। আমজনতার সামনে পুলিশ প্রশাসন তদন্তকারী সংস্থা সবাই বেআব্রু হয়ে পড়েছে। এদের ভেতরের সেটিং আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধ বান্ধব অবস্থান এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
রাস্তায় একটা কুকুর মরলে সেটা নিয়ে পশুক্লেশ নিবারণের লোকজন আওয়াজ তোলে। জ্বলজ্যান্ত মেয়েটা মরেছে, কিন্তু আমাদের দেশের মহান প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটিও বাক্য ব্যয় করেনি। মেয়েটার বাবা মা কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একবার সাক্ষাত করতে চেয়েছিলেন। তারও সুযোগ তাদের দেয়া হয়নি। কদিন আগে দিল্লিতে পুনরায় মৃতার বাবা মা প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির স্বরণাপন্ন হন একবার দেখা করার জন্য। রাষ্ট্রপতির সময় হয়নি এবং প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে হিরন্ময় নীরবতা নিয়ে তারা ফিরে এসেছেন।
রাজ্যের বিষয়ে বিশেষ কিছু বলবো না। ঘটনার প্রেক্ষিতেই ধীরে ধীরে উন্মোচন হবে। একটি পয়েন্ট শুধু বলবো, যে আশীষ পান্ডে জেল খাটছে সে শাসক দলের ছাত্রনেতা, আর প্রমাণ লোপাট আর অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে তদন্তাধীন সন্দীপ ঘোষ সরকারের বিশেষ ঘনিষ্ঠ।
না এসব নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। জীবনের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি একজন বাঙালী মেয়ে এবং ডাক্তারের রাষ্ট্রের কাছে দাম ঠিক কতটুকু।
মেয়েটা যে আদৌ মরেছে তার কোনো সরকারি প্রমাণ এখনো মৃতার বাবা মায়ের হাতে নেই। তিলোত্তমার ডেথ সারটিফিকেট রাষ্ট্র এখনো তিলোত্তমার বাবা মাকে দেয়নি। তারা এখনো সরকারিভাবে জানেনা না তাদের মেয়ের মৃত্যু কোথায় হয়েছে আর কখন হয়েছে।
দোষী বলে একজনের বিচার এবং সাজা হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো অপরাধ ঠিক কোথায় হয়েছে আর কখন হয়েছে সেটা অজানা। আরো অজানা শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীর সঙ্গে আর কে ছিলো, কারা অপরাধ ঘটাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে, এবং কারা প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে জড়িত। আমরা এখনো জানিনা মৃতার ভিসেরা আদৌ পাঠানো হয়েছে কিনা এবং পাঠানো হয়ে থাকলে তার রিপোর্ট কি।
আমরা আরও জানিনা যে মানুষগুলোর ওখানে আদৌ থাকার কথা নয় তারা কিভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৃতদেহের চারদিকে হাজির হয়েছিল।
এখনো অজানা কে বা কারা মৃতার ল্যাপটপ মোবাইল এর জলের বোতল থেকে আঙুলের ছাপগুলো মুছেছে। এটাও অজানা থেকেছে কারা এই অপরাধ স্থল সাজিয়েছে।
তিলোত্তমা মরেছে, কিন্তু জন্ম দিয়ে গেছে হাজারো প্রশ্নের।এই প্রশ্নের কোলাজ ফুটিয়ে তুলেছে আমাদের প্রশাসন সমাজ বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক দল সবার আসল চেহারা।
বিচার হয়তো আমরা পাবো না। কোনো প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনোদিন মিলবে না। তবুও ঘটনার বিবরণ আর প্রশ্নের সম্ভার সাজিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে কোনো গবেষক হয়তো সেটা দেখবে। দেখে হয়তো বিশ্লেষণ করতে পারবে ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে একজন ডাক্তার মেয়ে খুন হলে সমাজ আর রাষ্ট্র কিভাবে সত্যি ধামাচাপা দিতো।
এবার ধীরে ধীরে চেষ্টা করবো তিলোত্তমা কেসের ঘটনাবলি কিভাবে সময়ের স্রোতে বয়ে গেছে তার একটি কালানুক্রমিক খতিয়ান তৈরি করতে। যার নাম দিয়েছি তিলোত্তমা ডায়েরি।











🙏🙏