অনেকদিন কিছু লিখিনা। লিখে কী হবে? এত আন্দোলন করে, লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেও কিছু হলো না, আর লিখে হবে? আজ আবার লিখতে ইচ্ছে করলো।
ছোটো বেলায় শিখেছিলাম কলম তরোয়ালের চেয়ে ধারালো। ভুল শিখেছিলাম। অনেক কিছুই ভুল শিখেছিলাম। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। সত্যিটা হলো লোভে পাপ, পাপের টাকায় পাঁচতলা বাড়ি।
স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে। সত্যিটা হলো টাকা পয়সার জোরে রাজা বিদেশে গিয়েও পুজো টুজো সবই পাবেন। আর যতই বিদ্বান হোন পুজোতো অনেক দূরের ব্যপার, দু চার লাখ টাকা ঘুষ না দিলে এম বি বি এস পাশ করাও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।
কলকাতা শহরে প্রথম সারির একটা হাসপাতালে একজন মহিলা চিকিৎসক কর্মরত অবস্থায় ধর্ষিতা ও খুন হলেন। প্রশাসনের যা করা উচিৎ ছিলো, প্রশাসন ঠিক তার উল্টোটা করেছে। অপরাধীদের আড়াল করার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের নানা ভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে।
সেই ঘটনার চার মাস পর কিছু বোকা ছেলে মেয়ে রাত জেগে গানে স্লোগানে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। রাত একটা বাজে। মঞ্চের পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে বড়ো বড়ো ট্রাক। মঞ্চ কেঁপে উঠছে। শীতের উত্তুরে হাওয়া হু হু করে আসছে। তার মধ্যে খালি গলার স্লোগান তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। আর এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে এতো অর্থ, এতো লোভ, এতো সুখ, এতো ভোগ সব মিথ্যা। এসবের জন্য আমাদের জন্ম হয়নি। আরও বড় কোনো উদ্দেশ্যের জন্য, আরও গভীর কোনো ভালোবাসার জন্য আমাদের বেঁচে থাকা।
আমি তুচ্ছ মানুষ। এ জীবনে বেঁচে থাকার মানে হয়তো খুঁজে পাব না। কিন্তু খুঁজে যাব। এটুকু জানি সেই ভালোবাসা খুঁজে পেলে রাস্তার ধূলোতেই খুঁজে পাব, রাজপ্রাসাদে না।
তাই রাস্তায় নেমে প্রাণপণে আমার বোনের বিচার চেয়ে যাব। ফলাফল কী হবে জানি না। তবে ভবিষ্যতে নিজেদের বলতে পারব, আমরা চেষ্টা করেছিলাম। আমরা জীবনকে ভালোবেসেছিলাম।
তাই স্লোগানে স্লোগানে রাত জাগব।
যতদিন না বিচার পাব
শাসক তোমায় জ্বালিয়ে খাব।









