আর জি কর আন্দোলন এক স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন। ডাক্তাররা এই আন্দোলন শুরু করলেও এটা আজকে এক গণ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। নদীর স্রোতধারা যেমন সারাবছর সমান থাকে না, ঠিক তেমনি আন্দোলন কলেবরে এক থাকে না। জোয়ার ভাটা হয়। জোয়ার ভাটা যতোই হোক, স্রোত রুদ্ধ হয়না। এই আন্দোলনের যারা মুখ সময়ের দাবিতে হয়ে উঠেছেন তাদের কারোর নামে তোলাবাজি বা টাকা চুরি বা গরু কয়লা চুরি এসবের কেস নেই বলেই জানি। তারপরেও পশ্চিমবঙ্গের শাসক বিরোধী মিলে যা খিস্তি ওদের করছে তাতে মনে হচ্ছে খিস্তি মহোৎসব চলছে। যারা খিস্তি করছে তারা আর যাই হোক পাগল নয়। ফলে কিছু কারণ তো আছে। শাসকের খিস্তি করার সঙ্গত কারণ আছে। যারা আর জি কর কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা শাসক দলের লোকজন। আশীষ পান্ডে আর জি করের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রেসিডেন্ট। এখন জেলে। ঘটনার পরই যে উত্তরবঙ্গ লবি ওখানে ছিলো তারাও তৃণমূলের লোকজন। লাল জামার ফিঙ্গার প্রিন্ট এক্সপার্ট অভিক দে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মেডিকেল ইউনিটের রাজ্যে সম্পাদক। সুশান্ত রায় সুদীপ্ত রায় সন্দীপ ঘোষ সবাই তৃণমূলের লোকজন। সন্দীপ ঘোষ আর জি করের প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হলে অতীন ঘোষ পার্টির তরফে ওনাকে সম্বর্ধনা দেয়। ফলে শাসক যে ওদের ডিফেন্ড করবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু একটা ছাপ মারা চোর যে জামিনে আছে সে যখন খিস্তি করে, তখন সেটা শ্রুতিকটু লাগে। সে নিজেকে মুখপাত্র বলে। সে ভালো, কিন্তু ও জানেনা ওর পুরোনো কীর্তির জন্য মানুষ ওকে তলাপাত্র বলে। মানে হলো গিয়ে বেডপ্যান। এবার বেড প্যানে মানুষ কি করে সেটা নিজেরাই ভেবে নিন।
অবাক লাগে যখন দেখি বিরোধিরা,এমন কি তার মধ্যে একজন প্রাক্তন বিচারপতি আছে সেও যখন গাল দেয়।
এইযে রাস্তায় আন্দোলন চলছে, তাতে ওদের কি অসুবিধে হচ্ছে?
এটা বুঝলেই আপনারা বুঝে যাবেন সিবিআই সঞ্জয় রাই এর বাইরে এখনো কেনো অপরাধী খুঁজে পেলো না।
বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে ফেলেছে যে, মুখে যাই বলুক, রাজ্য কেন্দ্র সেটিং হয়ে গেছে। এবার তদন্ত ধামাচাপা দেয়া চলছে। এই সময় যদি এই আপদগুলো রাস্তায় থাকে তাহলে সেটিং এর কথা মানুষ জেনে যাবে আর ধামাচাপা দেয়া সহজ হবে না।এদের দিল্লির মুরুব্বী যখন ধামাচাপা দিতে তৎপর, তখন এই আপদগুলোর আন্দোলন খুব সমস্যা তৈরি করছে। তাই শাসক যা খিস্তি দিচ্ছে, তার দশগুণ দিচ্ছে এরা।
এই খিস্তির মহোৎসবে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেছে, জনতার এই আন্দোলন সঠিক পথে চলছে। তাই কায়েমী স্বার্থের এতো জ্বালা। সেইজন্য তলাপাত্র আর প্রাক্তন বিচারপতি মিলে খিস্তির মহোৎসব শুরু করেছে।
আরে মশাই, বুদ্ধি শুধু আপনাদের মাথায় নেই, বাংলার মানুষের মাথাতেও কিছু কিছু আছে। তাই আপনাদের এই সেটিং এর খেলা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে। আপনারা যতো খিস্তি করবেন আপনাদের চরিত্র আর পর্দার আড়ালের সেটিং ততো দিনের আলোয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। তাই আপনাদের অনুরোধ আপনারা খিস্তির মহোৎসব চালিয়ে যান। এটা এই আন্দোলনকে যথেষ্ট সাহায্য করবে।










