ভ্যান গগ সেই সময় তাঁর বাবা মায়ের সাথেই থাকছিলেন। হঠাৎ ইচ্ছে হল একটা ছবি আঁকার। ছবিটা আঁকার জন্য কয়েকমাস ধরে ভ্যান গগ পরিশ্রম করেছিলেন, ওই কৃষিজীবী পরিবারের প্রচুর স্কেচ করেছিলেন মূল ছবিটা আঁকার জন্য। শেষে তৈরি হয় সেই মাস্টারপিস যার নাম “পটেটো ইটার”। আলুর ভোজে উপস্থিত এক দরিদ্র কৃষিজীবী পরিবার, ভোজ মনে নিজেদের বাড়িতে সন্ধ্যেবেলা নিজেদের সাপার।
ছবিটা তৈরি করে ভ্যান গগ নিজে খুব তৃপ্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু নিজের ভাই থিও ও অন্যান্য বন্ধু চিত্রকরদের কাছ থেকে জুটেছিল নির্মম সমালোচনা। সমালোচনার দুটো সুর ছিল। এক, ছবিটা কুৎসিত, দুই, ভ্যান গগের এনাটমি নিয়ে জ্ঞান বুদ্ধির বড়ই অভাব। ভ্যান গগ এর উত্তরে কলম ধরেন। তিনি জানান যে তিনি “এমন একটা ছবি আঁকতে চেয়েছেন যেখানে কঠোর পরিশ্রমী, দরিদ্র প্রায় নিরন্ন একটি কৃষিজীবী পরিবারের ছবি ফুটে ওঠে। তিনি কোনো সুন্দর ছবি আঁকতেই চান নি। তাঁর ছবির সদস্যের আঙুলগুলো বেঁকে গেছে পরিশ্রমের চাপে। তাঁর ছবির মেয়েটির পরিচ্ছদ ধুলো ধূসরিত মলিন। ইত্যাদি ইত্যাদি।” এখানেই শেষ নয়, পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম সেরা চিত্রকর তার নন্দনতত্ত্বের উপলব্ধি নিয়ে বলেছিলেন যে, তাঁর চোখে সৎ পরিশ্রম করা এক কৃষক রমণী অনেক বেশি সৌন্দর্যের অধিকারী কোনো অলস ধনী কন্যার চেয়ে, তাঁর ছবিতে দামী পারফি্রমের বদলে পরিশ্রমের ঘামের গন্ধ ফুটে উঠুক। “দারিদ্র্য মহান নয়, দারিদ্র্য কুৎসিত। কিন্তু কোথাও সৎ দরিদ্র মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের নিরাভরণ সৌর্ন্দয্য হারিয়ে দেয় সযত্ন লালিত বেশভূষাকে।”
সামনেই উৎসব। বাঙালির জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব। আর এই উৎসব উপলক্ষে বারবার দেখা যায় বিলাস বৈভব প্রদর্শনের এক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। জাকজমক আড়ম্বরের চাপে এই সত্যটা বারে বারে চাপা পড়ে যায় যে এই উন্মাদনার যোগান দেওয়ার অর্থের অনেকটাই হল অসৎ পথে অর্জিত অর্থ। কোনো নব্য ধনী যদি ডিজাইনার শাড়ি ধুতি শোভিত হয়ে প্যান্ডেল হপিং এর সময় বিদেশী গাড়ি থেকে নেমে বিশেষ গেট পাস দিয়ে ভিড়ের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যায় তাহলেও আমাদের হীনমন্যতায় ভোগার কোনো কারণ দেখি না, কুণ্ঠিত, লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ দেখি না, ঈর্ষায় ভোগার কোনো কারণ দেখি না। সৎ পথে উপার্জনের পয়সায় কেনা আমাদের সাধারণ পরিচ্ছদ এ বিদেশী পারফিউম এর গন্ধ মিশে না থাকলেও চলবে। সাধারণ মানুষের শ্রমের ঘামের গন্ধ তো আছে। যেমনটা বলে গিয়েছিলেন ভ্যান গগ। তারাই তো ভ্যান গগের ছবির সাব্জেক্ট। উৎসব হয়ে উঠুক সার্বজনীন।











কিহ্ ভালো লেখাটা।😌🩵🙏