সন দু হাজার ষোলো। ইশকুল সার্ভিস কমিশন তখন প্রায় পঁচিশ হাজার শিক্ষক অশিক্ষকের চাকরি হলো।দেখা গেল এমন অনেকেই চাকরি পেয়েছেন তালিকায় যাঁদের আদৌ নাম নেই অথবা যাঁরা চাকরি পেয়েছেন চাকরি না পাওয়া পরীক্ষার্থীদের থেকে তাঁরা অনেক কম নম্বর পেয়েছেন। অথবা তাঁদের নাম তালিকার অনেক নিচে।
*সুতরাং* এই মামলায় দুটো পক্ষ
১) আবেদনকারী(বঞ্চিত পরীক্ষার্থী/ চাকরি না পাওয়া কিছু পরীক্ষার্থী)
২) বিপক্ষে
(এসএসসি বা বকলমে পশ্চিম বঙ্গ সরকার)
তাহলে যাঁরা চাকরি পেয়েও হারালেন তাঁরা এই মামলায় কোনও পক্ষেই নেই বরং তাঁদের চাকরি পাওয়ার পদ্ধতি নিয়েই মামলা।
মামলার কোনও পর্যায়েই সরকার বা এসএসসি জানাতে পারেন নি এঁদের মধ্যে কে কে সঠিক ভাবে চাকরি পেয়েছেন। অথবা এসএসসি বা সরকার আদৌ জানাতে চায় নি কারা সঠিকভাবে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন আর কারা কারা “ঘুষ” দিয়ে চাকরি পেয়েছেন।
যেহেতু মামলাকারীরা চাকরি না পেয়েই মামলা করেছেন এবং এসএসসি/সরকার এই পরীক্ষার পদ্ধতিটি যে সঠিক ছিলো সেটা প্রমাণ করতে পারেন নি (পড়ুন প্রমাণ করার চেষ্টাই করেন নি) সেই জন্য পুরো পদ্ধতিটাই বাতিল হয়।
এখানে মনে রাখবেন চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের একটা অংশ অবশ্যই ঠিক ভাবে চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু নিয়োগকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই সৎ শিক্ষক শিক্ষিকাদের আলাদা করার কোনও উপায় রাখেন নি এবং এখনও ওনারা সৎ অসৎ শিক্ষকদের আলাদা না করার চেষ্টাই করছেন।
সুতরাং প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এই পরীক্ষা পদ্ধতিটাকে ভুল ঘোষণা করে সমস্ত চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের চাকরি বাতিল করে। পরে সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশকে মান্যতা দেয়। যেহেতু এসএসসির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন চাকরি না পাওয়া পরীক্ষার্থীরা তাই চাকরি যাঁরা পেয়েছেন তাঁরা এই মামলায় কোনও পক্ষেই নেই।
পুনশ্চ:- ক্রিমিনাল মামলায় নিয়ম আছে একজন নিরপরাধও যেন শাস্তি না পায় কিন্তু সার্ভিস রুলের ক্ষেত্রে আইনটি অন্য রকম। এখানে ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে একজনের চাকরিও হতে পারে না।











