এক চিন্তিত মা আজ চেম্বারে এসে বললেন, ইদানিং মেয়ে খুব অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে, কথায় কথায় তর্ক করে, পড়াশোনা করতে চায় না। আমার মনে হয় ওর একটু কাউন্সেলিং দরকার। তাছাড়া, বড্ড কুঁড়ে, নড়ে খায় না।
মেয়ের বয়স পাঁচ বছর। ওজন তিরিশ কেজি। পড়ে প্রেপ এ।
জিজ্ঞাসা করলাম, বিকেলে কি করে?
বললেন সাড়ে পাঁচটার সময় ম্যাম পড়াতে আসেন।
আবার জিজ্ঞাসা করলাম, খেলে কখন?
বললেন, খেলবে কি করে? পড়ার যা চাপ! সময় কোথায়? তাছাড়া ম্যামেরও ওই বিকেল ছাড়া সময় নেই।
চাপ নিয়ে অবশ্য কিছু বলার নেই। শিশুর শেখার ক্ষমতাকে তোয়াক্কা না করে অবৈজ্ঞানিক প্রবল বড় সিলেবাসের বোঝার বিরুদ্ধে কথা বলায় সব মহলের ঔদাসীন্য, নইলে শিশু ইঁদুর দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে। তার উপরে গোদের উপর বিষফোঁড়া সঙ্গে আছে, নাচ, গান, আঁকা, কবিতা শেখা, সাঁতার। কোনোটাই আনন্দের জন্য নয়। টার্গেট আর পরীক্ষা পাশ করে সার্টিফিকেট অর্জনের খেলা।
Oplus_131072
সুতরাং কোপ পড়ছে শিশুর খেলার সময়টাতে। যদিও বিজ্ঞান বলে শিশুর শেখার প্রাথমিক উদ্দীপক পরিবেশ ও প্রকৃতি। পাঁচ ইন্দ্রিয় দিয়ে শিশু প্রকৃতিকে চেনে। সেখান থেকে আহরণ করে বর্তমানে ও আগামীতে আনন্দে বাঁচার রসদ। তাছাড়া খেলার ছলে হুটোপুটিতে শিশুর শরীরচর্চা হয়। বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্র ও মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ও তার সঙ্গে খাদ্য ও অক্সিজেনের সরবরাহ হওয়ার ফলে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ হয়। অলস মস্তিষ্ক যে পড়া সে তিন ঘণ্টায় নেয়, কর্মক্ষম তাজা মস্তিষ্কে তা নিতে পারে এক ঘণ্টায়। শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। সে চনমনে থাকে। মোবাইল ও কম্পিউটারের থেকে অন্তত খেলার সময়টাতে মুক্তি পায়।
আসলে, আমরা সব বুঝেও বুঝি না, কারণ, ওই! শিশু পিছিয়ে পড়বে।
এখন নিজের বয়স হচ্ছে বেশ বুঝতে পারি। কয়েক বছর আগেও এরকম পরিস্থিতিতে মা বাবা কখনও কাউন্সেলিংয়ের কথা বললে রেগে গিয়ে বলতাম , কাউন্সেলিং আসলে আপনাদের দরকার। শিশুর নয়।
এখন না বলার কারণটাও মানি মনে মনে। মা বাবা আসলে চারদিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণে দিশাহীন, বিপর্যস্ত। চিকিৎসকও বকাঝকা করলে তাঁরা যান কোথায়?
আপনাদের একটা কথাই বলি শুধু। একবার স্রেফ সাহস করে চাপ থেকে নিজেদের বের করে আনুন। শিশুকে শৈশব দিন। মাঠঘাট প্রকৃতি চিনতে শেখান। দেখবেন তাদের মানুষ করতে আপনাদের আর কখনও জীবনপণ করতে হবে না।
আপনার শিশু আপনার। তার বড় হওয়ার ব্যাপারে টেনশন সবথেকে বেশি আপনারই। এসবের উপর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রেখেই বলছি, এখন, এই যুগেও শৈশবে প্রকৃতি ও পরিবেশের কোনও বিকল্প নেই। শিশুর শৈশব যাতে সুখস্মৃতি হয়ে থাকে সেটা দেখুন।
মানুষ হওয়ার লড়াই? সে তো বড় হওয়ার পর আজীবন আছে!
১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ সম্প্রতি কলকাতার এক প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (Cardiologist) সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিলে তিনি ফি-তে ছাড় দেবেন। ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম
ভারতের ইতিহাসে কালো দিনের তালিকায় আর একটি দিন যুক্ত হল – ১৩ এপ্রিল, যেদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জোরের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষিত হবার
সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ চিৎকার করে আসে না। কিছু নিয়ন্ত্রণ আসে ভালোবাসা, দায়িত্ব, অপরাধবোধ আর ভয়–এর মোড়কে। 💔🌫️ Emotional Blackmail হলো এমন এক ধরনের মানসিক প্রভাব
সালটা ২০১১, আমরা মেডিক্যাল কলেজে তখন সদ্য পা দিয়েছি। গল্পটা শুরু হয়েছিল তারও আগে, রেজাল্ট বেরোনোর পরপরই। বিভিন্ন দাদা দিদিরা বাড়ি বয়ে একদম ভর্তির সমস্ত
আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।