দুঃখ পেলাম দাদা। মেয়েটিকে নিয়ে আমার লেখা নয় দাদা, তার কাজকে বিচার করার আমি কেউ নই। যাঁরা মেয়েটির কাজকে ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে সমর্থন করছেন বাহবা দিচ্ছেন, আমার লেখা তাঁদের জন্য। কোন বীরত্বের উদযাপন করতে নামলাম আমরা? আমার যে বামপন্থী অধ্যাপক দাদা, লেখক দাদা, বামপন্থী কবি দাদা, প্রাক্তন আমলা দাদা, চিত্রকর দাদা, বাকি সব দাদারা যাঁরা চড় কান্ডে ১০৭ রকম ন্যারেটিভ নামিয়েছেন উল্লসিত হয়ে, তাঁদের জন্য আমার ১০৮ নম্বর ন্যারেটিভ।
তাঁদের কাছে প্রশ্ন, দৈহিক নিগ্রহ, সে যেই করুক, যে কারণেই করুক, সভ্য সমাজে তাকে অনুমোদন করতে হবে? তাহলে তো রাগের চোটে যে লুম্পেনগুলো সবাই মিলে বামপন্থী পোলিং এজেন্টের মাথা ফাটায়, রেজাল্টের পরে তার দোকান জ্বালিয়ে দেয় তাকেও সমর্থন করতে হবে। গালে চড় মারার ইচ্ছে আমাদের সকলেরই কম বেশি হয়, আমরা মারিনা, নিজেকে সংযত করি। এটাই তো সভ্য সমাজের হলমার্ক। আমার রুগী মরে গেল, রাগ হয়েছে তাই আজ ডাক্তারকে পেটালাম, আমার মা আন্দোলনে বসেছিল, বাজে কথা বলেছে তাই কাল রাজনীতিবিদকে চড় মারলাম, আমার প্রিয় পার্টির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে মিছিলে গিয়ে লাল ঝান্ডা কাঁধে তাই পরশু টোটো চালককে লাথি মারলাম এভাবে চলতে পারে?
ইতালির জনগণ ও বাম পার্টিজানরা ফ্যাসিবাদের নায়ক ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের পালানোর সময় হাতের কাছে পেয়ে রাগের চোটে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। ভেবেছিল ফ্যাসিবাদ খতম। হয়েছে ইতালিতে ফ্যাসিবাদ খতম? আমার বামপন্থী জ্যোতির্বিজ্ঞানী দাদা, আমার চিকিৎসক দাদা? গালে চড় মেরে ফ্যাসিবাদ খতম করা যায় না। ওই রাস্তায়, ওই সহজ সরল শর্ট কাটের রাস্তায় না হেঁটে ফ্যাসিবাদকে কোমরের তলায় মারুন। যেমন মেরেছে অযোধ্যায় জনগণ। রাম মন্দির নিয়ে লাফানো ফ্যাসিস্ট বাচ্চাগুলো মুখ লুকানোর জায়গা পাচ্ছে না। ওই চড় মারা চারদিন বাদে জনতা ভুলে যাবে কিন্তু ফইজাবাদ ভুলতে ফ্যাসিস্টদের সারাজীবন লেগে যাবে। বিষধর সাপকে মারতে হলে এমন মারতে নেই যে আধ ঘণ্টায় দাগ মিলিয়ে যায়, কোমর ভেঙে দিতে হয় যাতে আর ফনা তুলতে না পারে। পারলে মারুন সে ভাবে। গণতান্ত্রিক জনতার মার। দাদাগিরি কোনো মানুষ নয়, দেখাবে জনতা জনগণতন্ত্রের পথে। তার জন্যই তো দিন গুণে বসে আছি। ব্যক্তিগত সন্ত্রাসের পথ বেসিক্যালি পেটি বুর্জোয়াদের পথ। নিজের দাদার মৃত্যুর পরে লেনিন উপলব্ধি করে ছিলেন ওই পথ মার্কসবাদীদের পথ নয়। তাদের পথ দীর্ঘ জটিল কারণ সেটা গণতান্ত্রিক বৈপ্লবিক চিন্তা চেতনার ওপর নির্ভরশীল পথ, শত কোটি মানুষকে মোবিলাইজ করার পথ। সে পথে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।










