১৯ মে ২০২৫
হোচিমিন এর সাথে আমাদের দেশের বৌদ্ধিক সম্পর্ক বহুদিনের। উনি নানান প্রবন্ধ লেখেন ভারত নিয়ে যেমন ব্রিটিশ উপনিবেশিক নীতি (১৯২৩), লেটার ফ্রম ইন্ডিয়া (১৯২৮), ভারতীয় শ্রমজীবীদের আন্দোলন (১৯২৮) ইত্যাদি। ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামে ওঁর আলাপ হয় মতিলাল নেহেরুর সাথে উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। নেহেরু পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতার এই সূত্রপাত। হোচিমিন তাঁর প্রিজন ডায়েরিতে জবাহরলালের কারাবাসের উল্লেখ করে গেছেন।
উনি ভারতে আসেন প্রথমবার ১৯৪৬ সালে প্যারিস যাওয়ার পথে কলকাতায়। বামপন্থী বিপ্লবী নেতা মোহিত সেনের লেখায় আমরা তার বিবরণ পাই, “পাতলা চেহারা, রুপোলি অল্প দাড়ি, হাস্যময় দুটি চোখ। চিনা কমিউনিস্ট দের মতো সাধারণ জামাকাপড়, পায়ে চপ্পল।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বহুদিনের। এর পরের ভারত সফর স্বাধীন ভিয়েতনাম এর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ১৯৫৮ সালে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে। অনেক সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি হোচিমিন যে কাজটি করলেন সেটার জন্য ই আজ লিখতে বসা। উনি কলকাতায় এসে রাজভবনে ডেকে পাঠালেন । কে এই রণমিত্র সেন ? সেটা জানতে গেলে আমাদের একটু পিছিয়ে যেতে হবে।
নিখিল ভারত ছাত্র ফেডারেশনের ডাকে ১৯৪৭ সালের ২১ জানুয়ারি পালিত হয় ‘ভিয়েতনাম দিবস’, ভিয়েতনামে ফরাসী আগ্রাসনের প্রতিবাদে। ওইদিন পুলিস গুলি চালালে প্রাণ হারান স্কটিশচার্চ কলেজের ছাত্র সুখেন্দুবিকাশ নাথ এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ধীররঞ্জন সেন। কলেজ স্ট্রিটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলের সামনে পড়েছিল সুখেন্দুবিকাশের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ। পুলিশের গুলিতে আহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্র ফেডারেশন কর্মী রণমিত্র সেন। এই রণমিত্র সেন এর সাথে দেখা করেন হো। এই হল ভারতের সাথে ওঁর রক্তের সর্ম্পক।
রক্তের সম্পর্ক এখানেই শেষ নয়। ১৯৭২ সালেরই ২২-২৭ মে মার্কিন ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে
ভিয়েতনামের অসম কিন্তু বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে কলকাতায় মার্কিন প্রচার দপ্তরের সামনে ছাত্র যুব মহিলা সংগঠনগুলি অবস্থান বিক্ষোভ সংগঠিত করে। “২২মে পালিত হয় ছাত্র-যুব দিবস। ঐদিন প্রচার দপ্তরের সামনে সমাবেশে ভাষণ দেন বামফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ , প্রমোদ দাশগুপ্ত, সুবোধ ব্যানার্জি , জ্যোতি ভট্টাচার্য , সুনীল সেনগুপ্ত , সুধীন কুমার। ২৩ মে পুলিস সমাবেশে নৃশংসভাবে লাঠি চালায় । গ্রেপ্তার করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যসহ ছাত্র যুব সংগঠনগুলির বেশ কয়েকজন নেতাকে। ২৬ মে তারিখেও পুলিস সমাবেশে লাঠি চালায়। ২৪ মে পালিত হয় শ্রমিক-কর্মচারী দিবস। ২৫ মে পালিত হয় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী দিবস। ২৫ মে পালিত হয় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী দিবস। ২৬ মে পালিত হয় মহিলা দিবস।” হো সেদিন ছিলেন না (১৯৬৯ সালে প্রয়াত)। কিন্তু তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ২৭ মে শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উত্তর ভিয়েতনামের প্রতিনিধি লে মিন।
ব্রিটিশদের লাঠি গুলি, কংগ্রেসীদের লাঠি গুলি কিছুই দাবিয়ে রাখতে পারেনি ভারতের কমিউনিস্টদের কারণ হো এর সাথে তাদের রক্তের সম্পর্ক, ভালোবাসার সম্পর্ক। কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকতাবাদের অন্যতম সেরা স্লোগান তাই আজও “তোমার নাম, আমার নাম ভিয়েতনাম”। ভারতবন্ধু হো চাচার আজ জন্মদিন। দেশপ্রেমী হওয়ার সাথে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকতাবাদের কোনো বিরোধ নেই বলেই আমাদের দেশের শোষণ মুক্তির সংগ্রামের প্রেরণা তাই আজও সেই, “তোমার নাম, আমার নাম ভিয়েতনাম”। অনেক রক্ত, অনেক ঘাম। হো চাচা লাল সেলাম।











দারুণ দারুণ। দূর্দান্ত লেখা।
”দেশপ্রেমী হওয়ার সাথে সাথে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকতাবাদের কোনো বিরোধ নেই”।এই যে,এইটায় এইজায়গাটাতেই সর্বত্র গণেশ উল্টে দেওয়ার মতো করে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টার। নিচ্ছি প্রোফাইলে লেখাটা।