সম্প্রতি জানতে পারলাম শিয়ালদহ আদালতে নির্যাতিতার মায়ের সাক্ষ্য আপনারা প্রয়োজনীয় মনে করেন নি। আপনারা দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা। আপনাদের বুদ্ধি আমাদের থেকে বেশি। এসবের পরেও একটা কিন্তু থেকে যায়। কিন্তুটা হলো আপনাদের নিরপেক্ষতা। পশ্চিমবঙ্গে আপনাদের যা পারফরমেন্স তাতে আপনাদের সেটিং স্বভাব বাঙ্গালী হাড়ে মজ্জায় বিশ্বাস করে। যখনই কোনো প্রভাবশালী আসে তখনই আপনাদের তদন্তের গতি বাঘের ডাক শোনা ঘোড়ার মতো মন্থর হয়ে যায়। প্রভাবশালীরা জামিন না পাওয়া পর্যন্ত কিছুতেই আপনাদের চার্জশিট তৈরি হয়না। জামিন পেয়ে গেলে কোনোদিনই আর চার্জশিট তৈরি করতে পারেন না। কয়েক পাতা বাংলা লেখার ইংরেজি অনুবাদ আপনারা করে উঠতে পারেননি বলে এক গরুচোর কদিন আগে জামিন পেয়ে গেলো।এর পরেও যদি কেউ সেটিং তত্ত্ব বিশ্বাস না করে তবে তার মাথায় যে গোলমাল আছে সেটা পরিষ্কার। সেগুলো তো গরু চুরি টাকা চুরি কয়লা চুরি চাকরি চুরির কেস। কিন্তু মশাই এটা বাঙালির ঘরের মেয়ের খুনের কেস। ওগুলোতে সেটিং করে পার পেয়ে গেছেন। এটায় পাবেন না। এটা ভুলে যাবেন না বুকের উপর কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে যে জাত আজও মাথা উঁচু করে দুনিয়াতে দাঁড়িয়ে আছে তার নাম বাঙ্গালী।
নির্যাতিতার মায়ের সাক্ষ আপনারা এড়িয়ে গেছেন। সেটার কারণ বাঙ্গালী কি মনে করছে সেটা শুনে নিন। কোনো এক রহস্যময় কারণে আপনারা নর্থ বেঙ্গল লবীকে ঘাঁটাতে চাইছেন না। নির্যাতিতার মা সকালে আত্মহত্যার ফোন পাওয়া থেকে শুরু করে টালা থানায় হেনস্থা, নির্যাতিতার দেহ ছিনতাই করে দ্রুত পুড়িয়ে দেয়া, আরো অনেক কিছুর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। ওনার সাক্ষ নিলে এমন কিছু নাম উঠে আসতো যেটা আপনাদের সেটিং করে বিশেষ কিছু লোকজনকে বাঁচানোর চেষ্টায় সমস্যা তৈরি করে দিতে পারতো। তাই আপনারা বুদ্ধি করে ওনার আদালতে সাক্ষ এড়িয়ে গেলেন। এতো বড় অভিযোগ বাঙ্গালী কেনো করছে সেটাও শুনে নিন। ঘটনার দিন মিডিয়ার সামনে নির্যাতিতার মা বলেছিলেন, ওনাদের যখন দীর্ঘ তিনঘন্টা আটকে রাখার পর ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় তখন উনি দেখেন লাল জামা/গেঞ্জি পরা একটি লোক ওখানে কিছু খুঁজছে। উনি তখন চিৎকার করে ওই সন্দেহজনক লাল জামাকে ধরতে বলেন।
এই লাল জামা পরা লোক ওখানে কে ছিলো সেটা আমরা সবাই জেনে গেছি। তার নাম অভিক দে। একেই ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ফিঙ্গার প্রিন্ট এক্সপার্ট বলে প্রেস কনফারেন্স করেছিলো। কলকাতা পুলিশ কেনো অভিক দে কে বাঁচাবার চেষ্টা করেছে সেটা আমরা সবাই জানি। অভিক নর্থ বেঙ্গল লবির মাথা। পুলিশ যে এই নেতাকে বাঁচানোর জন্য লড়বে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
কিন্তু আপনারা?
আপনারা কেনো লাল জামার প্রসঙ্গ চলে আসবে বলে নির্যাতিতার মায়ের সাক্ষ বাদ দিয়ে দিলেন। বাঙ্গালী প্রশ্ন করছে। উত্তর দেবার দায় আপনাদের। আপনারাই উত্তর দেবেন নির্যাতিতার মায়ের সাক্ষ বাদ দিয়ে কিভাবে আপনারা অপরাধের তদন্ত করছেন।হতেই পারে আপনারা সুপার ম্যান। আপনাদের তদন্তে নির্যাতিতার মায়ের সাক্ষ মূল্যহীন। তবে উত্তর না দিলে বাঙ্গালী কিন্তু আপনাদের ছাড়বে না। যতদিন না আমরা জানতে পারবো, সেই রাতে আমাদের মেয়ের সঙ্গে ঠিক কি হয়েছিল, আর কারা তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে, ততদিন আমরা রাজপথেই থাকবো। আরেকবার আপনাদের মনে করিয়ে দি, আপনারা যে মাইনে পান সেটা ভারতীয় নাগরিকের দেয়া ট্যাক্সের টাকাতেই। আর সেই ট্যাক্সের টাকার মধ্যে নির্যাতিতার বাবা মায়ের দেয়া ট্যাক্সের টাকাও আছে। যাদের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের গ্রাসাচ্ছাদন চলে তাদের ন্যায় বিচার দেয়া আপনাদের দায়। আমরা এখনো আপনাদের ওপর ভরসা রাখছি। এখনো মানুষের অনাস্থা আপনাদের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে। আবারও সাবধান করছি, এমন কিছু করবেন না যাতে মানুষকে ভাবতে বসতে হয়, সিবিআই এর মতো কোনো সংস্থার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা। আপনারা রবি ঠাকুরের নোবেল চুরি থেকে আর জি কর তদন্ত পর্যন্ত যা পারফরমেন্স দেখিয়ে চলেছেন, তাতে আপনাদের থাকার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা সেটা মানুষের ভাবা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
(চলবে)











