একটি মেয়ে’র ধর্ষণ ঘটেছে।
এরপরে কী হবে?
সম্ভাবনা এক।
মেয়েটি খুন হবে।
খুনী ধর্ষক হতে পারে, অথবা তার বাড়ির লোক।
এই দুই পুরুষের একই ব্যক্তি হওয়াও বিচিত্র নয় ।
সম্ভাবনা দুই, শরীর বেঁচে থাকবে,
তবে ধর্ষণের আগের মেয়েটি খুন হবে।
আইন প্রথমেই তার নাম ছিনিয়ে নেবে।
কেন নেবে?
খুন হলে, ছিনতাই হলে, দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হলে নাম নেওয়া যায়,
শুধু ধর্ষণে নামটা গোপন, কারণ ধর্ষিতার সম্ভ্রম-হানির সম্ভাবনা।
তাহলে হে মহান রাষ্ট্র, আপনিও ধরে নিয়েছেন
যোনিই একমাত্র সম্পদ নারীদের,
একমেবাদ্বিতীয়ম যা তছনছ হলে তার সম্মান যায়?
নাকি এটা ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলা দায়,
ওই ‘ভ্রুণের লিঙ্গনির্ধারণ নিষেধ’ বিজ্ঞপ্তির মতো?
দুটোই যে বেকার, সেটা আপনিও জানেন, জনতাও।
কাজেই ধর্ষণের আগের মেয়েটি খুন হবে ।
সে শরীরে নতুন যে মেয়েটি,
তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করবেন দিদিমনিরাই,
সে কাজে গেলে সহকর্মীরা কদাচিত সহমর্মী হবে,
সে বাপের বাড়ি থাকলে বিয়ে হবে না ,
শ্বশুরবাড়িতে থাকলে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে,
বরের সাথে থাকলে.. সেখানে বরের সিদ্ধান্তই শেষ কথা,
কারণ এই দেশে বরই একমাত্র পুরুষ,
যে স্ত্রীকে কখনো ধর্ষণ করতে পারে না,
স্ত্রী মিলনে রাজি থাক বা না থাক,
আইন বিবাহিত নারীর মতামতকে পাত্তা দেয় না ।
ক্ষীণ সম্ভাবনা তিন,
এত কিছু পেরিয়ে যদি মেয়েটি আদালতে পৌঁছায়,
তবে মেয়েটির ‘চরিত্র’ খুন হবে।
চরিত্র সেই মহার্ঘ বস্তু, যার বাস কেবল যৌনতায়,
আর ধর্ষণের অভিযোগ জানানো মেয়েটির যে
সেটি নেই,
সে তো একদম স্বতঃসিদ্ধ!
সুতরাং পুলিশ সন্দিগ্ধ হবেন,
উকিল নিশ্চিত হবেন,
বিচারক এমন প্রমাণ চেয়ে বসবেন,
যা শুধু সিনেমা’র শ্যুটিংএ সম্ভব,
আর মিডিয়ার হাজার জজেরা রায় দিয়ে দেবেন
‘ বেঠিক পোশাক’
‘ বেঠিক সময়’
‘বেঠিক সঙ্গ’
‘ বেঠিক জায়গা’ ..
আর খেয়াল করবেন মাননীয়া অধর্ষিত ভদ্রমহিলা এবং মাননীয় অধর্ষক ভদ্রমহোদয়গণ,
সব কিছুর বেঠিকএর একটাই ইঙ্গিত..
‘ মেয়েটির দোষেই পুরুষ সুযোগ পেয়েছে।’
এ দেশে ধর্ষণ কখনো রেপ-টেপ হয় না।
একটা মেয়ে বাধ্যবাধক খুন হয় তার সাথে।
তারপর?
আবার খবর, মনোযোগ ঘুরে যায় পরবর্তী ধর্ষণটাতে..
দেখা যাক,
দশক নাকি শতাব্দী লেগে যায় আমূল এই বেহালের হাল বদলাতে।
আর্যতীর্থ












খুব সঠিক কথা লিখেছেন। আমাদের দেশে Verma Committee সুপারিশ করা সত্ত্বেও marital rape শাস্তি যোগ্য নয়।