
ঊর্মিমুখর: একাদশ পরিচ্ছেদ
জ্যেষ্ঠভ্রাতার শেষকৃত্যের অব্যবহিত পরেই কুমার হর্ষবর্ধন ভগিনীকে উদ্ধারার্থ বিন্ধ্যাচলের জঙ্গলাকীর্ণ পার্বত্য প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন, স্বীয় রাজ্যাভিষেকের জন্য অপেক্ষা করিলেন না। যাত্রার পূর্বে গভীর রাত্রে

জ্যেষ্ঠভ্রাতার শেষকৃত্যের অব্যবহিত পরেই কুমার হর্ষবর্ধন ভগিনীকে উদ্ধারার্থ বিন্ধ্যাচলের জঙ্গলাকীর্ণ পার্বত্য প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন, স্বীয় রাজ্যাভিষেকের জন্য অপেক্ষা করিলেন না। যাত্রার পূর্বে গভীর রাত্রে

দেবগুপ্তের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই অনিয়ন্ত্রিত মালবসেনা বনমধ্যে ছত্রভঙ্গ হইয়া গেল। কতিপয় সেনানী পুষ্যভূতি সৈন্যদলের সহিত সম্মুখসমরে প্রাণত্যাগ করিল, অন্যরা দুর্গম পার্বত্য পথে পলায়ন করিল। মালব

জ্যেষ্ঠভ্রাতা মহারাজ রাজ্যবর্ধন যখন তাঁহার উপর সাম্রাজ্যের শাসনভার সমর্পণ করিয়া দুরাচারী দেবগুপ্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গমন করিলেন, সপ্তদশবর্ষীয় কুমার হর্ষবর্ধন প্রাথমিকভাবে কিছুকাল মুহ্যমান হইয়া রহিলেন। পিতামাতার

হূণ যোদ্ধাদিগকে পরাজিত করিয়া সিন্ধুনদের পশ্চিমতীরে সফলভাবে প্রেরণ করিবার পরে পুষ্যভূতি ও মৌখরীবাহিনী স্ব-স্ব রাজ্যে প্রত্যাগমন করিতেছিল। কামরূপরাজ ভাস্করবর্মা তাঁহার মিত্র রাজ্যবর্ধনের সঙ্গে একত্রে ফিরিলেও

স্থানীশ্বর হইতে অশ্বপৃষ্ঠে উত্তরাপথ বাহিয়া পঞ্চনদের তীরবর্তী অঞ্চলে পৌঁছাইতে পুষ্যভূতি ভ্রাতৃদ্বয়ের অনধিক এক সপ্তাহকাল লাগিল। সমতল ঊর্বর হরিৎক্ষেত্র অতিক্রম করিয়া আরও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর

রাজা রাজ্যবর্ধনের সসৈন্য পঞ্চনদ প্রদেশে যুদ্ধযাত্রার কিছুকাল পরের কথা। দীপান্বিতা একটি সদ্যপ্রসূতি প্রতিবেশিনীর পরিবারের আহ্বানে তাহাদের গৃহে গমন করিয়াছিল। নারী মাতৃদুগ্ধের স্বল্পতায় কাতর হইয়াছিল, সদ্যোজাতও

রক্তমৃত্তিকা মহাবিহারে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরে ন্যূনাধিক দুই মাস অতিক্রান্ত হইয়াছে। উজ্জয়িনীর রাজপ্রাসাদে মধ্যরাত্রির কিছু পরে রাজার গুপ্ত মন্ত্রণাকক্ষে মালবরাজ দেবগুপ্ত এবং গৌড়নরেশ শশাঙ্কদেবের মধ্যে রুদ্ধদ্বার

সেই সন্ধ্যায় মন্ত্রীবর্গ, অমাত্য ও সেনানায়কদিগের উপস্থিতিতে এক দীর্ঘ মন্ত্রণাসভার অবসানে স্থির হইল যে আগামীকল্য প্রত্যুষে রাজা রাজ্যবর্ধন তাঁহার সাম্রাজ্যের উত্তরে পঞ্চনদ অভিমুখে যাত্রা করিবেন।

স্থানীশ্বর নগরীর দক্ষিণ উপান্তে একটি সাধারণ গৃহ। রাজ্যাভিষেকের আড়ম্বর হইতে অনতিদূরে অবস্থিত হইলেও সেই সাধারণ গৃহটিতে নগরীর বৈভব বা কোলাহলের কোনও প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না।

অদ্য পুষ্যভূতি রাজবংশের নবীন নৃপতি রাজ্যবর্ধনের রাজ্যাভিষেক। সরস্বতী নদীতীরবর্তী সমগ্র স্থানীশ্বর নগরী অপূর্বরূপে সজ্জিত হইয়া স্বর্গের নন্দনকাননতুল্য দর্শনীয় হইয়াছে। প্রতি গৃহস্থের কুটিরের প্রাঙ্গণে দীপাবলী, গৃহচূড়ে

লোহিতবর্ণের প্রস্তরনির্মিত সুদৃশ্য প্রাসাদের দ্বিতীয় তলের একটি কক্ষে, গবাক্ষের সম্মুখে দাঁড়াইয়া যুবরাজ রাজ্যবর্ধন পশ্চিমদিকে চাহিয়া ছিলেন। সূর্যাস্তের বিলম্ব নাই। দিনমণির তেজোদীপ্ত গৈরিক রশ্মি ধীরে ধীরে

