আমার প্রথম পোস্টিং দার্জিলিংয়ের তাকদা গ্রামীণ হাসপাতালে। একটি প্রত্যন্ত জনপদ। খাড়াই পাহাড়ি রাস্তা। কিছু রাস্তা এমন খাড়াই যে সেখানে এমনি গাড়ি উঠতে পারে না। সমতলে সেই গাড়ির গতি যতই বেশি হোক তারা এই পথে হয় উঠতে পারে না। অথবা কিছুটা উঠে আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। মাঝপথে রণে ভঙ্গ দেয়।
ওখানে গিয়ে সেই পথে চলাচলের জন্য এক বিশেষ গাড়ির দেখা পাই। একটু বড়সড় জিপ গাড়ির মতো দেখতে। নাম ল্যান্ডরোভার। ব্রিটিশ আমলের গাড়ি। এখনো শক্তিতে অটুট। অন্য গাড়ির চারটি চাকার মধ্যে একটি চাকা ইঞ্জিনের সঙ্গে জোড়া থাকে। ল্যান্ডরোভারের চারটি চাকাই ইঞ্জিনের সঙ্গে জোড়া থাকে। ফলে পথ যতই খাড়াই হোক এই গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছে দেবেই।
আগামী কাল আরেকটা নয় তারিখ আসবে। তিলোত্তমা খুন হবার আরেকটা মাস পূরণ হবে। হাতে রইলো পেন্সিলের মতো সঞ্জয় রাই এখনো পর্যন্ত অপরাধী বলে চিহ্নিত হয়েছে। একটি শিশু যার কিছুটা বোধবুদ্ধি আছে সেও জানে অপরাধী একজন নয়। অনেকে।
সঞ্জয় একজন হাড়হাভাতে সিভিক। খপ করে ধরে ঝপ করে তার বিচার করা হয়ে গেছে। এরপর যারা আছে তাদের রাজনৈতিক শক্তি অর্থনৈতিক শক্তি অনেক বেশি। এদের ধরতে পথ অনেক কঠিন। সেখানেই সিবিআই সিঙ্গেল হুইল গাড়ির মতো গাঁ গাঁ করে অনেক আওয়াজ করছে কিন্তু গাড়ি এগুচ্ছে না। গন্তব্যে পৌঁছানো তো দূরের কথা।
এই অবস্থায় আমার মনে হয় গাড়ি বদল করার সময় এসে গেছে। শুধু ড্রাইভার বদল করলে কাজ হবে না। গাড়িটাই পাল্টাতে হবে। যদি দেখা যায় যে সিবিআই এর ক্ষমতা মারুতি অল্টোর বেশি নয় তাহলে ল্যান্ডরোভারের খোঁজ করতে হবে। আর যদি তদন্তের দুনিয়ায় ল্যান্ড রোভার না থাকে তাহলে সেটা বানাতে হবে। সিবিআই এর বদলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান। যার ক্ষমতা ল্যান্ডরোভারের মতো। সিবিআই কে চিরতরে বন্ধ করার দাবি হয়তো হবে তিলোত্তমার ন্যায় বিচারের পরবর্তী পদক্ষেপ।
কি হবে কি করতে হবে তার রূপরেখা আমার সামনে স্পষ্ট নয়। সবার চিন্তা ভাবনা এখানে লাগবে। একটা জিনিসই স্পষ্ট যে আমরা ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের থামার কোনো উপায় নেই। এটাই তিলোত্তমার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।
৮ জুন ২০২৫











