ঠিক যেন রাস্তার ধারে ফুটপাথবাসীদের আস্তানা।
নানা রংয়ের পলিথিনের ছাউনি। আশ্বিনের আঙ্গিনায় ঝাপটে পড়া ক্ষ্যাপা শ্রাবণের দাপটে উথালপাতাল সব ছাউনি।
রাস্তায় বয়ে চলা বৃষ্টিধারার স্রোতস্বিনী।
ভেতরে মৃদু আলোয় আঁধারে শত মানুষের চলাফেরা-
না না সহস্র মানুষ কিম্বা তারও বেশী। উত্তাল যৌবন আছে,
আছে ইস্কুল ফেরৎ বাচ্চা-তার শরীর জুড়ে ক্লান্তি-আর দুচোখে সূর্যের ঔজ্জ্বল্য-আছে ন্যুব্জ বৃদ্ধ, আছে লাঠি হাতে অশক্ত।
আছে প্রাণ, আছে তীব্র জীবনের উচ্ছ্বাস, আছে প্রিয়জন বিয়োগের বুকফাটা হাহাকার।
আছে ঢাকের বাদ্যি, কাঁসর, খঞ্জনী;আছে অবিরত মন্ত্রোচ্চারণের মতো আহ্বান
“এসো জীবনে এসো, এসো মৃত্যুর হিসেব বুঝে নাও-এসো বিচার দাবী করো”
লাল পলিথিনের তলায় বিজলি বাতিতে অপার্থিব লাল মানবসন্তানেরা তালে তালে মন্ত্রোচ্চারণ করছে এসো বিচার চাও।
নীল পলিথিনের তলায় বৃষ্টির শব্দে, ঢাকের বাজনায় তখন বৌদ্ধ মন্দিরের নীল শান্তি
এসো বিচার চাই।
এক পাশে মানব সন্তানরা-আমার আপনার সন্তানরা সমাগত সবাইকে বড়ো ভালবাসায় খাবার তুলে দিচ্ছে। আমিও আমার এক সন্তানের কাছ থেকে অঞ্জলিবদ্ধ দুহাতে মিষ্টি নিলাম।কতোটা সুখে যে চোখে জল আসে জানলাম।আমি যে একদিন ওদের কারও শিক্ষক ছিলাম।
কারা যেন দুহাত ভরে’ খাবার আনছে, জল আনছে, বিস্কুট, ঘরে বানানো ঘুঘনি,সন্তানদের মাথায় ধরার ছাতা।
এ বুঝি প্রতিবাদ?
এ তো জীবনের জয়গান।
এর নাম প্রতিরোধ?
এতো শোকের আগুনে শুদ্ধ হওয়া
এক ভালবাসার অমৃতকাব্য।
সন্তানদের হাত ধরে মঞ্চে উঠলাম।এই প্রথম প্রণাম পেতে বড্ড গর্ব হলো, আমি এদের কারো কারো মাস্টার ছিলাম।
প্রতিরোধের গান হয়ে উঠলো দেশপ্রেমের গান।দেশপ্রেমের গান হয়ে উঠলো প্রতিরোধের গান। কাঁসর ঘন্টা, ঢাক, ছবি, গানে এ এক অন্য বিদ্রোহ।
আসুন বিদ্রোহ করি, আসুন বিদ্রোহের উৎসব করি।
স্বাস্থ্য ভবনে না গেলে জানতে পারতাম না সমবেত চোখের জলে বিদ্রোহ হয়, চোখের জলে উৎসব হয়, চোখের জলেও বিচার চাওয়া যায়।
আজ যৌবনের আগুনের পরশমণিতে আমার এ জীবন পূর্ণ।