যোধপুরের সার্কিট হাউসের সন্ধেরাতে লাল মেরজাই পরা অচেনা লোককে দূরে পালিয়ে যেতে দেখে গম্ভীর মুখে ফেলুদা বলেছিল –“নিশ্চিন্ত আর থাকা গেল না রে তোপসে।” যখন

জ্যেষ্ঠভ্রাতার শেষকৃত্যের অব্যবহিত পরেই কুমার হর্ষবর্ধন ভগিনীকে উদ্ধারার্থ বিন্ধ্যাচলের জঙ্গলাকীর্ণ পার্বত্য প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন, স্বীয় রাজ্যাভিষেকের জন্য অপেক্ষা করিলেন না। যাত্রার পূর্বে গভীর রাত্রে

দেবগুপ্তের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই অনিয়ন্ত্রিত মালবসেনা বনমধ্যে ছত্রভঙ্গ হইয়া গেল। কতিপয় সেনানী পুষ্যভূতি সৈন্যদলের সহিত সম্মুখসমরে প্রাণত্যাগ করিল, অন্যরা দুর্গম পার্বত্য পথে পলায়ন করিল। মালব

জ্যেষ্ঠভ্রাতা মহারাজ রাজ্যবর্ধন যখন তাঁহার উপর সাম্রাজ্যের শাসনভার সমর্পণ করিয়া দুরাচারী দেবগুপ্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গমন করিলেন, সপ্তদশবর্ষীয় কুমার হর্ষবর্ধন প্রাথমিকভাবে কিছুকাল মুহ্যমান হইয়া রহিলেন। পিতামাতার

হূণ যোদ্ধাদিগকে পরাজিত করিয়া সিন্ধুনদের পশ্চিমতীরে সফলভাবে প্রেরণ করিবার পরে পুষ্যভূতি ও মৌখরীবাহিনী স্ব-স্ব রাজ্যে প্রত্যাগমন করিতেছিল। কামরূপরাজ ভাস্করবর্মা তাঁহার মিত্র রাজ্যবর্ধনের সঙ্গে একত্রে ফিরিলেও

স্থানীশ্বর হইতে অশ্বপৃষ্ঠে উত্তরাপথ বাহিয়া পঞ্চনদের তীরবর্তী অঞ্চলে পৌঁছাইতে পুষ্যভূতি ভ্রাতৃদ্বয়ের অনধিক এক সপ্তাহকাল লাগিল। সমতল ঊর্বর হরিৎক্ষেত্র অতিক্রম করিয়া আরও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর

রাজা রাজ্যবর্ধনের সসৈন্য পঞ্চনদ প্রদেশে যুদ্ধযাত্রার কিছুকাল পরের কথা। দীপান্বিতা একটি সদ্যপ্রসূতি প্রতিবেশিনীর পরিবারের আহ্বানে তাহাদের গৃহে গমন করিয়াছিল। নারী মাতৃদুগ্ধের স্বল্পতায় কাতর হইয়াছিল, সদ্যোজাতও

রক্তমৃত্তিকা মহাবিহারে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরে ন্যূনাধিক দুই মাস অতিক্রান্ত হইয়াছে। উজ্জয়িনীর রাজপ্রাসাদে মধ্যরাত্রির কিছু পরে রাজার গুপ্ত মন্ত্রণাকক্ষে মালবরাজ দেবগুপ্ত এবং গৌড়নরেশ শশাঙ্কদেবের মধ্যে রুদ্ধদ্বার

সেই সন্ধ্যায় মন্ত্রীবর্গ, অমাত্য ও সেনানায়কদিগের উপস্থিতিতে এক দীর্ঘ মন্ত্রণাসভার অবসানে স্থির হইল যে আগামীকল্য প্রত্যুষে রাজা রাজ্যবর্ধন তাঁহার সাম্রাজ্যের উত্তরে পঞ্চনদ অভিমুখে যাত্রা করিবেন।

স্থানীশ্বর নগরীর দক্ষিণ উপান্তে একটি সাধারণ গৃহ। রাজ্যাভিষেকের আড়ম্বর হইতে অনতিদূরে অবস্থিত হইলেও সেই সাধারণ গৃহটিতে নগরীর বৈভব বা কোলাহলের কোনও প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না।

অদ্য পুষ্যভূতি রাজবংশের নবীন নৃপতি রাজ্যবর্ধনের রাজ্যাভিষেক। সরস্বতী নদীতীরবর্তী সমগ্র স্থানীশ্বর নগরী অপূর্বরূপে সজ্জিত হইয়া স্বর্গের নন্দনকাননতুল্য দর্শনীয় হইয়াছে। প্রতি গৃহস্থের কুটিরের প্রাঙ্গণে দীপাবলী, গৃহচূড়ে

লোহিতবর্ণের প্রস্তরনির্মিত সুদৃশ্য প্রাসাদের দ্বিতীয় তলের একটি কক্ষে, গবাক্ষের সম্মুখে দাঁড়াইয়া যুবরাজ রাজ্যবর্ধন পশ্চিমদিকে চাহিয়া ছিলেন। সূর্যাস্তের বিলম্ব নাই। দিনমণির তেজোদীপ্ত গৈরিক রশ্মি ধীরে ধীরে

যোধপুরের সার্কিট হাউসের সন্ধেরাতে লাল মেরজাই পরা অচেনা লোককে দূরে পালিয়ে যেতে দেখে গম্ভীর মুখে ফেলুদা বলেছিল –“নিশ্চিন্ত আর থাকা গেল না রে তোপসে।” যখন







আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।
Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas
Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097
নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে