অনিকেত যখন মমতা ব্যানার্জির সামনে পরীক্ষার প্রসঙ্গ তুলেছিল তখনই জানতাম নাটকের শুভ সূচনা হলো। অনিকেতের কথাগুলো ঠিক, কিন্তু চাণক্যের নিয়মানুযায়ী ‘অপ্রিয় সত্য’ বলাও আবার অনুচিত। তৃণমূলের পোষ্য ডাক্তারি ছাত্ররা যদি পড়াশোনা করে পাশ করবে, তাহলে কলেজে দালালি করে তৃণমূলের ক্ষমতায়ন করবে কে! না পড়েও পাশ করা যাবে এই আশ্বাস থেকেই তো তাদের তৃণমূল পার্টির ধামা ধরা! সেই নিয়ে যদি তৃণমূল সুপ্রিমোকেই অভিযোগ করা হয় তাহলে তো মহা মুশকিল!!
তৃণমূলী ঘাসখোর নিরক্ষর ডাক্তারি ছাত্রগুলো চিরকালই ডিস্টিংকসন নিয়ে পাশ করবে, কারণ যে পরীক্ষা নেবে তার টিকি স্বাস্থ্য ভবনে বাঁধা। তার বাড়িতে বউ-বাচ্চা আছে। সুতরাং সিসিটিভি আসুক, ছাই সিবিআই এসে পরীক্ষা নিক, ওরা পাশ করবেই।
মাঝখান থেকে নাটকের শিকার হলাম আমরা সাধারণ মানুষ যারা। শিকার বলা ভুল, হয়রান হলাম বলা যায়। আমরা যারা ডি এম, এম সি এইচ পরীক্ষা দিয়েছি, তারা অতটা ফেস করিনি। এম ডি, এম এস পরীক্ষায় তখন প্রথম নাটকের মহড়া শুরু- নাটকের ডিরেক্টরও তখন জানেনা এক্সাক্ট কীভাবে নাটক করতে হবে!! কোথায় জামা কাপড় সার্চ করতে হবে, কোথায় সিসিটিভি লাগাতে হবে ইত্যাদি। পরীক্ষার পর খাতা দেখা নিয়ে আরেক দফা নাটক। এক্সটার্নালদের একবার বলে ইউনিভার্সিটি গিয়ে খাতা দেখতে, যখন তারা বলে তাদের খেয়েদেয়ে অনেক কাজ আছে, তখন ইউনিভার্সিটি ভাবতে বসে এবার কী করা যায়!! দিয়ে ডিএনবি স্টাইলে খাতা স্ক্যান করে, অনেক রকম দাবিদাওয়া মিটিয়ে অবশেষে রেজাল্ট দিয়েছে আর কি…
মাঝে আরেক মহামানবী এসে রেসিডেন্টদের মাইনে বাড়িয়ে গেছে, ভাবখান এমন যেন ধন্য করে দিয়েছে। এদিকে তার মাইনে যে দেশের মধ্যে সবার নিচে, সেকথা বেমালুম চেপে গেছেন। যাইহোক এখন ডিএ কেসে ফেঁসে আছেন, এসএসসি নিয়ে আর কী বলবো!! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও দিতে হচ্ছে। বাকি মালকড়ি যা ছিল এর ওর ফ্ল্যাটের তলায় চাপা পড়ে গেছে। তাহলে পাশ করার পর লোকেদের বন্ড পোস্টিংয়ের মাইনে দেবেন কীভাবে!!
মুশকিল আসান – পোস্টিং না দেওয়া। মাসের পর মাস ধরে কোনো খবর নেই পোস্টিংয়ের। জিডিএমও নেওয়া বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েক বছর। মেডিক্যাল অফিসার থেকে শুরু করে প্রফেসর – কোনো নিয়োগ নেই। যা চলছে, তাই চলছে। কেউ অবসরপ্রাপ্ত হলে সেই জায়গা নিচ্ছে বায়ুমণ্ডল, কারণ মহাবিশ্বে ফাঁকা তো কিছু থাকে না!! এভাবে আমাদের সরকারি হাসপাতাল বিশ্বমানের হয়ে চলেছে।
যাইহোক পেপারে লেখালিখির পর বেহায়াদের লজ্জা হয়েছে এট্টু। তাই পোস্টিং বেরিয়েছে। পোস্টিং হয়েছে আবার স্বচ্ছ কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে!! কিন্তু হায়! হায়নার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা চেয়েছে লোকে! Debashis Halder , যার কিনা কাউন্সিলিংয়ের সময় হাওড়ায় পোস্টিং হওয়ার কথা ছিল, তার পোস্টিং হলো মালদায়। অন্যভাবে নেবেন না এরকম খুচরো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে। এবার এই নিয়ে দেবা ছুটবে এই কোর্ট থেকে ওই কোর্ট, এই আর কি!! কিন্তু ওরও কি উচিত ছিল আরজিকরে কে মরলো না মরলো, সেই নিয়ে আন্দোলন করার! মুখ্যমন্ত্রী তো এমনিই ফিল্মস্টারদের নিয়ে পদযাত্রা করছিলেনই!! তুমি আন্দোলন করলে, আমার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে আমিও তোমায় হেনস্তা করব, মেসেজটা এইটুকুই। কিন্তু এই নিম্নমানের ছ্যাচড়ামোটা তৃণমূল ছাড়া কেউ করতে পারতোনা!! এটাই এদের স্পেশালিটি 🙏🙏🙏
তৃণমূল তুমি এরকমই থেকো। এরকম ছিঁচকেপনা না করলে বুঝবো কীভাবে তুমি বেঁচে আছো! এই আধমরা জীবনে এটুকুই তো পাওনা










