__________
আমার তারাবাজি দর্শন আর তারপরের পতন ও প্রায় মূর্ছার কাহিনি বিবৃত করার পর কী যে তীব্র ভর্ৎসনা সইতে হল বলার না। এত ভালোবাসার মানুষ! সবাই সাবধানে থাকতে বলেছেন। প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে। প্রকাশ্যে মানে, এখানে এই ফেসবুকেই। অপ্রকাশ্যে মানে, হোয়াটসঅ্যাপে আর সরাসরি ফোনে।
সাবধানে থাকতে হবে শুধু নয়। একজন চোখ পাকিয়ে বলেছে এর পরও এরকম বাঁদরামি করলে আমাকে সাসপেন্ড করবে। না, এই বন্ধুত্বের অপূর্ব জাল থেকে সাসপেনশন আমি মোটেই চাই না।
উপরন্তু তাঁদের দাবী, ভালো ডাক্তার দেখাও। যাঁরা ফোন করেছেন, তারা এও বলেছেন “তুমি ডাক্তারির কিস্যু বোঝো না”!
হ্যাঁ ওইটেই বলেছেন। “কিছুই”বোঝো না বলেননি, “কিচ্ছু” বোঝো না বলেননি। বলেছেন “কিস্যু বোঝো না”
★
আমি নিজেও যে ডাক্তার, মানে ডাক্তার ছিলাম একদা, সে কথা, হ্যাঁ, আমিও মাঝে মধ্যে ভুলে যাই। এই প্রসঙ্গেই কিছু বলব বলে আজকের এই অবতারণা।
★
সম্প্রতি বেশ কিছুদিন আমি সাঙ্ঘাতিক কাশিতে ভুগছিলাম। বেশ কিছুদিন মানে মাস ছয়েক(নাকি বছর খানেক) প্রসঙ্গত বলি, ডিগ্রি মোতাবেক আমি ওই ইয়ে, কী বলে চেস্ট স্পেশালিস্ট। হালফিলের লব্জে পালমোনোলজিস্ট। এই কাশি আর বুকের অন্যান্য অসুখ নিয়েই যাদের কাজ।
কাজেই নিজের চিকিৎসা নিজেই করছিলাম।
আমার কাশিটা একেবারে ধাপে ধাপে এগোলো। বাংলা গানের স্তরবিন্যাসের মত। প্রথমে দু তিন মিনিট। পরে রাগপ্রধান আধুনিক। আর তারপরে পুরো ভারতীয় মার্গ-সঙ্গীত। শুরু হলে থামতেই চায় না। রাত্রে ঘুমের মধ্যে কাশি। পুত্রকে, “বাবুরে, তোর জন্য চিন্তা হয় খুব”, বলার সময় কাশি। প্রেমিকাকে “আমি তোমায় বড় ভালোবাসি” বলার অমূল্য মুহূর্তেও কাশতে কাশতে, সে কথা বলা হয়ে ওঠে না।
জেরবার হয়ে যাচ্ছি। আমি শুধু নয়। এবার বাড়ির লোকও। আমার গিন্নি জানালো, “না, তোমার ওই ডাক্তার দত্তচৌধুরী কে দেখাচ্ছি মার্কা গর্বিত ভাষণে চলবে না। চলো, আজই ডাক্তার দেখাতে যাব।”
আমার বর্তমান আবাস স্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যে ডাঃ Parthasarathi Bhattacharyyaর ইন্সটিটিউট অফ পালমোকেয়ার। সেখানে গিয়ে ডাঃ পার্থসারথি ভট্টাচার্যকে দেখালাম। এক্সরে রক্ত ইত্যাদি ইনভেসটিগেশন আগেই করা ছিল।
সেদিন রোগীর বেশ চাপ থাকা সত্ত্বেও বেশ সময় নিয়ে দেখে ডাক্তার পার্থসারথি প্রেসকৃপশন করে দিলেন।
আমি অ্যাদ্দিন যা চিকিৎসা চালাচ্ছিলাম, তার একশ আশি ডিগ্রি বিপরীত সেই নিদান।
প্রচলিত কথায় বলে ডাক্তারের ওষুধ নাকি বিশ্বাস না থাকলে কাজ করে না। বিশ্বাস করুন, আমি অপছন্দের সেই প্রেসকৃপশনের সব ওষুধ যথেষ্ট আপত্তি সত্ত্বেও, বিশ্বাস না থাকা সত্ত্বেও খেলাম। মানে খেতে বাধ্য হলাম। আমার গিন্নিটির উৎপাতে।
এবং…
হ্যাঁ এই “এবং”টি বলার জন্যই এতটা বলা।
সেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতসম কাশির দমক উধাও। আজ দশদিন পরে আমি একদম সুস্থ। কাশি সম্পূর্ণ গায়েব। ডাক্তারবাবুকে ফোনেও আরোগ্যের খবর জানালাম।
★
এই যে এতক্ষণ বকলাম, এ কি ডাঃ পার্থসারথি ভট্টাচার্যের বিজ্ঞাপন? Institute of Pulmocare & Research এর বিজ্ঞাপন।
না, মোটেই না।
এই লেখাটা পুরোটাই ওইটুকু জানাতে চাওয়া যে আমি এখন আর ডাক্তারি “কিস্যু” জানি না।
মহাকাব্যের প্রেক্ষিতে বললে, পরশুরামের অভিশাপে তার অধীত অস্ত্রবিদ্যা শেষ যুদ্ধের সময় অন্তর্হিত হয়েছিল।
সেই রকম আমারও। আমার বিদ্যা আমাকে ছেড়ে গেছে। রথের চাকা বসে গেছে মাটিতে।
★










